মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কোনও সমঝোতা হবে কি না অথবা সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে—তা আগামী ১০ দিনের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। ওয়াশিংটনে নবগঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, আমাদের একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে, অন্যথায় ভয়াবহ কিছু ঘটবে।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। একই সময়ে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ট্রাম্প জানান, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘খুব ভালো কিছু বৈঠক’ করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে অর্থবহ সমঝোতা করা সহজ কাজ নয়। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে খারাপ কিছু ঘটতে পারে।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটও ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো তেহরানের জন্য ‘বুদ্ধিমানের কাজ’ হবে। তিনি জানান, ট্রাম্প এখনো কূটনৈতিক সমাধানের আশাই করছেন।
গত বছরের জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালানো হয়েছিল। হোয়াইট হাউজ বর্তমানে নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোতায়েনসহ সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরানও তাদের সামরিক স্থাপনাগুলো আরও শক্তিশালী করছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন বাহিনীকে হুমকি দিয়ে লিখেছেন, আমেরিকার রণতরি বিপজ্জনক ঠিকই, কিন্তু তার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র, যা ওই রণতরিকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে দিতে পারে।
বিনা অনুমতিতে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনও সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট রো খান্না এবং কেনটাকির রিপাবলিকান থমাস ম্যাসি ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ ব্যবহার করে আগামী সপ্তাহে কংগ্রেসে ভোটাভুটির উদ্যোগ নেবেন।
রো খান্না বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ হলে তা বিপর্যয় ডেকে আনবে। প্রায় ৯০ মিলিয়ন মানুষের এই দেশটির শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে এই প্রস্তাব পাস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এর আগে জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে একই ধরনের একটি প্রস্তাব রিপাবলিকানরা আটকে দিয়েছিল।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার জন্য ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি যুক্তরাজ্য সরকার। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড এবং ভারত মহাসাগরের ব্রিটিশ দ্বীপ ডিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহার করেছিল।