ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তাঁরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও আলাদা শপথ নেবেন। এই দুই দফা শপথকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ সচিবালয় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ছাড়া বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবন ও এর দক্ষিণ প্লাজায় তিনটি পৃথক শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন,
“আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। প্রথমবার শপথ নেবেন সংসদ সদস্য হিসেবে, পরেরবার শপথ নেবেন—এই যে আমাদের সংস্কার হলো সেজন্য। বিকালে হবে মন্ত্রিপরিষদের শপথ।”
এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশ ২০২৫’ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের দিয়েই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে এবং সে কারণেই এমপিদের দুটি শপথ গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।
সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনটি স্তরের কথা বলা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথম ধাপ ছিল আইনি ভিত্তি তৈরি এবং দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হয় গণভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এখন তৃতীয় ধাপ হিসেবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া সামনে এসেছে।
শপথের ধাপ তিনটি
১) সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ
মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত এমপিরা প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন।
২) সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ
এমপি হিসেবে শপথের পরপরই তাঁরা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বিতীয়বার শপথ গ্রহণ করবেন।
৩) মন্ত্রিপরিষদের শপথ
বিকাল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ও তাঁর নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন।
উল্লেখ্য, শপথ গ্রহণের পর সংসদ সদস্যরা নির্ধারিত শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এ জন্য আসনভিত্তিক শপথ ফরম প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের জন্য আলাদা শপথ ফরমও প্রস্তুত রয়েছে।
নতুন মন্ত্রীদের জন্য প্রস্তুত ৩৭টি সরকারি বাসভবন
নতুন সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য রাজধানীর মিন্টো রোড, হেয়ার রোডসহ কয়েকটি এলাকায় মোট ৩৭টি সরকারি বাড়ি প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব এলাকা সাধারণত মন্ত্রিপাড়া নামে পরিচিত।
অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান,
“এখন পর্যন্ত আমরা ৩৭টি বাড়ি প্রস্তুত করে রেখেছি। মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, ধানমন্ডি ও গুলশানে এসব বাড়ি রয়েছে। প্রয়োজনে আরও কয়েকটি বাড়ি প্রস্তুতের কাজ চলছে।”
তিনি জানান, এই ৩৭টি বাড়ির মধ্যে বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের ব্যবহৃত বাসভবনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে—এ বিষয়ে শপথের আগের দিন পর্যন্তও সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি আদিলুর রহমান। তিনি বলেন,
“ওনারা যেভাবে চান, সেভাবেই হবে। আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথের প্রস্তুতি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মঙ্গলবার নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে এবার বঙ্গভবনের বাইরে, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকালে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা সেখানে শপথ নেবে। এর আগে একই দিন সকালে দক্ষিণ প্লাজাতেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে।