যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দূতাবাস ও কনস্যুলারের কর্মকর্তাদের চলমান প্রশিক্ষণের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানেরই একটি অংশ।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রবেশ সীমিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে। মূলত বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা ভাতা ব্যয় কমানোও এ পদক্ষেপের একটি উদ্দেশ্য।
বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাসে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র মঙ্গলবার জানিয়েছেন, আগস্টের শুরুতে বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘গভীর প্রশিক্ষণ দিতেই’ এ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের কারণেই ভিসা সাক্ষাৎকার সময়সূচিতে পরিবর্তন এসেছে। তবে বাতিল হওয়া এসব সাক্ষাৎকার কবে পুনর্নির্ধারণ করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
চলতি বছরের শুরু থেকেই পররাষ্ট্র দপ্তর নতুন নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করছে। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা সব কনস্যুলার কর্মকর্তারা যেন প্রতিটি ভিসা আবেদন ‘ব্যাপক ও ধারাবাহিকভাবে’ যাচাই করতে পারেন, সে জন্যই এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
নির্ধারিত সাক্ষাৎকার বাতিলের তথ্য
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, যেসব আবেদনকারীর সাক্ষাৎকারের সময় আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল, তাদের ই-মেইল করে সাক্ষাৎকার বাতিলের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন তারিখ ও সময় পরে জানানো হবে বলেও তাদের জানানো হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আবেদনকারীরা দেশটির সরকারি সুবিধার ওপর যাতে নির্ভরশীল না হয়ে পড়েন, সে জন্যই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বৈধ ও অবৈধ—উভয় ধরনের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে নেওয়া একাধিক পদক্ষেপেরই অংশ। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগের প্রক্রিয়াকে আরও বাছাইভিত্তিক করা হচ্ছে।
প্রায় ২ লাখ বিদেশির ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা
চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের ভিসা বাতিলের একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। পর্যটন বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা করতে যাচ্ছেন, এমন প্রায় ২ লাখ বিদেশির ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে।
হাজার হাজার বিদেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা
নতুন করে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার স্থগিতের সিদ্ধান্তে হাজার হাজার বিদেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানিয়েছেন অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সর্বশেষ বিধিনিষেধের কারণে বৈধভাবে এবং দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টারত আবেদনকারীদের জন্য এটি নতুন বাধা।
ওয়াশিংটনের অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান ফ্র্যাগোমেনের আইনজীবী ব্রায়ান সিমন্স ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-কে বলেন, এই স্থগিতাদেশে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক আবেদনকারী হয়তো সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হাজার হাজার ডলার খরচ করেছেন। নিজেদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। অথচ শেষ মুহূর্তে তাদের নির্ধারিত সাক্ষাৎকার বাতিল করা হয়েছে।