কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি বিজয়ী হয়েছেন ৭৬ হাজার ৯০৭ ভোটে।
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ১৫০ কেন্দ্রে ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৩ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামী ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর শাখার আইন বিভাগীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ মো. রোকন রেজা পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৪৬ ভোট।
মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের কঠোর সমালোচনা করে দেশব্যাপী আলোচিত হন এই রাজনীতিবিদ।
ফজলুর রহমান একজন আইনজীবী। তিনি বিএনপির চেয়ারপারর্সনের সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা। তবে তিনি এক সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় কিশোরগঞ্জ জেলার মুজিব বাহিনীর প্রধান ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সেক্রেটারি ও সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সম্মিলিত বিরোধী দলের হয়ে তৎকালীন কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে, ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে।
আরও পড়ুন: ঢাকা-১৭: ৩৬ হাজার ভোটে এগিয়ে তারেক রহমান
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন।
তিনি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এর পর চারদলীয় জোট সরকারের শেষ দিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হয়েছেন তিনি।
তিনি ২০০৮ সালের নবম ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে কিশোরগঞ্জ-৪ আসন থেকে পরাজিত হন।
ফজলুর রহমান ২০২৫ সালের ২৩ আগস্ট একটি সাক্ষাৎকারে ৫ আগস্টের জন্য জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরকে দায়ী করে তাদেরকে ‘কালো শক্তি’ বলে অভিহিত করেন। এই বক্তব্যের পর তাকে বিএনপি থেকে শোকজ করা হয়। পরে তার দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।