যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ৯৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার মিডিয়া দফতর। ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে আরও ২৩০ জন আহত হয়েছেন। খবর দিয়েছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
রবিবার এক বিবৃতিতে গাজার মিডিয়া দফতর জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী অন্তত ৮০ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে, গোলা নিক্ষেপ করেছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক এলাকায় আগুনের বলয় সৃষ্টি করেছে।
গাজা প্রশাসনের দাবি, এসব হামলায় ইসরায়েলি বাহিনী ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, দূরনিয়ন্ত্রিত টার্গেটিং ক্রেন, ড্রোন ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছে।
গাজার কোনও প্রদেশই এই হামলা থেকে রক্ষা পায়নি উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দখলদার বাহিনী যুদ্ধবিরতির অঙ্গীকার রক্ষা করেনি এবং আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত রেখেছে।
জাতিসংঘ ও যুদ্ধবিরতির গ্যারান্টর দেশগুলোর প্রতি অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে ওই বিবৃতিতে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত এক পরিকল্পনার ভিত্তিতে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে এই যুদ্ধবিরতি ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ধাপে ধাপে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার, বন্দি বিনিময় এবং ত্রাণ সহায়তা প্রবেশের কথা ছিল।
প্রায় দুই বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার আহত হয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে গাজার অধিকাংশ অবকাঠামো।