ঢাকা ৬ চৈত্র ১৪৩২, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
ঢাকা ৬ চৈত্র ১৪৩২, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ
দেড় বছর পর বাসায় ফিরতেই আওয়ামী লীগ নেতা হাসু গ্রেপ্তার গ্যাসক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি হামলা : বিশ্বজুড়ে লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম, ব্যয় বৃদ্ধির শঙ্কা সৌদি আরবে চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদ ২০ মার্চ : বাংলাদেশে কবে? ঈদের দিন সারা দেশে বৃষ্টির আশঙ্কা ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে পদত্যাগ করলেন মার্কিন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ইরান যুদ্ধ: আরব আমিরাতে নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও আছেন নেপালি, পাকিস্তানি ব্রাজিল স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেলেন নেইমার পুতিনের আমন্ত্রণে মস্কোয় চিকিৎসা নিচ্ছেন মোজতবা খামেনি বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন ও রকেট হামলা সিটি ও জেলা পরিষদ কি বিএনপি নেতাদের পুনর্বাসন কেন্দ্র? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়াবে না যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও গ্রিস আরব আমিরাতে বাংলাদেশিসহ ৩৫ জন গ্রেপ্তার শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলে ইরানের হামলা, দুবাই বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিত অস্কারে সেরা সিনেমা ডিক্যাপ্রিওর ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রকাশ্যে গুলি: কলেজছাত্রকে হত্যা ৪২ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রশাসক বসালো সরকার মার্কিনীদের মধ্যপ্রাচ্যের ১২ দেশ ছাড়ার আহ্বান, হরমুজ রক্ষায় ট্রাম্পের উদ্যোগে ফ্রান্সের না মব করে পুলিশে দেওয়া পঙ্গু আ.লীগ নেতা মারা গেলেন কারা হেফাজতে ইরানের জ্বালানিসমৃদ্ধ খার্ক দ্বীপে ভয়াবহ মার্কিন হামলা, চরম প্রতিশোধের শঙ্কা এবার স্থল যুদ্ধে আসছে ২,৫০০ মার্কিন সেনা, ‘উভচর’ যুদ্ধজাহাজ : মোজতবাকে ধরিয়ে দিতে কোটি ডলার পুরস্কার সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে আকাশযুদ্ধে ইরানি শাসকদের পতন নাও হতে পারে নেতানিয়াহুর আশঙ্কা, ইরানী নেতাকে হত্যার হুমকি প্রথম ভাষণে মোজতবা খামেনির হুঁশিয়ারি : হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে, মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি সরাতে হবে ইংল্যান্ডের পেশাদার ক্রিকেট টুর্নামেন্টে খেলবেন মোস্তাফিজ, ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকায় কিনল বার্মিংহাম হরমুজ প্রণালিতে আরও ৬ জাহাজে হামলা সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু: স্পিকার হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ, কীভাবে সম্পন্ন হলো নির্বাচন প্রক্রিয়া? মোজতবা খামেনি এখন কোথায়? ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাও আক্রান্ত যুদ্ধের আকাশে নতুন মারণাস্ত্র : লেবাননে সাদা ফসফরাস, ইরানে কালো বৃষ্টি ইরান যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে?

অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার কি আদৌ চায়, সংশয় রেহমান সোবহানের

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৫, ০৬:২৬ পিএম

অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার কি আদৌ চায়, সংশয় রেহমান সোবহানের

অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের রব তুললেও তা আদৌ চায় কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সিপিডির চেয়ারম্যান, খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান। ‘সমাজ গবষণা কেন্দ্র’ আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক সংস্কারের রাজনৈতিক অর্থনীতি প্রতিশ্রুতি, প্রতিবন্ধকতা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে তিনি নিজের এই সংশয় প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের পর বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ নেতৃত্বাধীন অস্থায়ী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন।

সংস্কারের নামে বর্তমান সরকার অন্ধকারে হাঁটছে বলে একই ওয়েবিনারে মন্তব্য করেন ব্র্যাকের চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, যিনি ওয়ান-ইলেভেনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্য ছিলেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের আগস্টে দেড় দশকের আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকার দায়িত্ব নিয়েই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারে কয়েকটি কমিশন গঠন করেছে। সেই কমিশনগুলোর সুপারিশ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করতে গঠিত হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন এই কমিশন সব সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে জুলাই সনদ চূড়ান্ত করার কথা। এর পর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন করার কথা জানানো হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান মনে করেন, ড. ইউনূস তার বিশ্বব্যাপী পরিচিতি ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে অগ্রাধিকার ঠিক করে সংস্কারের সুযোগ কাজ লাগাতে পারতেন। কিন্তু এখনও তিনি বড় ধরনের কোনও সংস্কারে হাত দেননি বলে তার মনে সংশয় জেগেছে, সরকার আসলে সংস্কার চায় কি না?

তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর শেষ হয়ে গেছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন দিলে আর সময় আছে ছয় মাসের মতো। এই সময়ের মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনসহ অন্যান্য সংস্কার কমিশন মিলে ১৫৮টির বেশি সংস্কার সুপারিশ করা হয়েছে। আপনাদের কি মনে হয়, এই ছয় মাসের মধ্যে এত সংস্কার করা সম্ভব?”

ওয়েবিনারে অংশ নেওয়া অনেকে তখন রেহমান সোবহানের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

অনুজপ্রতীম ড. ইউনূসের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রেহমান সোবহান বলেন, “ড. ইউনূসকে আমি একটি চিঠি দিয়ে বলেছিলাম, সংস্কার কাগজে-কলমে হয় না। কোন্ কোন্‌ বিষয়ে সংস্কার করতে হবে, সেটা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ড. ইউনূসের কাছ থেকেই আসা উচিৎ ছিল। কিন্তু সেটা হয় নাই। উনারা সংস্কারের দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের ওপর। অথচ অধ্যাপক ইউনূসের সারাবিশ্বে যে পরিচিতি, সারাবিশ্বে ওনি একজন সমাদৃত মানুষ এবং এদেশের নাগরিক সমাজের মধ্যে তার তার ব্যাপক প্রভাব ও কর্তৃত্ব রয়েছে; তার এই কর্তৃত্ব ব্যবহার করে অগ্রধিকার বাচাই করে সংস্কার উনি এগিয়ে নিতে পারতেন, এরপর ওই সংস্কারের ধারাবাহিকতা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারর কাছেও দিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু সেটা তিনি করেন নাই।”

স্বাধীনতার পর গঠিত প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য রেহমান সোবহান পরবর্তী সময়ে একটি অন্তর্বর্তী সরকারে কাজ করার আলোকে বলেন, “এই দেশে বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত কোনও সরকারই সংস্কার বাস্তবায়নের ব্যাপারে খুব একটা আ্ন্তরিক ছিল না।”

সরকারের আগ্রহ নিয়ে সংশয় থাকলেও গভর্নর হিসাবে আহসান এইচ মনসুরের ভূমিকার প্রশংসা করেন রেহমান সোবহান। তিনি বলেন, “আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিমত্তার সাথে আর্থিক খাত বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে কিছু সংস্কার করেছেন। আমাদের ব্যাংক খাত মুল সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে গেছে।”

শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত এই ওয়েবিনারে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “সংস্কারের নামে আমরা অন্ধকারে হাঁটছি। এখন সংস্কার বিষয়টাই একটা সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। মুল সমস্যা কোথায় বা কোথায় নজর দেওয়া দরকার, সেটাই চিহ্নিত করা হয়নি।”

শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারে সরকারের মনোযোগ না থাকার সমালোচনা করেন ২০০৭-০৮ সালের অন্তর্বর্তী সরকারে শিক্ষা উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা হোসেন জিল্লুর।

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার অর্থাৎ বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন, দুদক ও মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সাংবিধানিক শক্তি দিয়ে পরিচালনা করার মতো সংস্কার দরকার। সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপ ছাড়া যেন তারা কাজ করতে পারে। কিন্তু সরকার এদিকে নজরই দেয়নি।”

শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে গুরুত্বহীন থাকার সমালোচনা করেন ডাকসুর সাবেক জিএস মাহবুব জামান। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক এই সভাপতি বলেন, “ইতিমধ্যে অনেক সংস্কার করেছে। এরমধ্যে আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে রাজনৈতিক সংস্কারের নামে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মূছে ফেলার সব ধরনের কাজ হয়ে গেছে।”

ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর আর্থিক খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংস্কারের আশা করা হচ্ছিল। ১০টি কমিশনের মাধ্যমে বেশ কিছু সংস্কারের সুপারিশও করা হয়েছে। কিন্তু এসব সুপারিশের বাস্তবায়ন নেই।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছর ধরে দেশের আর্থিক খাতে যে পরিমাণ অনিয়ম হয়েছে, রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা যেভাবে ধংস করা হয়েছে, তা ঠিক করতে হলে অবশ্যই সংস্কার করতে হবে। কিন্তু দেশের যেসব মানুষ সংস্কার চায়, তাদের ভয়েস কম। আবার যারা সংস্কার চান না, তাদের ভয়েসই বেশি।”

সেলিম রায়হান বলেন, সংস্কার কমিশনগুলোর কাছ থেকে যেসব সুপারিশ জমা পড়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করলেও দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক একটা প্রভাব পড়ত। এই সরকার এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন না করলে পরবর্তী সরকার এই সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে কি না, সেই সন্দেহ প্রকাশ করেন এই অর্থনীতিবিদ।