ঢাকা ১২ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
ঢাকা ১২ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

তাপপ্রবাহ ও চরম আবহাওয়ায় যুক্তরাজ্যে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৬, ০৫:২৬ এএম

তাপপ্রবাহ ও চরম আবহাওয়ায় যুক্তরাজ্যে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে

যুক্তরাজ্যের জলবায়ু বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ ফসল উৎপাদনে ধারাবাহিক বিপর্যয়ের ফলে অচিরেই ব্রিটিশ পরিবারগুলো খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল বেহরেন্স সরকারকে এই বিষয়টিকে "সংকট" হিসেবে বিবেচনা করে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক বেহরেন্স বলেন, "কৃষকরা এখন একের পর এক তীব্র বৃষ্টি, দাবদাহ, খরা ঝড়ের সম্মুখীন হচ্ছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে খাদ্য উৎপাদনে।" তিনি জানান, দেশে ফসলের ফলন আগে থমকে গিয়েছিল, এখন কমতে শুরু করেছে। বন্যার সময় গবাদি পশু চারণভূমিতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় কৃষকদের খড়-বিচালি কিনে পশু পালন করতে হচ্ছে, যা ব্যয় বহুগুণে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডে রেকর্ড করা ইতিহাসের পাঁচটি সবচেয়ে খারাপ শস্য তৈলবীজ ফলনের মধ্যে তিনটিই এই দশকে ঘটেছেপ্রতিটিরই আগে ছিল চরম আবহাওয়া। তদুপরি, ২০২৩ সালে খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির এক-তৃতীয়াংশের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

অধ্যাপক বেহরেন্স বলেন, ভুট্টা, গরুর মাংস, অলিভ অয়েল, কোকো কফিসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম ইতিমধ্যেই প্রভাবিত হয়েছে। ভবিষ্যতে সব ধরনের খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতিতে জলবায়ু পরিবর্তন ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৬ সালের তাপপ্রবাহে ফসল নষ্ট হলেও সেই সময় বিদেশ থেকে আমদানির সুযোগ ছিল। কিন্তু ভবিষ্যতে চরম আবহাওয়ায় একই সঙ্গে বিশ্বের একাধিক কৃষি অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, ফলে আমদানির বিকল্পও সংকুচিত হয়ে আসবে।

ন্যাশনাল ফার্মার্স ইউনিয়নের উপ-সভাপতি পল টমকিন্স বলেন, "৭৮ শতাংশ কৃষক কৃষিজীবী জানিয়েছেন, গত ১০ বছরে তাঁরা চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও বেশি দেখেছেন। বাস্তবতা কঠোর: এক বছর যে মাঠে গমের ফসল জলের নিচে তলিয়ে যায়, পরের বছর সেটাই রুক্ষ ফাটল-ধরা মাটিতে পরিণত হয়।"

সরকারের পক্ষ থেকে পরিবেশ, খাদ্য গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০৫০ সাল পর্যন্ত কৃষি খাতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আওতায় জলবায়ু সহনশীল ফসল উদ্ভাবন, রোবোটিক্স, মাটির স্বাস্থ্য পানি ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড বরাদ্দসহ মোট ১২ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড বিনিয়োগ করা হবে। যুক্তরাজ্য তার নিজস্ব কৃষি উৎপাদন থেকে প্রায় ৬৫ শতাংশ খাদ্য চাহিদা মেটায় এবং বাকিটা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে আসে।

অধ্যাপক বেহরেন্স সরকারের এই পদক্ষেপকে অপর্যাপ্ত মনে করেন। তিনি বলেন, "আমাদের আরও বেশি উদ্ভিদজাত খাবার গ্রহণ করতে হবে, অপচয় কমাতে হবে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে এবং স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা নীতি শক্তিশালী করতে হবেএই পদক্ষেপগুলো গতকালই নেওয়া উচিত ছিল।"

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট