ঢাকা ৭ বৈশাখ ১৪৩৩, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা ৭ বৈশাখ ১৪৩৩, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ
বাংলা প্রেসক্লাব বার্মিংহামের নতুন কমিটি: সভাপতি জিয়া, সম্পাদক আতিকুর মৌলভীবাজার ইনসানিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার উদ্বোধন সংরক্ষিত নারী আসন : বিএনপির এমপি হলেন যারা ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের, আলোচনায় বসতে নারাজ তেহরান ইরানের জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র, প্রতিশোধের হুমকি তেহরানের যুক্তরাজ্যে ঈদে ছুটির দাবিতে আলতাব আলী পার্কে সমাবেশ ১১ মে এবার হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা ইরানের আমেরিকার নজর ইরানে, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া যেকোনো মুহূর্তে আবারও যুদ্ধ, দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আগেই চূড়ান্ত রূপরেখা চায় ইরান টাওয়ার হ্যামলেটস নির্বাচন : লেবার মেয়র প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের ২৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা ‘আমরা নারী’ ও ‘ইউনিকো হসপিটালস পিএলসি’-এর মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অবরোধ না তুললে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের বিএনপির কাউন্সিল : দলপ্রধানের পদ ছাড়ছেন তারেক রহমান? ইসরায়েল ও লেবাননের ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি: ‘ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি’ কী হবে? যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে বাংলাদেশিরা যা করছে : নাস্তিকতার ভান, সমকামী সাজছেন / বিবিসি’র অনুসন্ধান জিয়ার হাতে ধানের শীষ তুলে দেন ভাসানী, তারেক রহমানের বক্তব্য নিয়ে মাঠ গরম করছে কারা? তেল রপ্তানি ছাড়াই দুই মাস কাটিয়ে দিতে পারবে ইরান তুতসি গণহত্যা নিয়ে ইউনেসকোর রাউন্ড টেবিল আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজারের বেশি সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র স্পেনে বাংলাদেশিসহ নথিহীন ৫ লাখ অভিবাসীর বৈধ হওয়ার সুযোগ মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ইরান ছাড়তে পারছে না তেলের ট্যাংকার ইরান যুদ্ধ বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে? সিলেটের মেয়ে কানাডার এমপি হলেন ট্রাভেল পাস নিতে গিয়ে না ফেরার দেশে প্রবাসী অরুণ বিতর্কের মধ্যেও ‘মঙ্গল’ থাকছে—বর্ষবরণের নানা আয়োজনে মেয়র লুৎফুর রহমান ও এসপায়ার পার্টির নির্বাচনী ক্যাম্পেইন উদ্বোধন স্বাধীনতা দিবসে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের 'একাত্তরের গল্প' অনুষ্ঠান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা কেন ব্যর্থ হল? এরপর কী? হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের পাশাপাশি ইরানে আবার হামলার চিন্তা ট্রাম্পের লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব সদস্যের পিতার ইন্তেকালে ক্লাব নেতৃবৃন্দের শোক

বাংলাদেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশে নামালেন ট্রাম্প

প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৩৭ পিএম

বাংলাদেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশে নামালেন ট্রাম্প
উঠেছিল ৩৫ শতাংশে, দর কষাকষি করে এখন তা কমে এসেছে ২০ শতাংশে। অর্থাৎ বাংলাদেশি পণ্য এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঢুকতে গেলে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক গুনতে হবে। ওয়াশিংটনে ধারাবাহিক আলোচনার পর বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দপ্তর থেকে বাংলাদেশের পণ্যে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক ধার্যের ঘোষণা দেওয়া হয়। শুল্কভার কমিয়ে আনাকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক আলোচনায় সাফল্য হিসাবে দেখছে অন্তর্বর্তী সরকার। এজন্য বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশের পণ্যের ওপর এতদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ছিল গড়ে ১৫ শতাংশ, তার সঙ্গে এখন আরও ২০ শতাংশ যোগ হওয়ায় তা বেড়ে ৩৫ শতাংশে দাঁড়াবে। হোয়াইট হাউসের ঘোষণা অনুযায়ী, ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ, পাকিস্তানের ওপর ১৯ শতাংশ, আফগানিস্তানের ওপর ১৫ শতাংশ, মিয়ানমারের ওপর ৪০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের ওপর ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ হবে। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চেয়ারে ফেরার পরপরই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বড় অঙ্কের পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। গত এপ্রিলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। তাতে দেশের রপ্তানি পণ্যের সবচেয়ে বড় গন্তব্য দেশটিতে শুল্কভার ৫২ শতাংশে উঠে গিয়েছিল। কয়েকদিন পরে ৯ এপ্রিল বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত ওই শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। দেশগুলোকে এ সময় দেওয়া হয় বাণিজ্য আলোচনায় এসে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের জন্য সুবিধা বাড়াতে। তিন মাসের সময়সীমা গত ৯ জুলাই শেষ হওয়ার ঠিক আগে বাংলাদেশকে চিঠি দিয়ে ট্রাম্প পাল্টা শুল্ক ২ শতাংশ কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত জানান। তবে এই শুল্কের হার কমাতেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তির জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন দেশকে সময় দেওয়া হয়। ওই চিঠি পাওয়ার পরপরই একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দল নিয়ে ওয়াশিংটনে যান বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশীরউদ্দিন। ইউএসটিআরের সঙ্গে এক দফা আলোচনা সেরে দেশে ফেরার পর গত সোমবার তিনি ফের যান ওয়াশিংটনে। তার সঙ্গে ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাজনীন কাউসার চৌধুরী। সরকারি প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের একটি দলও যুক্তরাষ্ট্র গেছে। ব্যবসায়ীদের এ দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির আলাদা বৈঠক হওয়ার কথা। সমঝোতা স্মারকও (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হয় সরকারি প্রতিনিধি দলের তৃতীয় দিনের আলোচনা, যা রাত ১টায় শেষ হয়। এর পরপরই হোয়াইট হাউস বাংলাদেশসহ আরও বেশ কিছু দেশের শুল্কহার কমানোর ঘোষণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রধন রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক। এই বাজারে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের ওপর শুল্কও ২০ শতাংশ আরোপ করেছেন ট্রাম্প। আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী কম্বোডিয়ার ওপর শুল্ক বসেছে ১৯ শতাংশ। ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কার ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয়েছে। ফলে শুল্ক হারের বিচারে পোশাক পণ্য রপ্তানিতে প্রতিদ্বন্দ্বী কারও কাছ েথকে হুমকিতে পড়তে হচ্ছে না বাংলাদেশকে। একক দেশ হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। মোট রপ্তানি আয়ের ২০ শতাংশের মতো আসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির এই দেশটি থেকে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫০ কোটি (২.৫ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। অন্যদিকে এই অর্থ বছরে দেশটিতে বাংলাদেশ ৮৬৯ কোটি ২৩ লাখ (৮.৬৯ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে দেশটির উড়োজাহাজ কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। মূলত পাল্টা শুল্ক নিয়ে দর-কষাকষির অংশ হিসেবে বিমান কেনার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সয়াবিন তেল ও তুলা কেনার পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে ট্রাম্প শুল্ক নিয়ে কথা বলেন সাংবাদিকেরা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনতে কত খরচ হবে—এমন প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি। শুধু উড়োজাহাজ কিনে বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে না, আর কী ধরনের পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আরও আছে। ওই প্যাকেজ নিয়েই তো গেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা, কী কী কিনতে হবে।” যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা হবে কি না, জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “সেটা আমি বলব না। বাণিজ্য উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করুন।”