ঢাকা ১৪ চৈত্র ১৪৩২, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
ঢাকা ১৪ চৈত্র ১৪৩২, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

শরীয়তপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, কীভাবে দেওয়া হলো?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

শরীয়তপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, কীভাবে দেওয়া হলো?
শরীয়তপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে

শরীয়তপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের একটি অংশে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী-সমর্থকেরা রাতের আঁধারে এ কাজ করেছেন বলে দাবি করেছেন জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসিন মাদবর। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে এ ঘটনার দৃশ্য দেখা যায়।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাত ৯টার দিকে শহরের শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ছুটে যান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় যুব শক্তির নেতা-কর্মীরা। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদস্য ও সদর পালং মডেল থানার কর্মকর্তারা।

ফেসবুকে পোস্ট করা ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, দুই-তিনজন ব্যক্তি স্মৃতিস্তম্ভে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছেন এবং মুহূর্তেই আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। পোস্টে মহসিন মাদবর দাবি করেন, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা, পালং মডেল থানার পুলিশ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপির যুব শক্তির নেতা-কর্মীরা সেখানে জড়ো হয়েছেন। স্মৃতিস্তম্ভের মাঝামাঝি অংশে চারদিকে আগুনে পোড়া দাগ স্পষ্ট দেখা গেছে। হালকা কমলা রঙের এই স্মৃতিস্তম্ভটির গায়ে ‘জুলাই ৩৬’ ও ‘জুলাই বিপ্লব’-সংক্রান্ত বিভিন্ন স্লোগান লেখা রয়েছে। মাঝ বরাবর চারটি স্থানে পোড়া কালো দাগ লক্ষ্য করা গেছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় যুব শক্তির নেতারা জানান, জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে স্থানীয় প্রশাসন এই জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে। রাতে আগুন লাগানোর ফলে স্মৃতিস্তম্ভটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির বলেন, ‘একটি ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকায় স্থাপিত এই স্মৃতিস্তম্ভে কীভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আগুন দিল, তা আমাদের বোধগম্য নয়। নিশ্চয়ই তাদের কেউ সহায়তা করেছে। প্রশাসনের নীরবতার কারণেই তারা এমন সাহস পেয়েছে।’

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, ২৮ মার্চ ২০২৬