ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
সর্বশেষ
আলোচিত মহিষ 'ডোনাল্ড ট্রাম্প' — গবেষণার জন্য ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন বাবা দিবসে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিলেন অভিনেতা তাওশিফ মাহবুব মাজারে কড়াকড়ির পরই প্রত্যাহার সিলেট ডিসি সারওয়ার আলম, প্রবাসী অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া পদত্যাগ করছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী? লন্ডনে হাসনা‌ত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা, জবাব দিলেন থানায় হাজির হয়ে কাগজের বিআরপি কার্ডের মেয়াদ বাড়াল যুক্তরাজ্য, ই-ভিসার নতুন সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর কেয়ার ও স্কিলড ওয়ার্কারদের সুখবর : প্রতি মাসের বেতন প্রতি মাসেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার নতুন নিয়ম ব্রিটেনে হিট হেলথ অ্যালার্ট : পোষা প্রাণী ও বাগানের যত্নে যা মাথায় রাখবেন ব্রিটেনে হিট হেলথ অ্যালার্ট, প্রতিবেশীর খোঁজ নিন, নিরাপদ থাকুন সিলেটে মাজারে মদ-গাঁজার আসর বন্ধে কঠোর নির্দেশ ডিসি সারওয়ারের যুক্তরাজ্যে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপপ্রবাহের আশঙ্কা, জারি অ্যাম্বার সতর্কতা সংযুক্ত আরব আমিরাতে শিয়া মুসলিম হওয়ায় চাকরিচ্যুত হচ্ছেন প্রবাসীরা, জব্দ হচ্ছে ব্যাংক হিসাব বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহাম কাউন্সিলের ১২০ কোটি পাউন্ড ঋণ, উন্নয়ন প্রকল্পেই ক্ষতি ১ কোটি পাউন্ড সিলেটে হামে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ২৬১, মোট মৃত্যু ৭২ সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১% বেড়েছে: কীভাবে বাড়ল, এখন কারা জমাচ্ছে? রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল নেতা হত্যা : প্রকাশ্যে অস্ত্রধারীরাও ধরা পড়ছে না গোল্ডেন ভিসা পেলেও চাকরি ছাড়তে হবে না, জানাল ইউএই ইউএইতে ১৫ বছরের নিচে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ বাংলাদেশিসহ বিদেশি কর্মীদের জন্য সৌদির নতুন ভিসা কড়াকড়ি রোনালদো কি পর্তুগালের বোঝা হয়ে উঠছেন? গণমাধ্যম ও বিনোদনে অভিবাসনপন্থী প্রচারে কোটি পাউন্ড ব্যয়, দাবি টেলিগ্রাফের ‘আজকে সংসদ নাই? সংসদে যান’- সিলেটে পৌঁছে এমপিদের বললেন প্রধানমন্ত্রী রোনালদোর যে দুই রেকর্ড ভাঙলেন মেসি নেইমার ফিরলেন অনুশীলনে: ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তির হাওয়া মেসির জাদুকরী হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার উড়ন্ত শুরু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা: দুই বছর পর জাবির ১২ শিক্ষককে শাস্তি দিল্লি বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন ডা. জাহেদ উর রহমান ইরান-মার্কিন শান্তি চুক্তি নিয়ে অস্বস্তিতে ইসরায়েল, ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে টানাপোড়েন ব্রাজিলের দুঃসংবাদ: গ্রুপ পর্বে খেলতে পারছেন না নেইমার, অনিশ্চয়তা বাড়ছে বিশ্বকাপ ঘিরেও

যুদ্ধাপরাধের বিচারকে ইসলামবিদ্বেষী বলা ‘ভয়ংকর মিথ্যাচার’: আনু মুহাম্মদ

প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৫, ০৯:৩৬ পিএম

যুদ্ধাপরাধের বিচারকে ইসলামবিদ্বেষী বলা ‘ভয়ংকর মিথ্যাচার’: আনু মুহাম্মদ

যুদ্ধাপরাধের বিচারকে ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে চিত্রিত করাটা ‘ভয়ংকর মিথ্যাচার’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ও গবেষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

তিনি বলেছেন, “এটা ভয়ংকর মিথ্যাচার। ১৯৭১ সালে শহীদ হওয়া মানুষের অধিকাংশই ছিলেন ধার্মিক মুসলমান। সুতরাং তাদের হত্যাকারীদের বিচারকে ইসলামবিরোধী বলা মানে ইসলামেরই অবমাননা করা।

“যুদ্ধাপরাধবিরোধী আলাপকে যারা ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে চিত্রিত করেন, তারা ভয়ংকর অপরাধী। যারা ইতিহাস বিকৃত করছে, বৈষম্য–নিপীড়নের রাজনীতি করছে, তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।”

শনিবার (৩১ মে ২০২৫) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘নাগরিক সংহতি সমাবেশে’ এসব কথা বলেন তিনি।

জামায়ত-শিবিরকে উদ্দেশ করে আনু মুহম্মদ বলেন, “তাদের বর্তমান তরুণ কর্মীদের অনেকেই একাত্তর সালে জন্মাননি। তারা যুদ্ধাপরাধ করেননি ঠিকই, কিন্তু তারা যদি সেই রাজনীতি ধারণ করেন, তবে সেই অপরাধের দায় থেকে তারাও মুক্ত থাকতে পারেন না।

“যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি যত দিন থাকবে, তত দিন গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে লড়াই চলবে। আর সেই লড়াই হবে বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশের পথচলার ভিত্তি।”

এ টি এম আজহারের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে আনু মুহাম্মদ বলেন, “তিনি ১৯৭১ সালে একটি যুদ্ধাপরাধী সংগঠনের নেতা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, তা দলিল-প্রমাণসহ ছিল। আদালত যদি কোনো ত্রুটির কারণে আগের রায় বাতিলও করে, তাহলেও যুদ্ধাপরাধের সত্যতা তো মুছে ফেলা যায় না। যে ব্যক্তি ইতিহাসের বিবেচনায় চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী, তাকে নির্দোষ ঘোষণার মাধ্যমে ইতিহাসকেই বিকৃত হয়েছে। এর মাধ্যমে একাত্তরে শহীদ, নির্যাতিত নারী ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।”

অন্তর্বর্তী সরকারকে নিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, “ধীরে ধীরে বাস্তবতা প্রত্যাশা ভঙ্গের জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। একদিকে সামাজিকভাবে বল প্রয়োগের শক্তি তৈরি হচ্ছে, যারা মিথ্যা, কুৎসা ও ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে নব্য ফ্যাসিবাদকে জানান দিচ্ছে। বিপরীতে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্লিপ্ততা দেখা যাচ্ছে সমাজে নানা বর্গের নিপীড়নের বাস্তবতায়। বিভিন্ন ধরনের বিভাজনের রাজনীতির পুরনো বন্দোবস্ত পুনঃস্থাপিত হচ্ছে।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষক বলেন, “অভ্যুত্থানের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেখানে জনগণ একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সরকারের ভূমিকা নির্লিপ্ত, কোথাও তাদের অস্তিত্ব আছে বলে মনে হয় না। বরং হামলা-নির্যাতনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি বাহিনীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “নারী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক, শিক্ষকসহ যেকোনো স্তরের মানুষ যখন নিজেদের অধিকার আদায়ে কথা বলেন, তখনই তাদের ওপর হামলা হয়। আর যারা হামলা করে, তারা রক্ষা পায়, কারণ সরকারের ভেতরেই তাদের মদদদাতা রয়েছে।

‘যুদ্ধাপরাধী এ টি এম আজহারুল ইসলামকে দায়মুক্তি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের মিছিলে জামায়াত-শিবিরের হামলার প্রতিবাদে’ গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট এ সমাবেশ আয়োজন করে।

সমাবেশে আইনজীবী মানজুর আল মতিন বলেন, “জুলাইয়ের ঐক্য কীভাবে ভাঙছে জামাত-শিবির, তা আজ দেখার বিষয়। জুলাইয়ে ছাত্রলীগের হাতে আহত হয়ে মাথায় পাঁচটি সেলাই নিয়ে বেঁচে যাওয়া শ্রীকান্তের মাথায় শিবিরের হামলায় ছয়টি সেলাই পড়েছে।”

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা রিতু, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা নিত্রা, সাবেক ছাত্রনেতা মতিন সরকার, শ্রমিক নেতা শামীম ইমাম, মানস নন্দী, বাংলাদেশ উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি সায়েদুল হক নিশান, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস চাকমা।