‘ডিপ স্টেট’ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ওই সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তবে অন্তর্বর্তী সরকার এই প্রস্তাবে সায় দেয়নি বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। ‘রক্তে ভেজা স্বাধীনতা থেকে সংস্কার ও গণভোট: বাস্তবায়নের রাজনৈতিক কর্তব্য’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটি।
সভায় আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা যখন সরকারের দায়িত্বে ছিলাম, শুরুর দিকে আমাদেরকে বিভিন্ন শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন, শক্তিশালী যাদেরকে আসলে “ডিপ স্টেট” বলা হয়, তাদের থেকে আমাদেরকে অফার করা হয়েছিল যে আপনারা শেখ হাসিনার যে মেয়াদ আছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত, সেটা শেষ করেন। আপনারা শেষ করেন, আমরা আপনাদেরকে সহযোগিতা করি।’
‘ডিপ স্টেট’ (Deep State) বলতে বোঝায়—রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক নির্বাচিত সরকার বা রাজনৈতিক নেতৃত্বের বাইরে এমন এক শক্তিশালী গোপন বা আধা-গোপন প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক, যারা পর্দার আড়াল থেকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘ডিপ স্টেট’ এর মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে বলে বিভিন্ন সময় আলোচিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ক্ষমতা পরিবর্তনের পেছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকা রেখেছে বলে আলোচিত হচ্ছে। এই অবস্থায় ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া একজন ব্যক্তির এই স্বীকারোক্তি নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘তাদের (ডিপ স্টেট) সার্টেইন কিছু শর্ত ছিল যে তাদেরকে কিছু কিছু জায়গায় ফ্যাসিলিটেটেড করা এবং তারা পুরা রোডম্যাপও করে নিয়ে আসছিল যে বিএনপির নেতাদের তো সাজা আছে। তো সাজা থাকলে সাধারণভাবে নির্বাচন দিলেও তারা নির্বাচন করতে পারবে না। তো তাদের সাজাগুলো ইয়ে না করে আদালতের মাধ্যমে এগুলো লেংদি (দীর্ঘায়িত) করে আপনারা তো জানেন সেটা কীভাবে করা যায়। আদালতের ডেট ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে...তারেক রহমানের নিজের নামেও সাজা ছিল। সে যদি সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় থাকত, নির্বাচন হলেও তিনি বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারতেন না।’
কীভাবে ক্ষমতায় থাকা যায়, সেই কৌশল সাজিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘তাদের সাথে একধরনের নেগোসিয়েশন, সমঝোতার ভিত্তিতে। আমরা কিন্তু সেটাতে সায় দেইনি। আমরা সব সময় গণতন্ত্রকেই সামনে রেখেছি এবং সেটার প্রতি কমিটমেন্ট লাস্ট সরকারের ছিল বলেই নির্বাচনটা হয়েছে এবং আমাদের ছিল বলেই আমরা ইভেন নির্বাচনকে, নির্বাচন যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে জন্য নিজেরা আগবাড়িয়ে পদত্যাগ করে চলে এসেছি।’
আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি বিএনপি সরকারের মন্ত্রী হিসেবে আছেন। সুতরাং এটা বোঝা যায় যে তারা এই নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে’ (সবার জন্য সমান সুযোগ) আসলে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যাদেরকে তারা (বিএনপি সরকার) এখন পুরস্কৃত করল, তাদেরকে ব্যবহার করেছে।
বিএনপি সরকারের উদ্দেশে এনসিপি মুখপাত্র বলেন, ‘আপনারা ক্ষমতায় আসার পরেই এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপট যে কারণে তৈরি হলো জুলাই এবং জুলাই সনদ সেটাকেই একধরনের ভায়োলেট (লঙ্ঘন) করা শুরু করলেন এবং সেটাকে চ্যালেঞ্জ করা শুরু করলেন এবং আপনারা ভুলে গেলেন যে আসলে বিগত সময়ে যারাই এই ধরনের গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তাদের কী পরিণত হয়েছে।’
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম প্রমুখ।
-
‘মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান নেই’ বক্তব্য রাখায় বের করে দেওয়া হলো অনুষ্ঠান থেকে
-
সন্তানকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তেলের লাইনে সাড়ে চার ঘণ্টা
-
পদ্মায় বাস দুর্ঘটনা: উদ্ধার অভিযানে ২৬ মরদেহ
-
২৫ মার্চ কালরাত স্মরণে ‘ব্ল্যাক আউট’ হয়নি, ছিল না কোন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি
-
৫০ জন যাত্রী নিয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে বাস