ঢাকা ৬ বৈশাখ ১৪৩৩, রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা ৬ বৈশাখ ১৪৩৩, রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ
এবার হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা ইরানের আমেরিকার নজর ইরানে, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া যেকোনো মুহূর্তে আবারও যুদ্ধ, দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আগেই চূড়ান্ত রূপরেখা চায় ইরান টাওয়ার হ্যামলেটস নির্বাচন : লেবার মেয়র প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের ২৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা ‘আমরা নারী’ ও ‘ইউনিকো হসপিটালস পিএলসি’-এর মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অবরোধ না তুললে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের বিএনপির কাউন্সিল : দলপ্রধানের পদ ছাড়ছেন তারেক রহমান? ইসরায়েল ও লেবাননের ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি: ‘ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি’ কী হবে? যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে বাংলাদেশিরা যা করছে : নাস্তিকতার ভান, সমকামী সাজছেন / বিবিসি’র অনুসন্ধান জিয়ার হাতে ধানের শীষ তুলে দেন ভাসানী, তারেক রহমানের বক্তব্য নিয়ে মাঠ গরম করছে কারা? তেল রপ্তানি ছাড়াই দুই মাস কাটিয়ে দিতে পারবে ইরান তুতসি গণহত্যা নিয়ে ইউনেসকোর রাউন্ড টেবিল আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজারের বেশি সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র স্পেনে বাংলাদেশিসহ নথিহীন ৫ লাখ অভিবাসীর বৈধ হওয়ার সুযোগ মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ইরান ছাড়তে পারছে না তেলের ট্যাংকার ইরান যুদ্ধ বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে? সিলেটের মেয়ে কানাডার এমপি হলেন ট্রাভেল পাস নিতে গিয়ে না ফেরার দেশে প্রবাসী অরুণ বিতর্কের মধ্যেও ‘মঙ্গল’ থাকছে—বর্ষবরণের নানা আয়োজনে মেয়র লুৎফুর রহমান ও এসপায়ার পার্টির নির্বাচনী ক্যাম্পেইন উদ্বোধন স্বাধীনতা দিবসে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের 'একাত্তরের গল্প' অনুষ্ঠান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা কেন ব্যর্থ হল? এরপর কী? হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের পাশাপাশি ইরানে আবার হামলার চিন্তা ট্রাম্পের লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব সদস্যের পিতার ইন্তেকালে ক্লাব নেতৃবৃন্দের শোক কুষ্টিয়ায় দরবারে হামলা চালিয়ে পীরকে কুপিয়ে হত্যা, কী হয়েছিল সেখানে? ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ২১ ঘণ্টার আলোচনা ব্যর্থ : খারাপ খবর! ইরানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি: ভ্যান্স রোমে সুরঙ্গ খুঁড়ে বাংলাদেশি দোকানে চুরি 'আওয়ামী লীগ বাঁচাতে' শীর্ষ নেতাদের দেশে ফিরতে বলছে তৃণমূল কুয়েতে ইরানের হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার তথ্য গোপন করছে যুক্তরাষ্ট্র? মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমানের বহর পাঠাল পাকিস্তান, কেন?

ইলবার্ট বিল ও বর্তমান বাস্তবতা

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২০, ১২:২৯ এএম

ইলবার্ট বিল ও বর্তমান বাস্তবতা
ব্রিটিশ ভারতে বিতর্কিত ইলবার্ট বিল কেন লর্ড রিপনকে সংশোধন করতে হয়েছিল, তার পেছনেও আছে লজ্জাজনক ইতিহাস! ভাইসরয় লর্ড রিপন ভারতীয় ইতিহাসবিদদের নিকট যথেষ্ট সম্মানের পাত্র। তাঁর ১৮৮৪ সালে প্রবর্তন করা 'Local self Govt' অর্থাৎ স্বায়ত্তশাসন এখনও ভারতবর্ষে পঞ্চায়েতরাজ নামে সমধিক জনপ্রিয়। সেই লর্ড রিপন ১৮৮৩ সালে ইলবার্ট বিল এনে ভারতীয় ও ব্রিটিশ নাগরিকদের বিচারের ক্ষেত্রে "সমতা" আনতে চেয়েছিলেন। আগে কোনও ভারতীয় বিচারক কোনও ব্রিটিশ নাগরিকের(অভিযুক্তের) বিচার করার অধিকারী ছিলেন না! লর্ড রিপন ইলবার্ট বিলের মাধ্যমে আইন প্রণয়নপূর্বক সেই বৈষম্য দূর করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিলের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন ব্রিটিশ নাগরিকরা! বিশেষত, ব্রিটিশ মহিলারা! কারণ, ইতিপূর্বে কতিপয় ব্রিটিশ মহিলা কতিপয় ভারতীয় পুরুষদের দ্বারা বলাৎকারের শিকার হয়েছিলেন এবং তাঁরা আতঙ্কিত ছিলেন, বিলটি আইনে পরিণত হলে ভারতীয় বিচারকদের নিকট থেকে তাঁরা "ন্যায় বিচার" পাবেন না! ফলে, তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে লর্ড রিপনকে বিলে সংশোধনী আনতে হয়েছিল! সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ নাগরিকদের (অভিযুক্তদের) বিচারের ক্ষেত্রে জুরি বোর্ড গঠন করা হবে ও সেই বোর্ডে কমপক্ষে ৫০শতাংশ ব্রিটিশ সদস্য থাকতে হবে। ২৫ জানুয়ারি,১৮৮৪ সালে বিলটি লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে পাশ হয় ও ১লা মে,১৮৮৪ সালে তা কার্যকর হয়। এতে দেখা গেল যে, ব্রিটিশ শাসনেও এক শ্রেণির বিচারকের বিরুদ্ধে "পক্ষপাতিত্ব" করার অভিযোগ ওঠেছিল ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রনয়ণের সময় তা ভারতে বসবাসকারী ব্রিটিশ জনগণের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল! বর্তমান প্রেক্ষিতেও, অর্থাৎ বাবরি মসজিদ-রাম জন্মভূমি বিতর্কে গত বছর নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ ও গত কাল অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার, লক্ষ্ণৌয়ের বিশেষ সিবিআই আদালত যে রায় প্রদান করেছে, তাতে একটি জনগোষ্ঠী তীব্র অসন্তুষ্ট! বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবর্গ বিচারের নামে এই রায়কে "প্রহসন" বলে আখ্যায়িত করেছেন! "পক্ষপাতিত্ব"-এর অভিযোগে বিচারব্যবস্থার প্রতি একটি জনগোষ্ঠী যখন আস্থা হারাতে বসেছেন, তখন গুরুত্ব অনুসারে জুরি বোর্ড গঠন করে সেই বোর্ডে অন্তত ৫০ শতাংশ সদস্য সেই আস্থা হারানো মুসলিম জনগোষ্ঠী থেকে অন্তর্ভুক্তির দাবি কি অযৌক্তিক হবে? সাচার কমিশনের রিপোর্টে মুসলিমদের প্রতি অসাম্য ও বঞ্চনা নিরসনে সরকারি নিযুক্তির সময় ইন্টারভিউ বোর্ড/সিলেকশন বোর্ড, মুসলিম অধ্যুষিত থানা ইত্যাদিতে মুসলিম প্রতিনিধি রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ড০ মনমোহন সিং তাঁর পনেরো দফায় তা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বিভিন্ন সরকারি নিযুক্তির ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ বোর্ড/সিলেকশন বোর্ডে মুসলিম এক্সপার্ট, বিভিন্ন মুসলিম অধ্যুষিত থানায় কমপক্ষে একজন মুসলিম আধিকারিক রাখার ব্যবস্থা সেই পনেরো দফা কার্যসূচির অন্তর্ভুক্ত। তাই, কোনও বিচারাধীন মামলায় দুটি সম্প্রদায় যখন সরাসরি সংশ্লিষ্ট, তখন উভয় সম্প্রদায় থেকে সমসংখ্যক বিচারক-এর প্যানেল তৈরি করে বিচার কার্য সম্পন্ন করা হোক। প্যানেলের নিরপেক্ষতা রক্ষার লক্ষ্যে অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিও অন্তর্ভক্ত করা সময়ের দাবি। না-হলে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় "ন্যায়" থেকে এভাবেই বঞ্চিত হতে থাকবেন বার বার! ০১.১০.২০২০ বৃহস্পতিবার লেখক: কবি,গবেষক ও শিক্ষাবিদ । প্রকাশক, দৈনিক নববার্তা প্রসঙ্গ। করিমগঞ্জ। অসম। আরও পড়ুন: https://52banglatv.com/2020/09/22670/