খুলনায় একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার সময় এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে।
বিএনপির অভিযোগ, এক জামায়াত নেতা ‘ধাক্কা দেওয়ায়’ গাছের সঙ্গে আঘাত লেগে তার মৃত্যু হয়। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উত্তেজনার মধ্যেই তিনি ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়েছিলেন।
নিহত ব্যক্তির নাম মহিবুজ্জামান কচি (৫৫)। তিনি খুলনা নগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। নগরের হাজী মহসিন রোড বাই লেনে তার বাসা।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে খুলনা সদরের আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু বলেন, “সকাল থেকেই আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা ছিল। আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সেখানে জামায়াতের প্রচার করছিলেন।
“তাকে বাধা দিলে তিনি মহিবুজ্জামান কচিকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খান এবং মাথায় আঘাত পান। এতেই তার মৃত্যু হয়েছে।”
অভিযোগ অস্বীকার করে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, “আমি সবুরণনেসা কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। তখন দেখি বিএনপির কয়েকজন মহিলাদের বের করে দিচ্ছে। আমি সবাইকে যেতে বলি। কাউকে ধাক্কা দিইনি।”
জামায়াতের কেন্দ্র পরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমাদের নারী কর্মীদের বিএনপির লোকজন বের করে দিচ্ছিল। আমি বাধা দেই। তখন তাদের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শুনি তিনি মারা গেছেন।”
ঘটনার বিষয়ে ওই কেন্দ্রে দায়িত্বরত খুলনা সদর থানার এসআই খান ফয়সাল রাফি বলেন, “সকালে আলিয়া মাদ্রাসা একাডেমিক ভবন কেন্দ্রের অদূরে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং দুই পক্ষকে সরিয়ে দেই।
“তখন একজনকে অটোরিকশায় করে বাইরে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এখানে ধাক্কাধাক্কি বা হাতাহাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে। এটি আমার বিষয় নয়।”
তবে খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করে বলেন, “আলিয়া মাদ্রাসায় ‘জামায়াত নেতার ধাক্কাতেই’ মহিবুজ্জামান কচির মৃত্যু হয়েছে।
“আমরা অধ্যক্ষ ও জামায়াত নেতা মাহাবুবকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে খুলনা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, “যেহেতু ঘটনাটি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঘটেছে, সেখানে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সিসি ক্যামেরার ভিডিও দেখে এ বিষয়ে যদি কেউ দায়ী থাকেন, তাহলে তার শাস্তি হোক।”