ইরানের হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের আশ্রয় দিলেই সেই হোটেলগুলোকে হামলার নিশানা করা হবে। উপসাগরীয় দেশ বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের হোটেল মালিকদেরকে এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
হামলার লক্ষ্যবস্তু ঘোষণা
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা হোটেলে আশ্রয় পেলে সেই হোটেলগুলো হামলার বৈধ সামরিক নিশানা হবে বলে ইরান সতর্ক করে দিয়েছে। ইরানের আধা সরকারি ফারস বার্তা সংস্থা এ খবর জানিয়েছে।
সেনাঘাঁটি ছেড়ে হোটেলে আশ্রয়
খবরে বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের হামলার মুখে সেখান থেকে সরে গিয়ে অস্থায়ী শিবির এবং বিভিন্ন হোটেলে আশ্রয় নিয়েছে মার্কিন সেনারা।
যেখানেই আশ্রয়, সেখানেই হামলা
তারা যেখানেই আশ্রয় নেবে সেইসব স্থানই হামলার নিশানা হবে এবং এমন কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে হামলা চালানো হবে বলেও ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
বেসামরিক এলাকাতেও উপস্থিতি
ফারস বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন বেসামরিক এলাকাতে আশ্রয় নিয়েছে।
যেসব স্থানে সেনা উপস্থিতির দাবি
বৈরুতের পুরোনো বিমানবন্দরের কাছে একটি লজিস্টিক ঘাঁটিতে, দামেস্কের রিপাবলিক প্যালেস, ফোর সিজনস হোটেল এবং রিসোর্ট এবং শেরাটন হোটেলগুলোতেও মার্কিন সেনারা উপস্থিত রয়েছে।
সেনা চলাচলের তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ সেনারা এ সপ্তাহে ইস্তাম্বুল এবং সোফিয়া হয়ে জিবুতি ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরে চলে গেছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন
‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি সেনাঘাঁটি গুঁড়িয়ে গেছে। সেই সব ঘাঁটি ছেড়ে সেনাদেরকে অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
হুঁশিয়ারির সময়কাল
সেই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই সেনাদেরকে হামলার নিশানা করার হুঁশিয়ারি দিল ইরান।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ
এর আগে বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি অভিযোগ করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর নাগরিকদের ‘মানব ঢাল’ হিসাবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে মার্কিন সেনারা।
হোটেল বুকিং না দেওয়ার আহ্বান
তাই সেনাঘাঁটি ছেড়ে তারা এখন হোটেলসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থান এবং সরকারি দপ্তরেও আশ্রয় নিচ্ছে। আরাকচি ওই অঞ্চলের দেশের হোটেলগুলোকে মার্কিন সেনাদের জন্য বুকিং না দেওয়ার আহ্বান জানান।
পর্যটন খাতে উদ্বেগ
ইরানের হুঁশিয়ারির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন খাতে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দুবাই, কাতার বা সৌদি আরবের মতো দেশগুলোতে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের একটি বড় অংশই বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি
ইরানের মার্কিন সেনাদের নিশানা করার হুঁশিয়ারির ফলে সাধারণ পর্যটকদের নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
-
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের কারণ জানাল যুক্তরাষ্ট্র
-
যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতায় তিন দেশ, আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ?
-
৪০০০ কিমি দূরের মার্কিন ঘাঁটি নিশানা: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন হিসাব
-
আল-আকসায় ঈদের নামাজ হয়নি—ছয় দশকের মধ্যে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি
-
ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার জবাবে চার দেশের ৭ জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা : ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান
আরও পড়ুন: