কয়েকদিন পূর্বে জামায়াতে ইসলামীর একজন ত্যাগী নেতার সঙ্গে আমার দীর্ঘক্ষণ রাজনৈতিক বাদানুবাদ হলো। আলোচনার এক পর্যায়ে তাকে প্রশ্ন করলাম, বলুনতো আপনার দৃষ্টিতে আওয়ামী লীগের সফলতা কি? তিনি উত্তরে বললেন, ‘আওয়ামী লীগ নিজেদের মধ্যে রাখঢাক না করে আত্মসমালোচনা করে, নিজেরা বিভাজিতও হয় আবার সংকটকালে মূহুর্তে একীভূতও হয়ে যায়। যা অন্যেদের চেয়ে তাদের সাংগঠনিক শক্তিকে অধিকতর মহিমান্বিত করেছে।‘
তিনি আমার দৃষ্টিতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তির উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে আমি বললাম, ‘সংগঠনের কর্মীদের অধিকার সচেতনতা, যা সংগঠনকে চলার গতি নির্ণীত করে।‘ তিনি আমার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছিলেন।
কিন্তু, ইদানিং দেখছি. দেশব্যাপী কোটি কোটি আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকগণ সংগঠনের তৃণমূলে তাদের নিজ অধিকারের প্রশ্নে যেন আপোষ করেছে। বিষয়টি আমাকে ব্যথিত করছে। কারণ, তা গোটা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ক্ষতিকর বটে। কোথায় গেলো সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলসমূহের প্রার্থী মনোনয়নে তৃণমূল ভোটের বিরলজন্মা আনন্দ? আহ্লাদ? এখন দেখি সব দলেরই শীর্ষ নেতৃত্বের দয়ায়-কৃপায় এমপিত্ব মনোনয়নের কুসংস্কৃতি আবার গর্জে উঠছে।
যতো বড়ো নেতা হোননা কেন, সবার দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন কেবল একক বা ব্যক্তিসমষ্টির দয়া বা অনুকম্পার উপর আবারও নির্ভরশীল হওয়ার উপক্রম হচ্ছে।
সব দলে একই আওয়াজ। ‘যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার পক্ষে দলীয় কর্মীদের সমর্থন থাকতেই হবে!’ এর অর্থ দাড়ালো সৎ লোকের সাথে চোর, ছিনতাইকারী, দুর্ণীতিবাজ, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠনকারী, বিদেশে অর্থ পাচারকারী, ঋণখেলাপী, কালো টাকার মালিক, খুনি, সুদখোর, মাদক ব্যবসায়ী, ইয়াবার কারবারী, অস্ত্র ব্যবসায়ী, জমি দখলকারী প্রভৃতি নানা গুনে গুনান্বিত প্রথিতযষাদের দলীয় মনোনয়নেও আমাদেরকে চোঁখবুজে, মাথাগুজে সমর্থন জানাতে হবে। তাদেরকে এমপি বানাতে দিনরাত পরিশ্রম করতে হবে, পকেটের অর্থ খরচ করতে হবে। সর্বোপরি যেন দলীয় কর্মী হওয়ার অপরাধে, সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার অপরাধে সমস্ত বিবেক-মূল্যবোধকে কষ্ট করে বিসর্জন দিয়ে হলেও জেনে বুঝে কেবল দলীয় প্রার্থীতার খাতিরে আমরা একজন অসৎ মানুষকেও সমর্থন করতে বাধ্য থাকতে হবে।
অপ্রিয় বাস্তবতা হলো , একটি দলের-ও কোন কর্মীকে এ বিষয়ে মুখ খুলতে দেখছি না। দলের সমগ্র নেতাকর্মীদের জন্য আপনার এলাকার সর্বোৎকৃষ্ট ব্যক্তি বা নেতৃত্বকে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দানে দলীয় মনোনোয়ন প্রদানে নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে দলের সর্বোচ্চ ফোরামে সুপারিশের যে সুযোগ পেয়েছিলো বাংলার মানুষ; আজ তা হরণ করে নিচ্ছে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। যা ছিলো দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার। যা গণতন্ত্রকে তৃণমূল থেকে উচ্ছসিত ও বলিষ্ঠ করতে ছিলো উৎকৃষ্ট সহায়ক শক্তি- তাই যখন বলা নেই, কওয়া নেই উচ্ছিষ্ট হতে চলেছে- তখন এ বিষয়ে সকল রাজনৈতিক কর্মী নিস্তব্ধ! নিথর! যেন দলের ভিতর কর্মীদের অধিকার বলে কিছু নেই।
অবশ্য কেউ এ অধিকারের ধারও ধারে না। এ বিষয়ে আমাদের বোধদয় নেই। তবে কি
