ঢাকা ৭ ফাল্গুন ১৪৩২, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা ৭ ফাল্গুন ১৪৩২, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সর্বশেষ
তারেক রহমানকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারে বড় ধাক্কা: অসদাচরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রিন্স অ্যান্ড্রু সুইডেন প্রবাসী আনিকার খেলবেন বাংলাদেশ জাতীয় দলে রমজানেই চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কাউন্সিল হাউজিং উন্নয়নে সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ অনুমোদন সম্পত্তি বিরোধে বাবার লাশ আটকে রাখল সন্তানরা দক্ষিণ আফ্রিকায় লাশ হলো পটিয়ার ফাহাদ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন: জামায়াতের বাড়ছে ১১ আসন শান্তি ফিরিয়ে আনাই প্রধান অগ্রাধিকার, সারাদেশে রেল যোগাযোগ: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আদালতে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রোজায় বন্ধ, রাতে এলো ঘোষণা রেমিটেন্স যোদ্ধাদের বার্তা দিলেন প্রবাসী মন্ত্রী নুর বিসিবির নতুন প্রধান নির্বাচক হচ্ছেন হাবিবুল বাশার যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জানালেন মির্জা ফখরুল স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে যা লিখেছেন তারেক রহমান শেখ সেলিম পরিবারসংশ্লিষ্ট ৩ জন মন্ত্রী-এমপি কেমন হলো নতুন মন্ত্রিসভা? বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, উপনেতা তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় নতুন মুখের প্রধান্য তারেক রহমান সংসদের নেতা, বিনাশুল্কের গাড়ি ও সরকারি প্লট ‘নেবেন না’ বিএনপির এমপিরা ষড়যন্ত্র ভেস্তে গেল, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথে অংশ নেয়নি বিএনপি শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দুদেশের সম্পর্কে ‘বাধা’ হবে না সিইও-এর পদত্যাগ, ফরেনসিক তদন্ত ও ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠনে চারিটি কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি শপথ অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন ব্রিটিশ আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রা পারিবারিক কারণ দেখিয়ে দেশ ছাড়লেন বিসিবি সভাপতি বুলবুল ভোট–পরবর্তী সহিংসতা: দেশে ‘৭ মৃত্যু, আহত ৩৫০’ মঙ্গলবার এমপিদের কয়টি শপথ? মন্ত্রীদের জন্য প্রস্তুত ৩৭ বাড়ি ওমরাহ শেষে সৌদি আরবের সড়কে প্রাণ গেল ৫ বাংলাদেশির আলহাজ বশির উদ্দিন আহমদ সাহেবের ইন্তেকালে দারুল হাদিস লাতিফিয়ার শোক প্রকাশ

কাউন্সিল হাউজিং উন্নয়নে সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

কাউন্সিল হাউজিং উন্নয়নে সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ অনুমোদন
টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান

কাউন্সিল মালিকানাধীন আবাসন উন্নয়নে টাওয়ার হ্যামলেটসের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ অনুমোদিত হয়েছে গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল তাদের মালিকানাধীন আবাসনসমূহে মূলধনী উন্নয়নে ৫২০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগে সম্মত হয়েছে, যাতে সব ভাড়াটিয়া একটি নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী বাড়িতে বসবাস করতে পারেন। এটি আগামী ১০ বছর মেয়াদি মোট ৬০৯ মিলিয়ন পাউন্ডের বৃহৎ বিনিয়োগ কর্মসূচির অংশ।

২০৩৬ সালের মধ্যে শতভাগ মানোন্নয়নের অঙ্গীকার

এই কর্মসূচি কাউন্সিলের নিবেদিত আবাসন উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ এবং ২০৩৬ সালের মধ্যে শতভাগ কাউন্সিল বাড়িকে গ্রহণযোগ্য আবাসন মানদণ্ডে উন্নীত করার অঙ্গীকারের অন্তর্ভুক্ত।

কোন খাতে কত ব্যয় হবে

মোট বিনিয়োগের মধ্যে ২৪০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা হবে গ্রহণযোগ্য আবাসন কর্মসূচিতে, যাতে প্রতিটি কাউন্সিল ভাড়াটিয়া একটি আধুনিক রান্নাঘর ও গোসলখানা, দ্বিস্তর কাচের জানালা এবং নতুন জ্বালানি সাশ্রয়ী ছাদ পান।

২০০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা হবে ভবন ও অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে।

৬০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা হবে বড় ধরনের মেরামত ও উন্নয়নে, যার মধ্যে লিফট মেরামত ও পুনঃস্থাপন অন্তর্ভুক্ত।

মেয়রের বক্তব্য

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান এই বিশাল বিনিয়োগ তহবিল সম্পর্কে বলেন, “এটি টাওয়ার হ্যামলেটসের ইতিহাসে আমাদের কাউন্সিলের বাড়িগুলোর উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ, এবং এটি আমাদের বাসিন্দাদের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। আমাদের বাসিন্দারা সর্বোত্তম সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, এবং এই বিনিয়োগ কাউন্সিল মালিকানাধীন আবাসনে একটি রূপান্তরমূলক পরিবর্তনের সূচনা করবে। আগামী দশ বছরে আমরা বাড়িগুলো আধুনিক করবো, নিরাপত্তা বাড়াবো, এবং আমাদের আবাসিক এলাকাগুলোকে আরও উষ্ণ ও পরিবেশবান্ধব করে তুলব।”

তিনি আরও বলেন, “সামাজিক আবাসনের ক্ষেত্রে আমাদের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে, এবং এই বিনিয়োগ সেই ঐতিহ্য উন্নত করার একটি অপরিহার্য অংশ। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি বাসিন্দার জন্য মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের এমন একটি ঘর দেওয়া, যেটি নিয়ে তারা গর্ব অনুভব করতে পারেন।”

“আমরা জানি—এবং আমরা ইতিমধ্যে—প্রয়োজন মেটাতে ও অতিরিক্ত ভিড় মোকাবিলা করতে নতুন ঘর নির্মাণ করছি, তবে আমাদের বিদ্যমান বাড়িগুলোরও উন্নতি করতে হবে, এবং এই বিনিয়োগ নিশ্চিত করবে যে আমরা দুটো কাজই করতে পারব।”

কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ

কাউন্সিল মালিকানাধীন বাড়িঘরের উন্নয়নের পাশাপাশি এই কর্মসূচি স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে এবং সংশোধিত ক্রয় কৌশলের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের ব্যবসার জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

নতুন পরিকল্পনায় প্রস্তাব করা হয়েছে, একটি বড় প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে মিশ্র চুক্তিভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে। এর মাধ্যমে চারটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানেরসহ মোট আটটি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে।

করপোরেট পরিচালকের মন্তব্য

আবাসন ও পুনর্গঠন বিষয়ক করপোরেট পরিচালক ডেভিড জয়েস বলেন,
“এই কর্মসূচি আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় একটি বড় অগ্রগতি নির্দেশ করে, যার লক্ষ্য হলো প্রতিটি বাসিন্দাকে একটি নিরাপদ, আধুনিক বাড়ি প্রদান করা। বাড়িগুলোর কাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা ভবন—নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করছি এবং নিরাপত্তা ও কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন,
“এই বিনিয়োগ শুধু বাড়িঘরের উন্নয়নের জন্য নয়, বরং আমাদের কমিউনিটির ভবিষ্যতের জন্যও। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে আমাদের আবাসন ব্যবস্থা আগামী প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাসিন্দাদের উপকারে আসবে।”

নীতিনির্ধারকের বক্তব্য

পুনর্গঠন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও গৃহনির্মাণ বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য কাউন্সিলর কবির আহমেদ বলেন,
“এই মিশ্র অর্থনৈতিক পদ্ধতি কাউন্সিলকে আরও বেশি নমনীয়তা দেবে, যাতে প্রতিটি প্রকল্পের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত পদ্ধতি বেছে নেওয়া যায়। এর ফলে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং বাসিন্দারা দ্রুত ফলাফল পাবেন। যদি কোনো ঠিকাদার আমাদের বাসিন্দাদের প্রাপ্য মান অনুযায়ী কাজ না করে, তাহলে সেই কাজ অন্য কোনো ঠিকাদারের কাছে হস্তান্তর করা যাবে।”

তিনি আরও বলেন,
“আমরা নতুন কর্মসম্পাদন পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি চালু করব, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে আমাদের সঙ্গে কাজ করা প্রতিটি ঠিকাদার সময়মতো এবং সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করছে।”

নতুন গৃহনির্মাণ কর্মসূচির সংযোগ

এই বিনিয়োগ বারার কাউন্সিল মালিকানাধীন ৩৭টি স্থানে সর্বোচ্চ ৩,৩৩২টি নতুন বাড়ি দ্রুত নির্মাণের উচ্চাভিলাষী গৃহনির্মাণ কর্মসূচির সঙ্গেও যুক্ত।


নতুন গুরুত্ব ও প্রত্যাশিত সুফল

স্থিতিশীলতা, কাজ সম্পাদনের সক্ষমতা এবং অর্থের যথাযথ ব্যবহারের ওপর নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নিশ্চিত করা হবেঃ

  • জরুরি মেরামত ও বড় উন্নয়নকাজ দ্রুত সম্পন্ন

  • কাজের মান ও নিরাপত্তার উচ্চতর মান বজায় রাখা

  • উন্নত জ্বালানি দক্ষতা ও পরিবেশগত সুবিধা বৃদ্ধি

  • প্রকল্প চলাকালে বাসিন্দাদের সঙ্গে আরও নিয়মিত ও স্পষ্ট যোগাযোগ

  • স্থানীয় মানুষ ও ব্যবসার জন্য বেশি অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি