উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব উপকূল ঘেঁষে সমুদ্রের দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, রোববার (১৯ এপ্রিল) স্থানীয় সময় ভোর ৬টার দিকে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় শহর সিনপো থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়া নজরদারি জোরদার করেছে এবং প্রাপ্ত তথ্য যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে শেয়ার করেছে।
জাপান সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলসংলগ্ন সাগরে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক আহ্বানের কথা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে পিয়ংইয়ং সম্প্রতি ঘনঘন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে; এটি তারই সর্বশেষ উদাহরণ।
চলতি বছরে এ নিয়ে সাত দফা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া; এর মধ্যে এপ্রিল মাসেই চারটি পরীক্ষা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়ুংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে, আর এটিকে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক শক্তি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা উন্নয়নের একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে।”
রয়টার্স জানায়, এ ধরনের পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত প্রস্তাবের লঙ্ঘন। তবে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে পিয়ংইয়ং বরাবরই বলে আসছে, এসব প্রস্তাব তাদের আত্মরক্ষার সার্বভৌম অধিকারকে খর্ব করে।
উত্তর কোরিয়া এমন সময়ে এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল, যখন চীন ও যুক্তরাষ্ট্র মে মাসে এক সম্মেলনে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্তর কোরিয়া ইস্যু নিয়েও আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি বুধবার বলেছেন, উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং ‘সম্ভবত’ একটি নতুন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র চালু করেছে।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন গত মার্চের শেষ দিকে বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে পিয়ংইয়ংয়ের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
তার ভাষ্য, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ‘আত্মরক্ষামূলক পারমাণবিক প্রতিরোধ’ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।