ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
সর্বশেষ
আর্জেন্টিনার খেলা কখন, কবে, কার সঙ্গে—পূর্ণ সূচি ও সম্ভাব্য পথচিত্র ব্রাজিলের খেলা কখন, কবে, কার সঙ্গে—পূর্ণ সূচি ও সম্ভাব্য পথচিত্র মারা গেছেন পপ আর্টের কিংবদন্তি ব্রিটিশ চিত্রশিল্পী ডেভিড হকনি টরন্টো বাংলা পাড়া টুর্নামেন্ট: টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন বিয়ানীবাজার বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ : কোন ম্যাচ কখন ,কোথায় অনুষ্ঠিত হবে? ৩০ বছর পর সালমান শাহর দেহাবশেষ তোলার আদেশ হেলিকপ্টার হারিয়ে ইরানে মার্কিন হামলা, বাহরাইন ও জর্ডানে পাল্টা হামলা ইরানের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন ইসরায়েলে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ইরানের সঙ্গে যুক্ত হলো হুতিরা বিশ্বকাপ ২০২৬: ফেভারিট কারা, চমক দেখাবে কোন দল? শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ : কোন দেশের খেলা কখন—জেনে নিন রামিসা ধর্ষণ-হত্যার ১৯ দিনের মাথায় সোহেল-স্বপ্না দম্পতির ফাঁসির রায় হোয়াইট হাউসের কাছে ফের গুলি, বন্দুকধারী নিহত ট্রাম্প কি ইরান যুদ্ধে হারছেন? হামে প্রতিদিন গড়ে ৭ শিশুর প্রাণহানি : রাজশাহী থেকে যেভাবে দেশজুড়ে ছড়াল লন্ডনে বাবু-রুপাসহ গ্রেপ্তার সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের নিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিয়ম : গ্রিন কার্ড পেতে বিদেশিদের দেশে ফিরতে হবে হামে শিশু মৃত্যু বাড়ছেই: টিকার ঘাটতি নিয়ে ইউনিসেফের ৫ চিঠিতেও সতর্ক হয়নি ইউনূস সরকার শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকার : গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে দেশে ফিরব আ.লীগের ব্যাক করা নিয়ে মাহফুজের পোস্ট, যা লিখলেন প্রবাসীকে বাসায় ডেকে হত্যা: প্রেমিকার হাতে ভয়াবহ খণ্ডিত লাশ তনু হত্যা মামলায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য: ডিএনএ পরীক্ষায় আরও এক পুরুষের রক্ত শনাক্ত ছাত্রদল-এনসিপি উত্তেজনা, চট্টগ্রাম নগরীতে মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ কারিনা কায়সার: হাসিমাখা মুখের মেয়েটি নিথর হয়ে গেল ফেসবুকে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়ায় বিএনপি কর্মীদের হামলা: সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু শেষ বিশ্বকাপে মেসি-রোনালদো: কোয়ার্টার ফাইনালেই কি দেখা হচ্ছে দুই মহাতারকার? প্রিন্স উইলিয়ামের কাছ থেকে এমবিই সম্মাননা গ্রহণ করলেন আবু তাহের আরব আমিরাতে ঈদুল আজহা হতে পারে ২৭ মে প্রবাসী কার্ড কারা পাবেন, কী কী সুবিধা থাকছে? ওমানে মর্মান্তিক মৃত্যু: বিয়ের কেনাকাটায় গিয়ে প্রাণ হারালেন চট্টগ্রামের ৪ ভাই

খেলাপি ঋণ ঊর্ধ্বমুখী : ৩ মাসেই বেড়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০১৯, ০৫:৪৮ এএম

খেলাপি ঋণ ঊর্ধ্বমুখী : ৩ মাসেই বেড়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা
কোনোভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না খেলাপি ঋণের। সরকারি-বেসরকারি কিংবা বিদেশি- সব খাতের ব্যাংকেই খেলাপি ঋণ বাড়ছে। তবে সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতেই খেলাপি ঋণের আধিক্য বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ছিল ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ- এই তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৬ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। এর বাইরে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত অবলোপনের মাধ্যমে ব্যাংকের হিসাবের খাতা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে ৪০ হাজার ১০১ কোটি টাকা। এ ঋণ যোগ করলে দেশের ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের প্রকৃত পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, আর্থিক অবস্থা ভালো দেখাতে গত বছরের ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কিছুটা কমিয়ে এনেছিল দেশের ব্যাংকগুলো। গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এই তিন মাসে ৫ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ কমেছিল। তবে তিন মাস যেতে না যেতেই পুরনো চেহারায় ফিরেছে খেলাপি ঋণ। মার্চে এসে পুনঃতফসিলকৃত ঋণসহ নতুন ঋণও খেলাপি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বিশেষ সুবিধায় ২০১৫ সালে পুনর্গঠন করা ঋণের বড় একটি অংশও এখন খেলাপি। প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। মার্চ শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা; যা ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২০ শতাংশ। বিশেষায়িত খাতের দুই ব্যাংকের খেলাপি হয়েছে ৪ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা; যা ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের ১৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। বেসরকারি খাতের ৪২টি ব্যাংকের খেলাপি হয়েছে ৪৯ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা; যা ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ। এ ছাড়া বিদেশি খাতের ৯টি ব্যাংকের খেলাপি হয়েছে ২ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা, যা ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। দায়িত্ব নেয়ার পর নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, আর এক টাকাও খেলাপি ঋণ বাড়বে না। এরপরও ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, নগদ অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে যদি ব্যাংকগুলো তৎপর না হয়, বাস্তবতার নিরিখে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ঋণ আদায় না করলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক অঙ্কে নামিয়ে আনা কঠিন হবে। তিনি বলেন, বাস্তবতার নিরিখে নিবিড় তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে ঋণ আদায় কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি যথাযোগ্য জামানত গ্রহণ সাপেক্ষে নতুন ঋণ দেয়ার মাধ্যমে শ্রেণিকৃত ঋণের হার কমিয়ে আনা সম্ভব। অর্থনীতিবিদদের মতে, পরিচালনা পর্ষদের অযাচিত হস্তক্ষেপ, ঋণ পুনর্গঠনের শর্ত শিথিল করা এবং খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা পরিবর্তন করায় বাংলাদেশের ব্যাংক খাত পিছিয়ে গেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ভোরের কাগজকে বলেন, নতুন করে কিছু বলার নেই। ঋণগুলো তো আগে থেকেই খারাপ হয়ে আছে। এখন দিন বাড়ছে, খেলাপিও বাড়ছে। ঋণ পুনরুদ্ধারে সঠিক কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে এভাবে বাড়তেই থাকবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের কিছু ভুল পলিসির কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। খেলাপি হওয়ার সময় বাড়ানোও এর জন্য দায়ী। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতে গুড গভর্নেন্সের অভাব, দুর্নীতি তো আছেই। বাংলাদেশ ব্যাংকও তার দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে পারছে না। এতে করে ম্যানেজমেন্ট দুর্বল হয়ে গেছে। আসলে সমস্যাগুলোকে দূরীভূত করাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্যাংকিং খাতের প্রধান সমস্যা এখন খেলাপি ঋণ। এটিকে ক্যান্সারের সঙ্গে তুলনা করলেও ভুল হবে না। তবে এই রোগ নিরাময়ের চেষ্টা অব্যাহত আছে।