ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে ২৯৭ আসনের বিজয়ীদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে, সেই সব নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এ এম এম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন কমিশন ফল অনুমোদন দেওয়ার পর ইসি সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার রাতে এ গেজেট জারি করেন।
এখন নির্বাচিতদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের আয়োজন করা হবে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সবার শপথ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রেস সচিব বলেন, বিজয়ীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এটি অনুষ্ঠিত হতে পারে; এর বেশি দেরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট হয় ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল গোনা হলেও আদালতের নির্দেশনা থাকায় ফল ঘোষণা করা হয়নি। আর শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে নতুন তফসিলে ভোট হবে।
নতুন সাংসদদের শপথ অনুষ্ঠান সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবনে পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামোগত সংস্কারের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর মেরামতও করা হয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, শপথের আনুষ্ঠানিকতা, প্রটোকল, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দপ্তর কাজ করছে। স্পিকার ও রাষ্ট্রপতির অফিসকক্ষ, সরকারি ও বিরোধীদলের সভাকক্ষ, অধিবেশন কক্ষ ও শপথ কক্ষ ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে।
২৯৭ আসনের ফল-
বিএনপি ২০৯
জামায়াতে ইসলামী ৬৮
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১
গণঅধিকার পরিষদ ১
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১
গণসংহতি আন্দোলন ১
খেলাফত মজলিস ১
স্বতন্ত্র ৭
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সম্প্রতি বলেছেন, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতির কারণে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন ‘রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি’। তিনি এও বলেন, নির্বাচিত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে কেউ শপথ না পড়ালে সেক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ শুক্রবার বলেন, “১৪৮ এর ৩ ধারায় বলা হয়েছে, স্পিকার অথবা ডেপুটি স্পিকার যদি না পড়ান বা তারা পড়াতে অসমর্থ হন বা না থাকেন, তাহলে তিন দিন পরেও চতুর্থ দিন থেকে পরবর্তী দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পাঠ করাবেন।”
তিনি বলেন, “সামনে রোজা থাকায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইসির কাজ গেজেট প্রকাশ করা। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সরকার। দ্রুত শপথ করে রমজানের আগেই চাইলে সরকার গঠন করতে পারে।”
ইসি সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার জানান, যে ২৯৭ আসনে ফল ঘোষণা করা হয়েছে, সেই সব আসনে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ। আর গণভোটে ভোটের হার ৬০.২৬ শতাংশ (২৯৯ আসনের)।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা শুক্রবার বলেন, “আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে, এটা আমাদের সাধারণ দায়িত্ব।
“শপথের তারিখ নির্ধারণ সংসদ সচিবালয়ের বিষয় নয়; আমরা প্রস্তুত। যেদিন বলা হবে, সেদিনই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারব।”
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮(২ক) অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নিতে হয়।
-
নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন তারেক রহমান
-
২০ বছর পর ফিরছে বিএনপি, নির্বাসন থেকে ক্ষমতার চূড়ায় তারেক রহমান
-
নির্বাচনের ছুটিতে রাজধানী প্রায় ফাঁকা
-
শিক্ষানুরাগী, সংগঠক ও শালিস ব্যক্তিত্ব আজিজুর রহমান (সেক্রেটারি)-র ইন্তেকাল
-
ড. ইউনূসের সম্পদ বেড়েছে, দেড় বছর পর সম্পদের হিসাব দিলেন উপদেষ্টারা