আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত শেখ হাসিনার নিজের জেলা গোপালগঞ্জের তিনটি আসনের সবগুলোই জিতে নিয়েছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এ জেলায় এবারই প্রথম তিন আসনেই একযোগে জয় পেয়েছে বিএনপি। এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে মাত্র একবার বিএনপির প্রার্থী এফ. ই. শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর বিজয়ী হয়েছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী এসএম জিলানী ধানের শীষ প্রতীকে ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নীকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৮৬৭ ভোট । এ আসনে ১৯৮৬ সাল থেকে আটবার সাংসদ হন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ আসনের ১০৮টি কেন্দ্রে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৩২ হাজার ৫৯০টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৯২ হাজার ৯০৭টি, যা ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রায় তিন গুণ।
গোপালগঞ্জ-১ ( মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনে বিএনপির প্রার্থী সেলিমুজ্জামান মোল্লা ধানের শীষ প্রতীকে ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. কাবির মিয়া ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৯৬১ ভোট। এ আসনটিতে ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচন থেকে টানা ছয়বার এমপি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফারুক খান। তিনি আওয়ামী লীগের বাণিজ্য ও শিল্প বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
গোপালগঞ্জ-২ (গোপালগঞ্জ সদর ও কাশিয়ানীর একাংশ) আসনে বিএনপির কে এম বাবর ধানের শীষ প্রতীকে ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী এমএইচ খান মঞ্জু হরিণ প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৩৯ ভোট । এ আসনে ১৯৮১ সাল থেকে নয়বার এমপি ছিলেন শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিম।