সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
সৈয়দ আফসার উদ্দিন এমবিই‘র ইন্তেকাল  » «   ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিয়ানীবাজারে পথচারী ও রোগীদের মধ্যে ইফতার উপহার  » «   ইস্টহ্যান্ডসের রামাদান ফুড প্যাক ডেলিভারী সম্পন্ন  » «   বিসিএ রেস্টুরেন্ট কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এনএইচএস এর ‘টকিং থেরাপিস’ সার্ভিস ক্যাম্পেইন করবে  » «   গ্রেটার বড়লেখা এসোশিয়েশন ইউকে নতুন প্রজন্মদের নিয়ে কাজ করবে  » «   স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের দোয়া ও ইফতার মাহফিল  » «   কানাডা যাত্রায়  ইমিগ্রেশন বিড়ম্বনা এড়াতে সচেতন হোন  » «   ব্রিটিশ রাজবধূ কেট মিডলটন ক্যানসারে আক্রান্ত  » «   যুদ্ধ বিধ্বস্ত গাজাবাসীদের সাহায্যার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকের অনুদান  » «   বড়লেখায় পাহাড়ি রাস্তা সম্প্রসারণে বেরিয়ে এলো শিলাখণ্ড  » «   মাইল এন্ড পার্কে ট্রিস ফর সিটিস এর কমিউনিটি বৃক্ষরোপণ  » «   রয়েল টাইগার্স স্পোর্টস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন  » «   গোলাপগঞ্জ স্যোশাল এন্ড কালচারাল ট্রাস্ট ইউকে’র সাধারণ সভা ও নির্বাচন সম্পন্ন  » «   যুক্তরাজ্যবাসি  সাংবা‌দিক সাইদুল ইসলামের পিতা আব্দুল ওয়াহিদের ইন্তেকাল  » «   ইউকে বাংলা রিপোটার্স ইউনিটি‘র নতুন কার্যকরী কমিটির অভিষেক  » «  
সাবস্ক্রাইব করুন
পেইজে লাইক দিন

বিশ্বকাপ এলে ব্রিটেনে পারিবারিক সহিংসতা বেড়ে যায়



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

বিশ্বকাপ সারা বিশ্বকেই যেন একাকার করে তোলে। প্রত্যেকটা বিশ্বকাপে সারা বিশ্বের মানুষের চোখ থাকে একটা দেশের দিকে। বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের নৈপুন্য দেখতে সকাল-বিকাল সন্ধ্যা কিংবা মধ্যরাতে পৃথিবীর অগণন মানুষ চোখ রাখে টিভি পর্দায়। সারা বিশ্ব যেন একই গ্রন্থিতে মিলিত হয়। এবারও রাশিয়া থেকে আমেরিকা, ইউরোপ কিংবা মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া সব জায়গার মানুষের চোখ একই দিকে। রাশিয়ার দিকে।

বিশ্বকাপ ঘিরে যেমন মানুষ একাকার হয়, ঠিক তেমনি এক উন্মাদনায় যেন বোঁদ হয়ে যায় সারা বিশ্বের অগনিত মানুষ। বাংলাদেশেও এ উন্মাদনা স্পর্শ করে, তরুনরা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনায় বিভক্ত হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশালীন আচরণ করে। ঝগড়ায় মেতে উঠে, মিছিল করে, এমনকি রক্তপাতও ঘঠায়।

ব্রিটেনে বিশ্বকাপ নিয়ে উচ্ছাস আছে, আছে ‘রাশিয়া ২০১৮’ নিয়ে মাতামাতি। বাইরে কোন মিছিল নেই, খুব কম জায়গায়ই আছে গাড়ির ভেঁপু বাজানো, এমনকি বিজয়ী হবার পরও। পাব কিংবা বাসায় দলবদ্ধ হয়ে টেলিভিশনে চোখ থাকে দর্শকদের।

কিন্তু বিশ্বকাপ এলে ব্রিটেনে বেড়ে যায় পারিবারিক সংঘাত।  বৃদ্ধি পায় পারিবারিক সহিংসতা। বিশেষত ইংল্যান্ডের খেলার দিনে একের পর এক বিয়ার-লাগারের পাইন্ট নিঃশেষ করে টিভি পর্দায় চোখ রাখা ইংল্যান্ড সমর্থকদের অধিকাংশই হয়ে যায় মাতাল। ক্রমশই এরা চলে যায় অন্য এক জগতে। মাতাল হয়ে এরা যখন ঘরে ফিরে,তখন ছেলে হোক কিংবা মেয়ে হোক জয়ের আনন্দে হোক কিংবা পরাজয়ের গ্লানিতে হোক তারা মারমুখী হয়ে যায়। এমনকি হাতও তোলে সঙ্গী কিংবা সঙ্গীনির গায়ে।

সেজন্যেই এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে ব্রিটেনের পুলিশ নিয়েছে বাড়তি তৎপরতা। বিশেষত ইংল্যান্ডের খেলার দিনে পারিবারিক সহিংসতা ঠেকাতে তাদের প্রস্তুতি আছে সারা দেশেই।  ব্রিটিশরা এমনিতেই ফুটবল পাগল। বিশ্বকাপে তারা সবাই-ই একধরনের উন্মাদনায় থাকে। সম্প্রতি এক রিপোর্ট দেখা গেছে, ইংল্যান্ডের খেলার দিন তাদের মাতলামী বেড়ে যায়। এবং ঐদিন পারিবারিক সহিংসতা বৃদ্ধি পায় সারা দেশব্যাপী। দি ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডমেসটিক ভায়োলেন্স, জাতীয় পুলিশ চীফ’স কাউন্সিল ও বিবিসি পারিবারিক এ সহিংসতার চিত্র জনসমক্ষে আনতে কাজ করছে এবং বিভিন্ন তথ্যাদি নিয়ে এসেছ ইতিমেধ্যে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন এবং তথ্যবহুল গবেষণা বেরিয়ে এসেছে ল্যাংকাষ্টার ইউনিভার্সিটি’র বিশ্বকাপ ফুটবল গবেষণা থেকে।  শুধু পারিবারিক সম্পর্কের উপর ভিন্ন ভিন্ন গবেষণার মধ্য দিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটি বের করেছে এসব তথ্য। ল্যাংকাষ্টার ইউনিভার্সিটি ২০০২, ২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের উপর তাদের চলমান গবেষণায় দেখিয়েছে বিশ্বকাপ নিয়ে এই উদ্বেগজনক ফলাফল। দেখা গেছে স্বাভাবিক যে পারিবারিক সহিংসতা আছে ব্রিটেনে, তার চেয়ে অনেক বেশী বৃদ্ধি পায় এসময়ে। ইংল্যান্ড যেদিন পরাজিত হয়, সেদিন দেখা গেছে ৩৮ শতাংশ সহিংসতা বাড়ে এবং এমনকি বিজয়ী হলে কিংবা ড্র করলে আনন্দের উন্মাদনায় তা বৃদ্ধি পায় ২৬ শতাংশ। ২০১৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে ঐ বছর ইংল্যান্ডে খেলার দিন ৭৯.৩ শতাংশ পারিবারিক সহিংসতা বেড়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল।

বিশ্বকাপ চলাকালীন ব্রিটেনে ফুটবল নিয়ে যাতে সহিংসতা বৃদ্ধি না পায় সেজন্যে ২০১৪ সাল থেকে ক্যম্পেইন গ্রুপ কাজ করছে। বিশেষত ইটালীর সাথে ইংল্যান্ড ২-১ গোলে পরাজিত হবার পর সহিংসতা বৃদ্ধি পেলে দি ‘ন্যাশনাল ফর ডমেস্টিক ভায়োলেন্স’ ক্যাম্পেইন শুরু করে পারিবার সহিংসতা প্রতিরোধ করতে। এছাড়া ‘গিভ ডমেস্টিক এবিউজ দ্যা রেড কার্ড’ ক্যাম্পেইনের সাথে কাজ করছে ‘উইম্যানস এইড’। এই সংস্থাটি প্রচারনা চালাচ্ছে ‘ফুটবল ইউনাইটেড এগেইনষ্ট ডমেস্টিক ভায়োলেন্স’ পুলিশ, জাতীয় ফুটবলিং কমিটি, স্পোর্টস মিডিয়া, খেলোয়াড় এবং বিভিন্ন ক্লাবেব সমর্থকদের নিয়ে। সে কারণে ২০১৮তে পুলিশ পারিবারিক সহিংসতাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং পারিবারিক সহিংসতা এবারে সহনীয় পর্যায়ে আছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

 

 


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

"এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব " -সম্পাদক

,সাংবাদিক, কলামিস্ট
ফারুক যোশী; কলামিস্ট, প্রধান সম্পাদক; ৫২বাংলাটিভিডটকম
লেখকের অন্যান্য পোষ্ট