পূর্ব লন্ডনজুড়ে অবৈধভাবে কর্মী নিয়োগের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে ২০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লাখ লাখ পাউন্ড জরিমানা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত তদন্তে এসব প্রতিষ্ঠান অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করে বৈধ কর্মানুমতিহীন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়েছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
গত ১৮ জুন প্রকাশিত তালিকায় পূর্ব লন্ডনের হ্যাভারিং, বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহ্যাম, রেডব্রিজ, নিউহ্যাম, টাওয়ার হ্যামলেটস এবং ওয়ালথাম ফরেস্ট এলাকার মোট ২০টি প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ জরিমানা করা হয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটসের লাহোর ওয়ান রেস্তোরাঁকে - ১ লাখ ৩৫ হাজার পাউন্ড। এ ছাড়া রেডব্রিজের এম এ বিল্ডার্স লন্ডন লিমিটেড এবং টাওয়ার হ্যামলেটসের মিস্টার ওয়ংস ওয়ক অ্যান্ড বক্স - উভয় প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড করে জরিমানা করা হয়েছে।
হ্যাভারিং এলাকায় চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ম্যাসভিড কনস্ট্রাকশন এবং রেড কন্ট্রাক্টরসকে ৪৫ হাজার পাউন্ড করে, যোগী নিউজ অ্যান্ড অফ লাইসেন্সকে ৪০ হাজার পাউন্ড এবং হোয়াইট রোজ রেস্তোরাঁকে ১০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে।
বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহ্যামের একমাত্র প্রতিষ্ঠান জে ফুড অ্যান্ড ওয়াইনকে ৪০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে।
রেডব্রিজে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নাওয়াল পিওর মিঠাইকে ৮০ হাজার পাউন্ড, এ অ্যান্ড টিকে৯ সার্ভিসেস লিমিটেডকে ৪৫ হাজার পাউন্ড এবং স্টার ফ্রুট অ্যান্ড ভেজ, এইচএফসি এক্সপ্রেস ও কোয়ালিটি অ্যাপ্লায়েন্সেসকে ৪০ হাজার পাউন্ড করে জরিমানা করা হয়েছে।
নিউহ্যামের থাট্টুকাডা রেস্তোরাঁকে ৩১ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে।
টাওয়ার হ্যামলেটসে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইরোইরো লিমিটেড ও হ্যালো বাবলসকে ৪৫ হাজার পাউন্ড করে, খানস ক্লোদিং ও এস টি ম্যানেজ লিমিটেডকে ৪০ হাজার পাউন্ড করে এবং টিজিএফ পিজ্জাকে ১৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে।
ওয়ালথাম ফরেস্টের কিউডব্লিউএইচ ড্রাইলাইনিং লিমিটেডকে ৪০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, অভিবাসন আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং শ্রমবাজারে বৈধতা নিশ্চিত করতে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। নিয়োগকর্তাদের অবশ্যই নতুন কর্মী নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে কাজ করার অধিকার (Right to Work) যাচাই করতে হবে।
সরকার আরও সতর্ক করে বলেছে, কোনো প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে কাজ করার বৈধ অনুমতি নেই এমন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিলে সীমাহীন অঙ্কের জরিমানা, ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
একই সঙ্গে জনগণকে অবৈধভাবে কাজ করার সন্দেহজনক ঘটনা সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। পরিচয় গোপন রেখে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের হটলাইনে অভিযোগ জানানো যাবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের দাবি, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: রমফোর্ড রেকর্ডার, যুক্তরাজ্য হোম অফিস
-
যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের বিলাসবহুল ও নতুন বাড়ি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা
-
অ্যাসাইলাম প্রত্যাখ্যাত হলেও ৫৫% থাকবেন যুক্তরাজ্যেই, স্বীকার করল হোম অফিস
-
যুক্তরাজ্যে দেয়ালে পিঠ ঠেকা কেয়ার কর্মীরা : এখনই কী করণীয়, আইন কী বলছে
-
যুক্তরাজ্যে কেয়ার কর্মীদের জন্য দুঃসংবাদ: স্থায়ী বসবাসের অপেক্ষা বাড়তে পারে ১৫ বছরে
-
যুক্তরাজ্যে স্বামী বা পরিবারের নির্যাতনের শিকার অভিবাসীদের মিলতে পারে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি