প্রায় দুই দিন কোমায় থেকে অবশেষে মুত্যুর কাছে হার মেনেছেন হাইড শহরের পরিচিত কমিউনিটি একটিভিস্ট এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী হেদায়েতুল ইসলাম নওয়াব মিয়া (৫৩)।রবিবার (১০ জানুয়ারী) সন্ধ্যা ৪.৩০মিনিটের সময় তিনি গ্রেটার ম্যানচেষ্টারের সলফোর্ড হাসপাতালে মৃত্যুবরন করেন ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
গত ৮ জানুয়ারী রাত আনুমানকি সাড়ে নয়টার সময় তিনি তাঁর রেষ্টুরেন্ট থেকে খাবার ডেলিভারী করতে গেলে দুস্কৃতকারীদের আক্রমণের শিকার হন। স্টকপোর্টের হেজেলে এভিনিউ’র একটা বাসায় খাবার ডেলিভারী করাকালীন সময়ে তাঁর মার্সিডিজ গাড়িটির ইন্জিন চালু ছিল। এসময় দুস্কৃতকারীরা গাড়িটা নিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে তিনি বাঁধা দেন ।
এসময়ে তারা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং তিনি মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। ডেভিড স্পীড নামের প্রত্যক্ষদর্শী, যার বাসায় নওয়াব খাবার ডেলিভারী করতে গিয়েছিলেন তিনি জানান, তাঁর দরজায় বেল বাজার পর তিনি ‘না না’ আওয়াজ শোনেন এবং নওয়াবকে তার গাড়ির দিকে দৌড়াতে দেখেন । নওয়াব প্যাসেন্জার আসনের জানালায় ধরে আটকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করেন । এসময় দুস্কৃতকারীরা গাড়ি দ্রুত চালালে তিনি ধাক্কা খেয়ে পড়ে যান এবং মাথায় মারাত্নকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন ।
এরপর দুস্কৃতকারীরা তাঁকে রাস্তার মাঝে ফেলে সিলভার রং এর মার্সিডিজটি নিয়ে দ্রুত চলে যায় । হেজেল এভিনিউর অন্যান্য নেইবাররাও এসময় এগিয়ে আসেন এবং নওয়াবের রেষ্টুরেন্টসহ পুলিশ-এম্বুলেন্সের সাথে যোগাযোগ করেন।সলফোর্ড হাসপাতালে প্রথম থেকেই তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষনে ছিলেন ।
এ হামলার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে ১৪ বছরের এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ ।
হেদায়েতুল ইসলাম (নওয়াব মিয়া) হাইড শহরের নিউটন এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করে আসছেন । তিনি ছিলেন হাইড মসজিদ কমিটির সাবেক সাধারন সম্পাদক ।নওয়াব মিয়ার দুই ছেলে ও এক মেয়ে এবং তাঁদের দেশের বাড়ি সিলেটের উসমানি নগর থানার মাধবপুর গ্রামে।