মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ও ইরান-ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে গত তিন-চার দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে অন্তত ৩০টি সামরিক ট্যাংকার জেট ইউরোপে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এগুলোর গতি ও অবস্থান নজরদারিতে রাখা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিবিসি ভেরিফাই এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই ৩০টি জেটই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ট্যাংকার বিমান, যেগুলো আকাশপথে যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানে জ্বালানি সরবরাহে সক্ষম। ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোরের তথ্য অনুসারে, এসব ট্যাংকারের মধ্যে অন্তত সাতটি কেসি-১৩৫ মডেলের বিমান স্পেন, স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। গত শুক্রবার ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কমান্ডার ও শীর্ষ পরমাণুবিজ্ঞানীদের ওপর ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার পর টানা ছয় দিন ধরে তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে পাল্টাপাল্টি আকাশ হামলা চলছে। ইসরায়েল বলছে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ভণ্ডুল করতেই তারা এ হামলা চালিয়েছে। আর পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, খুব শিগগিরই এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নিতে যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের এতসংখ্যক ট্যাংকার জেট ইউরোপে সরিয়ে নেওয়া তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও এ পদক্ষেপ সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে একে ‘একেবারেই অস্বাভাবিক নয়’ বলে মত দিয়েছেন এক বিশেষজ্ঞ। থিংকট্যাঙ্ক রয়াল ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জাস্টিন ব্রঙ্ক বলেন, ‘তীব্র সামরিক অভিযানে সহায়তার উদ্দেশ্যে’ বিমানগুলো মোতায়েন করা হয়েছে— এমন একটি ‘জোরালো আভাস’ পাওয়া যাচ্ছে। বিবিসি ভেরিফাই যেসব সাতটি ট্যাংকার জেটের গতিপথ বিশ্লেষণ করেছে, সেগুলো ইউরোপে নামার পর বিভিন্ন দিকের দিকে উড়তে দেখা গেছে। তাদের ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেলে সিসিলির পূর্ব দিকে এ জেটগুলো দেখা গেছে। এর মধ্যে ছয়টির নির্দিষ্ট গন্তব্য না থাকলেও একটি পরে গ্রিসের ক্রেট দ্বীপে অবতরণ করে। আইরিশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক মেলেট মনে করছেন, এসব ট্যাংকার হয়তো ইরানকে ‘ভয় দেখাতেই’ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে তারা পরমাণু কর্মসূচিতে ছাড় দেয়। এই পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ চীন সাগর থেকে তার বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস নিমিট্জকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ সপ্তাহের শেষে রণতরীটির ভিয়েতনামের দানাংয়ে থাকার কথা থাকলেও ‘হঠাৎ উদ্ভূত জরুরি প্রয়োজন’ দেখিয়ে এটি এখন অন্য গন্তব্যের দিকে রওনা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হ্যানয়ের মার্কিন দূতাবাসের বরাতে। মেরিন ট্রাফিক নামের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে ইউএসএস নিমিট্জ মালাক্কা প্রণালীতে ছিল, যার গতিমুখ সিঙ্গাপুরের দিকে। এই রণতরী বহু যুদ্ধবিমান বহনে সক্ষম এবং এর সঙ্গে আরও একাধিক যুদ্ধজাহাজ থাকে। রয়টার্সকে তিন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে এফ-১৬, এফ-২২ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। ইউরোপে সরিয়ে আনা ট্যাংকার জেটগুলো এসব বিমানে আকাশপথে পুনরায় জ্বালানি দিতে সহায়ক হবে। বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার পরিকল্পনা করছে। যদিও ইসরায়েল ইতোমধ্যে এসব স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, তবে তেল আবিবের অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এমন স্থাপনায় কার্যকর আঘাত হানা সম্ভব নয়। বিশেষ করে কোম শহরের কাছে পাহাড়ের নিচে অবস্থিত ফরদো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রকে কেন্দ্র করেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দুশ্চিন্তা। এমন স্থাপনায় হামলা চালাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করতে হবে জিবিইউ-৫৭এ/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর (এমওপি) বোমা, যার ওজন প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কেজি এবং যা ‘বাঙ্কার ব্লাস্টার’ নামেই পরিচিত। এই বোমা কংক্রিটের নিচে ২০০ ফুট পর্যন্ত ভেদ করতে সক্ষম বলে মনে করা হয়। কেবল বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমানই এটি বহন করতে পারে। সম্প্রতি দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে কয়েকটি বি-২ বোমারু বিমান দেখা গেছে। ইরানের দক্ষিণ উপকূল থেকে দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় ২ হাজার ৪০০ মাইল। এ দূরত্ব থেকে সহজেই অভিযান চালাতে পারে এমন ক্ষমতা বি-২ বোমারু বিমানের রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীর সাবেক ডেপুটি অপারেশন প্রধান এয়ার মার্শাল গ্রেগ ব্যাগওয়েল। মার্চের শেষদিকে উপগ্রহ চিত্রে দিয়েগো গার্সিয়ায় এসব বিমান দেখা গেলেও সাম্প্রতিক ছবিতে সেগুলোর উপস্থিতি নেই বলে জানিয়েছে বিবিসি। মেলেট একে ‘জিগস পাজলের অনুপস্থিত খণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কারণ, ইরানে কোনো অভিযানের আগে এই বিমানগুলো কাছাকাছি থাকবে— সেটিই স্বাভাবিক। ব্যাগওয়েলও এতে একমত। তিনি বলেন, বি-২ বিমান একটানা ২৪ ঘণ্টাও উড়তে পারে। তাই হোয়াইট হাউস চাইলেই যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকেই এসব বিমান দিয়ে অভিযান চালানো সম্ভব। “ইরানের আত্মরক্ষার সব উপায় ইতিমধ্যেই অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশটির সামরিক ও এমনকি পরমাণু স্থাপনাগুলোও কার্যত এখন ইসরায়েলের দয়ার ওপর নির্ভরশীল,” বলেন ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীর সাবেক এই ডেপুটি অপারেশন প্রধান।
এগুলোর গতি ও অবস্থান নজরদারিতে রাখা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য বিশ্লেষণ করে বিবিসি ভেরিফাই এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই ৩০টি জেটই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ট্যাংকার বিমান, যেগুলো আকাশপথে যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানে জ্বালানি সরবরাহে সক্ষম। ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোরের তথ্য অনুসারে, এসব ট্যাংকারের মধ্যে অন্তত সাতটি কেসি-১৩৫ মডেলের বিমান স্পেন, স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। গত শুক্রবার ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কমান্ডার ও শীর্ষ পরমাণুবিজ্ঞানীদের ওপর ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার পর টানা ছয় দিন ধরে তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে পাল্টাপাল্টি আকাশ হামলা চলছে। ইসরায়েল বলছে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ভণ্ডুল করতেই তারা এ হামলা চালিয়েছে। আর পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, খুব শিগগিরই এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নিতে যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের এতসংখ্যক ট্যাংকার জেট ইউরোপে সরিয়ে নেওয়া তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও এ পদক্ষেপ সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে একে ‘একেবারেই অস্বাভাবিক নয়’ বলে মত দিয়েছেন এক বিশেষজ্ঞ। থিংকট্যাঙ্ক রয়াল ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জাস্টিন ব্রঙ্ক বলেন, ‘তীব্র সামরিক অভিযানে সহায়তার উদ্দেশ্যে’ বিমানগুলো মোতায়েন করা হয়েছে— এমন একটি ‘জোরালো আভাস’ পাওয়া যাচ্ছে। বিবিসি ভেরিফাই যেসব সাতটি ট্যাংকার জেটের গতিপথ বিশ্লেষণ করেছে, সেগুলো ইউরোপে নামার পর বিভিন্ন দিকের দিকে উড়তে দেখা গেছে। তাদের ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেলে সিসিলির পূর্ব দিকে এ জেটগুলো দেখা গেছে। এর মধ্যে ছয়টির নির্দিষ্ট গন্তব্য না থাকলেও একটি পরে গ্রিসের ক্রেট দ্বীপে অবতরণ করে। আইরিশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক মেলেট মনে করছেন, এসব ট্যাংকার হয়তো ইরানকে ‘ভয় দেখাতেই’ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে তারা পরমাণু কর্মসূচিতে ছাড় দেয়। এই পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ চীন সাগর থেকে তার বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস নিমিট্জকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ সপ্তাহের শেষে রণতরীটির ভিয়েতনামের দানাংয়ে থাকার কথা থাকলেও ‘হঠাৎ উদ্ভূত জরুরি প্রয়োজন’ দেখিয়ে এটি এখন অন্য গন্তব্যের দিকে রওনা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হ্যানয়ের মার্কিন দূতাবাসের বরাতে। মেরিন ট্রাফিক নামের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে ইউএসএস নিমিট্জ মালাক্কা প্রণালীতে ছিল, যার গতিমুখ সিঙ্গাপুরের দিকে। এই রণতরী বহু যুদ্ধবিমান বহনে সক্ষম এবং এর সঙ্গে আরও একাধিক যুদ্ধজাহাজ থাকে। রয়টার্সকে তিন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে এফ-১৬, এফ-২২ এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। ইউরোপে সরিয়ে আনা ট্যাংকার জেটগুলো এসব বিমানে আকাশপথে পুনরায় জ্বালানি দিতে সহায়ক হবে। বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার পরিকল্পনা করছে। যদিও ইসরায়েল ইতোমধ্যে এসব স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, তবে তেল আবিবের অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এমন স্থাপনায় কার্যকর আঘাত হানা সম্ভব নয়। বিশেষ করে কোম শহরের কাছে পাহাড়ের নিচে অবস্থিত ফরদো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রকে কেন্দ্র করেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দুশ্চিন্তা। এমন স্থাপনায় হামলা চালাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করতে হবে জিবিইউ-৫৭এ/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর (এমওপি) বোমা, যার ওজন প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কেজি এবং যা ‘বাঙ্কার ব্লাস্টার’ নামেই পরিচিত। এই বোমা কংক্রিটের নিচে ২০০ ফুট পর্যন্ত ভেদ করতে সক্ষম বলে মনে করা হয়। কেবল বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমানই এটি বহন করতে পারে। সম্প্রতি দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে কয়েকটি বি-২ বোমারু বিমান দেখা গেছে। ইরানের দক্ষিণ উপকূল থেকে দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় ২ হাজার ৪০০ মাইল। এ দূরত্ব থেকে সহজেই অভিযান চালাতে পারে এমন ক্ষমতা বি-২ বোমারু বিমানের রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীর সাবেক ডেপুটি অপারেশন প্রধান এয়ার মার্শাল গ্রেগ ব্যাগওয়েল। মার্চের শেষদিকে উপগ্রহ চিত্রে দিয়েগো গার্সিয়ায় এসব বিমান দেখা গেলেও সাম্প্রতিক ছবিতে সেগুলোর উপস্থিতি নেই বলে জানিয়েছে বিবিসি। মেলেট একে ‘জিগস পাজলের অনুপস্থিত খণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কারণ, ইরানে কোনো অভিযানের আগে এই বিমানগুলো কাছাকাছি থাকবে— সেটিই স্বাভাবিক। ব্যাগওয়েলও এতে একমত। তিনি বলেন, বি-২ বিমান একটানা ২৪ ঘণ্টাও উড়তে পারে। তাই হোয়াইট হাউস চাইলেই যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকেই এসব বিমান দিয়ে অভিযান চালানো সম্ভব। “ইরানের আত্মরক্ষার সব উপায় ইতিমধ্যেই অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশটির সামরিক ও এমনকি পরমাণু স্থাপনাগুলোও কার্যত এখন ইসরায়েলের দয়ার ওপর নির্ভরশীল,” বলেন ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানবাহিনীর সাবেক এই ডেপুটি অপারেশন প্রধান।