ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি সাংবাদিকদের সামনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে তিনি তেহরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনিকে হত্যার ইঙ্গিতপূর্ণ হুমকিও দেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে পরিচালিত এই আকাশযুদ্ধে ইরানের শাসনব্যবস্থার ‘পতন নাও হতে পারে’।
টানা হামলায় ইরান ‘আর আগের মতো নেই’
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা টানা বোমাবর্ষণের ফলে ইরান ‘আর আগের মতো নেই’ বলে দাবি করেন নেতানিয়াহু। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের Islamic Revolutionary Guard Corps ও বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে Hezbollahর বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত রাখবে।
খামেনি নিহতের পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা
বার্তা সংস্থা Reuters জানায়, যুদ্ধের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা Ali Khameneiকে হত্যা করলে তার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলে হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। এর জবাবে এখন লেবাননে টানা বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে তেল আবিব।
আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মুজতাবা খামেনিকে দেশের সর্বোচ্চ নেতার পদে বসায় ইরানের সংবিধান অনুযায়ী গঠিত ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ।
ভিডিও লিংকে সংবাদ সম্মেলন
দুটি ইসরায়েলি পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন নেতানিয়াহু। তবে তিনি সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না; ভিডিও লিংকের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হন।
মুজতাবা খামেনি ও হিজবুল্লাহপ্রধান Naim Qassemর বিরুদ্ধে ইসরায়েল কী পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সন্ত্রাসী সংগঠনের কোনো নেতার জন্য জীবন বীমা নীতি নিতে পারছি না আমি। আমরা কী পরিকল্পনা করছি বা কী করতে যাচ্ছি সে বিষয়ে এখানে নির্ভুল প্রতিবেদন দেওয়ার ইচ্ছা নেই আমার।”
ইসরায়েলে চলছিল সাইরেন
নেতানিয়াহু যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখনও ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা হিসেবে সাইরেন বাজছিল।
ইসরায়েলের দাবি, তেহরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি তাদের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি। সেই হুমকি দূর করতেই ইরানের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তেল আবিব ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনও দেখতে চায় এবং আশা করছে, সরকারবিরোধীরা সামনে এসে দায়িত্ব নেবে।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভের লক্ষণ নেই
তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর প্রায় দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও ইরানে সরকারবিরোধী উল্লেখযোগ্য কোনো বিক্ষোভ দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। বরং প্রতিদিনই বহু শহরে সরকারপন্থিদের বড় বড় মিছিল-সমাবেশ হচ্ছে।
শাসকগোষ্ঠী দুর্বল থাকবে: নেতানিয়াহু
ইসরায়েল ইরানের বিরোধীদের অস্ত্র দিচ্ছে কিনা বা সরকার পতনের লক্ষ্য ব্যর্থ হতে পারে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, শাসকগোষ্ঠীর পতন না হলেও এবারের হামলার পর তারা ভয়ানক দুর্বল হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, “কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি তার বিস্তারিত বলব না। আমরা সেখানকার শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাতে সর্বোত্তম পরিস্থিতি সৃষ্টি করছি, তবে অস্বীকার করবো না—দেশটির জনগণ ওই শাসকদের উৎখাত করতে পারবেই এমনটা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না; শাসনব্যবস্থার পতন ভেতর থেকেই হয়। তবে আমরা সহায়তা করতে পারি, এবং করছিও।”