নির্বাচনে জয় পাওয়া বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে শপথ অনুষ্ঠান শুরুর আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
হাতে একটি ফর্ম তুলে ধরে তিনি বলেন,
“সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেওয়াবেন, সেটা বিধান করতে হবে এবং কোনো এরকম ফর্ম—এটা সংবিধানে নেই।
“এই ফর্মটি তৃতীয় তফসিলে আছে, সাদাটা। এই রকম তখন একটা ফর্ম সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে আসবে। সেগুলো সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সংসদে গৃহীত হওয়ার পরে তখন জাতীয় সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান করা যাবে বিধায় আমরা এখন সাংবিধানিকভাবে এই পর্যন্ত আমরা এসেছি।”
তিনি জানান, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বিএনপি সংবিধানের পথেই চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে।
পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।
শপথ অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের ডান পাশে ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং বাম পাশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সামনের সারিতে বাম দিক থেকে উপস্থিত ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়; এরপর খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মাঝখানে তারেক রহমান, তার পাশে মির্জা ফখরুল ইসলাম, তারপর মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং সর্বডানে আন্দালিভ রহমান পার্থ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সঙ্গে তারা বলেন,
“সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইয়া সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ করিতেছি যে, আমি যে কর্তব্যভার গ্রহণ করিতে যাইতেছি, তাহা আইন-অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব; আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব এবং সংসদ-সদস্যরূপে আমার কর্তব্য পালনকে ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হইতে দিব না।”
এরপর প্রত্যেকে শপথপত্রে নিজের আসনের নাম লিখে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংসদ সচিব কানিজ মওলা।
এর আগে সোমবার সংসদ সচিবালয় জানিয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা প্রথমে এমপি হিসেবে শপথ নেবেন, এরপর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ গ্রহণ করবেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে আয়োজিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ায় জুলাই সনদে থাকা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের দায়িত্ব পড়বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ওপর।
তবে বিএনপির বক্তব্য, বিষয়টি জাতীয় সংসদে পাস হয়ে বিধান আকারে এলে তবেই তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবেন।
ষড়যন্ত্র নস্যাৎ
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ না নেওয়ায় একটি ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে বলে অনেকে মত দিয়েছেন। তাদের মতে, এর মাধ্যমে বিএনপি একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ দেখিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সংবিধান আপাতত সুরক্ষিত থাকল।
সাংবাদিক নেতা কুদ্দুস আফ্রাদ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ভাঙচুরের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ : সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি বিএনপি’।
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপির নির্বাচিতরা
নির্বাচনে জয়ী নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
প্রথমে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। পরে ধারাবাহিকভাবে অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা শপথ নেবেন।
দেশের আইনসভার সদস্যরা সাধারণত আগের সংসদের স্পিকারের কাছ থেকে শপথ নেন। তবে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রকাশ্যে নেই এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু হত্যা মামলায় কারাগারে থাকায় এবার নতুন এমপিরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছ থেকেই শপথ নেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের সদস্য হিসেবে ২৯৭ জনের এদিন শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
হবু প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ তার দলের সদস্যরা প্রথম ধাপে শপথ গ্রহণ করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সঙ্গে তারা বলেন,
“সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইয়া সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ করিতেছি যে, আমি যে কর্তব্যভার গ্রহণ করিতে যাইতেছি, তাহা আইন-অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব; আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব এবং সংসদ-সদস্যরূপে আমার কর্তব্য পালনকে ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হইতে দিব না।”
এরপর সবাই শপথপত্রে নিজেদের আসনের নাম লিখে সই করেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিব কানিজ মওলা।