ঢাকা ২৩ মাঘ ১৪৩২, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা ২৩ মাঘ ১৪৩২, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সর্বশেষ
হোয়াইটচ্যাপেল স্পোর্টস সেন্টারে উদ্বোধন হলো নতুন সৌনা লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটির আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ রমজানে অফিস সময় নির্ধারণ ধানের শীষের প্রচারণায় আ’লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী র‍্যাবের নাম বদলে দিচ্ছে সরকার, নতুন নাম জানালো বিএনপির ‘শাঁখের করাত’ ৯২ বিদ্রোহী প্রার্থী বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে উত্তরা লেডিস ক্লাবে ক্যান্সার সচেতনতা সেমিনার অনুষ্ঠিত বিমানের এমডি স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার, আদালতের নির্দেশে কারাগারে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান নিয়ে ৮৩৭টি হত্যা মামলা, ৪৫৩টিতেই শেখ হাসিনা আসামী নারীবিদ্বেষী বক্তব্য শুধু নারীদের নয়, পুরো দেশের জন্যই কলঙ্ক: : তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে—খামেনির হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের এক্সের অ্যাকাউন্ট উদ্ধার, ৪৫ মিনিট সময় নিয়ে কেন সন্দেহ? জামায়াত আমিরের ‘নারী বিদ্বেষী’ পোস্ট ঘিরে উত্তাপ, বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল মুস্তাফিজ শফি দেশ রূপান্তরের সম্পাদকের দায়িত্ব নিলেন  ‘নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করার মধ্য দিয়ে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে’ জামায়াত আমিরের ‘নারীবিদ্বেষী’ পোস্ট: আইডি হ্যাকের দাবি কতটা যৌক্তিক, প্রশ্ন বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী রইল না হাসনাত আবদুল্লাহর, ঋণখেলাপিদের নিয়ে যা বললেন ঢাবিতে ছাত্রদলের মিছিল: ‘এমন হ্যাকার করলো হ্যাক, বেশ্যা ডেকে আইডি ব্যাক’ জামায়াত আমিরের এক্স ‘পোস্ট’ ঘিরে কেন এত আলোচনা টাওয়ার হ্যামলেটসে কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস সার্ভিস উদ্বোধন ভিসা ছাড়াই চীন ভ্রমণ করতে পারবে ব্রিটিশ নাগরিকরা : যুক্তরাজ্য-চীন ১০ চুক্তি ভোটের আগেই ৪ জনের প্রাণহানি, সারাদেশে ১৪৪ সহিংসতা গণভোট নিয়ে যত প্রশ্ন বিমানে ২০ হাজার টাকায় দেশে ফিরতে পারবেন সৌদি প্রবাসীরা রাজধানীতে প্রবাসীর শিশু সন্তান নিয়ে উধাও রিকশাচালক 'মহিলা সমাবেশ' স্থগিত করল জামায়াত, কারণ কী? 'নবীগঞ্জের ইতিকথা'র মোড়ক উন্মোচন বেশিরভাগ দেশই নারী নেতৃত্বকে ‘বাস্তবসম্মত মনে করে না’ : আল জাজিরার সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির প্রবাসীদের দাবিতে সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট বাঁচাতে বিএনপির উদ্যোগ ৬২টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী ৭২ জন

হরমুজ প্রণালী আদৌ বন্ধ করতে পারবে ইরান?

প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৫, ১০:৩৯ এএম

হরমুজ প্রণালী আদৌ বন্ধ করতে পারবে ইরান?
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বারবার আসছে- হরমুজ প্রণালীর প্রসঙ্গ। কারণ, ইরান হুমকি দিচ্ছে, আক্রান্ত হলে তারা এই প্রণালী বন্ধ করে দেবে। যেখান দিয়ে রপ্তানি হয় বিশ্বের ২০ ভাগেরও বেশি জ্বালানি তেল। এই প্রণালী বন্ধের হুমকি ইরান এই প্রথম দিচ্ছে না। জ্বালানি তেল রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একের পর এক নিষেধাজ্ঞার কারণে বিরক্ত হয়ে ২০১৮ সালে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসির তৎকালীন নৌ-ডিভিশনের কমান্ডার আলি রেজা বলেছিলেন, “যদি ইরান জ্বালানি তেল রপ্তানি করতে না পারে, তাহলে অন্য কোনো দেশও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল রপ্তানি করতে পারবে না।” প্রশ্ন হলো- ইরানের পক্ষে কী আদৌ হরমুজ প্রণালী অবরোধ করা সম্ভব? দেশটির নৌ শক্তির মূল্যায়ন করলে দেখা যায়, নিয়মিত নৌবাহিনীর অস্ত্র ভান্ডারে কিলোক্লাস, ফতেহ ক্লাসের মতো সাবমেরিন রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে ফ্রিগেট করভেট ও মাইন-লেয়ার জাহাজ। যা উপসাগরের যেকোনো আঞ্চলিক নৌ-শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম। কিন্তু হরমুজ প্রণালী বন্ধের জন্য ইরানের সবচেয়ে বড় ‘পাশার দান’ আইআরজিসির অধীনে পরিচালিত সমান্তরাল নৌ-শক্তি। আইআরজিসির নৌ-ডিভিশনের কাছে- ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে সক্ষম হাজার হাজার দ্রুতগতির আক্রমণাত্মক বোট, আত্মঘাতি ড্রোন, জলসীমাভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও নেভাল মাইন। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ওয়্যার কলেজের অধ্যাপক জেমস ক্রাসকার মতে সরু হরমুজ প্রণালী বন্ধ করাটা ইরানের জন্য অনেক সহজ। তিনি দ্য ডিপ্লোম্যাটকে বলেন, “হরমুজ প্রণালী বন্ধ করতে ইরানের যুদ্ধের জেতারও কোনো দরকার নেই। তারা কেবল আতঙ্ক সৃষ্টি করে বাণিজ্যিক জাহাজের ইন্স্যুরেন্স ব্যয় বাড়িয়ে দিলেই হবে।” জেমস ক্রাসকার বক্তব্যে স্পষ্ট, হরমুজ পুরোপুরি সামরিকভাবে অবরুদ্ধ করার প্রয়োজন নেই, বরং সেখানে কিছু মাইন ফেলা, কয়েকটি আক্রমণ চালানো, অথবা রাডার গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে জাহাজ লক্ষ্য করা হলেই আন্তর্জাতিক তেলবাহী ট্যাংকার কোম্পানিগুলো নিরাপত্তা ও বীমা খরচের কারণে পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে। ইরানের এই সক্ষমতা বাস্তবায়নে রয়েছে কিছু বড় প্রতিবন্ধকতা প্রথমত, বাহরাইনে অবস্থান করা যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহর ইরানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়তে পারে। মার্কিন সেনারা নৌ ও বিমান শক্তি দিয়ে ইরানের যেকোনো আক্রমণের জবাব দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। দ্বিতীয়ত, এই প্রণালীর ৩৩ কিমি প্রশস্ত জলপথে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের অধিকার রয়েছে, যা বন্ধ করলে ইরান নিজেই আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের লঙ্ঘনকারী হিসেবে বিবেচিত হবে। যদিও যুদ্ধকালীন সময়ে তেহরান আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করার কথা নয়। তৃতীয়ত, হরমুজ বন্ধ করার চেষ্টায় ইরান সাময়িক সুবিধা পেলেও, এতে তাদের নিজেদের অর্থনীতিতেই ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া পড়বে, কারণ তেল রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংশ আসে এই রুট দিয়েই। প্রতিরোধের মুখে অবরোধ ধরে রাখা কঠিন ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিআইএ) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, “প্রাথমিকভাবে নেভাল মাইন, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ছোটো বোট, জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার সামরিক সক্ষমতা ইরানের আছে। যাই হোক, দৃঢ় সামরিক প্রতিরোধের মুখে তারা এটা ধরে রাখতে সক্ষম হবে না।“ তবে ডিআইএর প্রতিবেদনটা করা হয়েছে ২০১২ সালে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান এর থেকেও অনেক বেশি শক্তিশালী দেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান তাদের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা শক্তিকে আরও আধুনিক করেছে। তাদের হাতে রয়েছে নুর, ঘাদের ও খালিজ ফারসের মতো দীর্ঘপাল্লার জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। যা উপকূল থেকে সমুদ্রের গভীরে থাকা জাহাজকে লক্ষ্য করতে সক্ষম। ইরান এখন হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ তীরে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিও গড়ে তুলেছে, যা ভূগর্ভস্থ। স্যাটেলাইট চিত্রে সীমিতভাবে দৃশ্যমান। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা সৌদি আরবের স্বার্থে সরাসরি আঘাত হানবে। ফলে দেশটির নৌবাহিনীকে জোরালো পদক্ষেপ নিতে দেখা যেতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো, যদিও ইরান এই প্রণালীতে যুদ্ধকালীন বিঘ্ন সৃষ্টি করতে সক্ষম, তথাপি দীর্ঘ সময় ধরে একে পুরোপুরি বন্ধ রাখা কৌশলগত ও রাজনৈতিকভাবে অসম্ভব। কারণ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব ও আরব উপসাগরীয় মিত্ররা এমন একটি পরিস্থিতিতে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। উপরন্তু, এই ধরনের পদক্ষেপ ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন হারানো এবং আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণ হতে পারে। সুতরাং, বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে ও সামরিক সক্ষমতার নিরিখে বলা যায়, ইরান হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বিঘ্নিত করতে সক্ষম, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা বন্ধ রাখার মতো সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষমতা তার নেই। তবে যে কোনো উত্তেজনার সময় এই অঞ্চলে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা ও বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য ও বিরোধী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ইরানের কাছে এটি ‘কার্যকর উপাদান’ হিসেবে এখনও আছে।