ঢাকা ২ চৈত্র ১৪৩২, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
ঢাকা ২ চৈত্র ১৪৩২, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রকাশ্যে গুলি: কলেজছাত্রকে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০২৬, ১১:৫১ পিএম

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রকাশ্যে গুলি: কলেজছাত্রকে হত্যা
নিহত রাকিব আহমেদ

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। রবিবার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত রাকিব আহমেদ (২৫) বোরহান উদ্দিন কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতেন।

রাকিবের গ্রামের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার চৌমুহনী গ্রামে। তার বাবার নাম তরিকুল ইসলাম খোকন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৈত্রী হলের কর্মী। রাকিব পরিবারের সঙ্গে নিমতলী নাজিম উদ্দিন রোড এলাকায় বসবাস করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে হঠাৎ এক যুবক শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে এলোপাতাড়ি চার রাউন্ড গুলি চালায়। এতে সেখানে থাকা এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। গুলির শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে উপস্থিত লোকজন হামলাকারী সন্দেহে এক যুবককে আটক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে হস্তান্তর করেন। প্রক্টরিয়াল টিম পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

ঘটনার পরপরই গুরুতর আহতাবস্থায় রাকিবুলকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, রাত ১০টার দিকে রাকিবুলকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, “ওখানে যা হয়েছে, তা আমরা এখন দেখছি। এখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ জড়িত নয়। যে গুলি করেছে এবং যে আহত হয়েছে, দুই জনই বাইরের। পুলিশ একজনকে আটক করেছে।”

আহত রাকিবকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জিএম ইশান বলেন, “রাতে তারা কয়েকজন বন্ধু শহীদ মিনারের পাশে আড্ডা দিচ্ছিল। হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ হয়। এগিয়ে গিয়ে দেখি ওই যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এরপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।”

হাসপাতালে আহতের বন্ধু মো. রনি বলেন, “রাতে রাকিবসহ কয়েকজন মেয়ে বন্ধু শহীদ মিনারের পাশে চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিল। এ সময় এক যুবক তাকে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ শুনে শহীদ মিনারের ওপরে গিয়ে দেখি রাকিব রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তার মাথায় গুলিবিদ্ধসহ শরীরের একাধিক স্থানে কোপানোর আঘাত রয়েছে। এরপর সেখানে থাকা লোকজন দৌড়ে একজনকে ধরে ফেলে। বর্তমানে সে শাহবাগ থানা হেফাজতে রয়েছে।”

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মিঠু ফকির বলেন, রাতে শহীদ মিনারে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন রাকিব। সেই সময় তিন থেকে চারজন ব্যক্তি তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে এবং তার মাথায় গুলি করে।