সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে, “সরকার চাইলে” তিনি দায়িত্ব সাময়িকভাবে আরও কিছুদিন চালিয়ে যাওয়ার আপত্তি নেই বলে উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার বিকেলে অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক নিয়াজ বলেন,
“আমি এখন মনে করছি, এটি একটি দায়িত্ব পালনের পর্বে আমরা একটি ভালো পর্যায়ে এসেছি এবং আমি সরে দাঁড়াতে চাই।”
২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের সরকার পতনের প্রভাব হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদেও পরিবর্তন আসে। সেই বছর ২৭ অগাস্ট ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,
“ক্রান্তিকালীন সময়ে, খুব বিশেষ পরিস্থিতিতে আমরা ২০২৪ সালের অগাস্টের শেষের দিকে দায়িত্ব নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল ছিল, একাডেমিক কর্মকাণ্ড বন্ধ ছিল, হলগুলো ভাসমান অবস্থায় ছিল এবং প্রশাসনিক কাঠামো অকেজো হয়ে পড়েছিল।
ওই পরিস্থিতিতে আমাদের প্রথম কাজ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা এবং স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। আজ প্রায় দেড় বছর পর আমরা মোটামুটি ভালো অবস্থানে পৌঁছেছি।”
পদত্যাগের ইচ্ছার প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন,
“এ মুহূর্তে যেন কোনো শূন্যতা না হয়, ধারাবাহিকতা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মসৃণ পরিবর্তনের জন্য আমাকে যদি সরকার বা অংশীজনরা চান, আমি দায়িত্ব সাময়িকভাবে চালিয়ে যেতে রাজি আছি।
কিন্তু সারাদেশের মতো আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি, একটি নিয়মিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেবেন এবং আমরা তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করব।”
নতুন সরকার চাইলে ভিসি পদে থাকবেন কি না-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,
“এটা খুবই জটিল প্রশ্ন। আমি আপাতত বিশ্রাম চাই।”
পদত্যাগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন,
“আমি আমার মাননীয় আচার্য বরাবর লিখব। বর্তমানে ডেপুটেশনে আছি। ডেপুটেশন শেষ হলে আমি আমার মূল দায়িত্ব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে ফিরে যাব। অন্য কোনো দায়িত্ব বা সুযোগ যদি আসে, তখন বিবেচনা করব।”
উপাচার্য সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর কিছু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি তুলে ধরেন:
-
“ডাকসু কার্যকর হয়েছে, শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
-
“সীমিত সুযোগ সত্ত্বেও টাইমস হায়ার এডুকেশনে ২০০% অগ্রগতি হয়েছে। বিদেশি ছাত্র সংখ্যা ১৬০% বেড়েছে।”
-
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮৪১ কোটি টাকার প্রকল্পে আবাসন সংকট সমাধানের আশা প্রকাশ করেন।
-
ভোটের ফল যাই হোক, জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহবান প্রধান উপদেষ্টার
-
কারাবন্দি অবস্থায় মারা গেলেন আওয়ামী লীগ নেতা রমেশ চন্দ্র সেন
-
বিএনপির সময়ে দুর্নীতিতে ‘চ্যাম্পিয়ন’: নির্বাচনি ইশতেহারে ব্যাখ্যা ও প্রতিশ্রুতি দিলেন তারেক
-
রমজানে অফিস সময় নির্ধারণ
-
র্যাবের নাম বদলে দিচ্ছে সরকার, নতুন নাম জানালো