বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
https://blu-ray.world/ download movies
সর্বশেষ সংবাদ
মেহেদীর রং মোছার আগেই নববধূর আত্মহত্যা  » «   বিয়ানীবাজার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে’র শেওলা ইউনিয়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ  » «   শুভ জন্মদিন ‘হার ম্যাজেস্টি  দ্যা কুইন’    » «   ৫২বাংলা- কোরআনের আলো 【3】  » «   ডুমুরিয়ায় বেগুন চাষ করে স্বাবলম্বী কৃষক  » «   গোসলের ভিডিও ধারণ নিয়ে কথা কাটাকাটি: ভাতিজার হাতে প্রাণ গেল চাচীর  » «   হেফাজত নেতাকর্মীদের মিছিলে বাধা: ওসিসহ ৭ পুলিশ আহত  » «   ইষ্টহ্যান্ডসের রমজান সহায়তা পেলো মৌলভীবাজারের ১২৫ পরিবার  » «   বিয়ানীবাজার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ইউকে’র দুবাগ ইউনিয়নে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ  » «   ২৪ শে এপ্রিল দুপুর ২টায় দবির চাচার সঙ্গে হাঁটুন  » «   অর্থমন্ত্রীর বড় জামাতা লন্ডনে মারা গেছেন  » «   কুয়েত-লন্ডন রুটে কুয়েত এয়ারওয়েজ শীঘ্রই ফ্লাইট পরিচালনা করবে  » «   বড়লেখায় লকডাউন কার্যকরে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযান  » «   ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তিন প্রবাসীর  » «   ইতালীতে রমজানে মসজিদে নেই কোন আয়োজন,ব্যবসায়ীরা আছে সংকটে  » «  

বাংলাদেশে নারী উন্নয়নে শিক্ষার ভূমিকা



সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 101
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    101
    Shares

নিজের উদ্যমে ও শক্তিতে নিজেকে মুক্ত না করিলে অন্যে মুক্তি দিতে পারেনা । অন্যে যেটাকে মুক্তি বলিয়া উপস্থিত করে সেটা বন্ধনেরই অন্যমূর্তি -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

সমাজে সবচেয়ে শক্তিশালী অনুশাসন হচ্ছে পুরুষতন্ত্র । পুরুষতন্ত্রের ক্ষমতা জাল নারীকে পুরুষের অধীন করে রেখেছে যুগ যুগ ধরে, পুরুষের অসীম ক্ষমতা বলে, নারীকে করেছে ক্ষমতাহীন । নারী উন্নয়নের তাৎপর্য শিক্ষার ফলে পুরুষতন্ত্রের আধিপত্যের প্রতিবাদ করা এবং প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার অর্জন করা । নারীর উন্নয়ন নারীর সর্বাঙ্গীন আত্মসচেতনতারই একটা অংশ।

বিস্ময়কর ক্ষমতার অধিকারী নারী ও শরীর থেকে উৎপাদন করে আরেক জীবন। প্রাথমিক খাদ্যের যোগান দেয়। নারীই পুরুষের পাশাপাশি দক্ষতার সঙ্গে সব কাজ সম্পন্ন করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় সিন্ধান্ত নিতে পারে। নারী দেশের অর্ধেক নাগরিক, অর্ধেক মানব সম্পদ। সেই জন গোষ্ঠী কে নিষ্পেষিত ও দুর্বল রেখে জাতি কখনোই সবল হতেপারেনা। কবি নজরুলের কবিতায় রয়েছে, বিশ্বে যা –কিছু মহা ন্সৃষ্টি  চির –কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।

নারী-পুরুষের সম্মিলিত ভাবনায় দেশ যেমন এগিয়ে যাবে তেমনি দেশের উন্নয়নে নারীদের সুপ্ত মানবীয় উপাদান গুলো কে জাগ্রত করাও বিশ্বশক্তি স্থাপনের দায়িত্ব বোধ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির করার ক্ষেত্রে অবদান রাখবে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ও নারীর উন্নয়নে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। নেপোলিয়ান বোনাপোর্ট এর চিরস্মরণীয় উক্তিটি আমরা জানি, আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে শিক্ষিত জাতি দিব। একজন শিক্ষিত নারী একটি পরিবার কে শিক্ষিত করতে পারে। পৃথিবীর অর্ধেক জন সমষ্টি নারী।

সমাজে মুক্ত চিন্তা এবং জীবনমুখী,

বস্তুনিষ্ঠ ও ইতিবাচক দৃষ্টি ভঙ্গির বিকাশ ঘটানো সম্ভব। কালের পরিক্রমায় নারী শিক্ষার গুরুত্ব অনস্বীকার্য হয়ে উঠেছে বর্তমানে। নারী শিক্ষার প্রসার ঘটেছে উদারতার, সুবিবেচনার জন্য নয় , প্রতীচ্য সমাজের প্রতি অনুরাগ, শ্রদ্ধা ও তার অনুকরণ –অনুসরণ প্রবণতা থেকেই। নারী শিক্ষা বিনা প্রচারেই ক্রম প্রসার লাভ করতে থাকে অতি মন্থর গতিতে । সমাজ নারী চরিত্রের ভাবমূর্তিতা কে নির্ভরশীল, পর মুখাপেক্ষী, সংসারে ক্লান্তিহীন শ্রমদানকারী চরিত্র হিসেবে চিত্রিত করে। নারীরা গৃহস্থালী কর্মকান্ডে, গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতি, উৎপাদনশীলতায় নারীর ভূমিকা মূল্যায়ন হয় না। নারীর শ্রমদানের স্বীকৃতি আসেনা কারণ ব্যয়িত শ্রম সরাসরি টাকায় রূপান্তরিত হয়না। বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে, নারীর ভূমিকা অতুলনীয়। দারিদ্য ও পরিবেশগত চাপে নারী গৃহের বাইরে জীবিকার জন্য বের হচ্ছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে, শহরের নির্মাণ শিল্প ও দিনমজুর হিসেবে নারী উপার্জন এর মাধ্যমে পরিবারের অন্ন সংস্থান করেন। ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রপ্তানি শিল্পে জাতীয় অর্থনীতির ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন।

সমাজে নারীদের শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, কর্মসংস্থান সম্পর্কে সচেতন করা সম্ভব। বাংলাদেশে ব্যপক অশিক্ষা ,অভাব ও অস্বাস্থ্যের কুফলের শিকার অধিকতর শিকার নারী। সমাজ কাঠামোর প্রতিটি স্তরে নারী অধিকতর হারে দুর্ভোগের শিকার হন। নারীর উন্নয়নের উদ্দেশ্য হচ্ছে নারীর সমস্যা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, আইনগত, পরিবেশগত সার্বিক অস্তিত্বে পশ্চাৎপদ অবস্থান এর নিরসন ঘটানো, স্বকীয় ব্যক্তিত্বের প্রতিশ্রদ্ধা ও অবদানের স্বীকৃতি এবং পরিবর্তন প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর সক্রিয় অংশ গ্রহণ নিশ্চিতকরণ। মূলত, নারীর উন্নয়ন হচ্ছে অর্থনৈতিক, আইনগত এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা। নারীর উন্নয়নের মুখ্য উদ্দেশ্য শুধু নারীর শক্তিকে সঞ্চায়নই নয়। নারীর উন্নয়ন সুষম ও সুসামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন প্রক্রিয়ার বিকাশ ঘটানোর মাধ্যম। নারীর উন্নয়ন ধারাকেপ্রবহমান ও কার্যকররাখতেহলেউন্নয়নমডেল ও পক্রিয়ায় সমাজের সকল নারীর অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। নারীর স্বার্থ ও সমস্যা কে জাতির স্বার্থ এবং সমস্যার অখন্ড অংশ হিসেবে দেখা ও নারী উন্নয়ন পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য মাত্রা হিসেবে গ্রহণকরার পক্ষে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সার্বিক ভাবে সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করতে হবে। নারীর উন্নয়ন হলে সুফল পরিবারের সদস্যদের ওপর বর্তায় এবং সার্বিক ভাবে পরিবারের পরিবারের চাহিদা পূরণ এবং জীবনের গুণগত মান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা অধিক থাকে। নারীর সবল ও সচেতন অস্তিত্বের বিকাশ। সাধারণত, নারীর উন্নয়ন নারীর সুপ্ত প্রতিভা, সম্ভাবনার পূর্ণবিকাশের সুযোগ এবং নারীর জীবনের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী সিদ্ধান্ত সমূহে অংশগ্রহনের সুযোগ। নারীর স্বনির্ভর হওয়ার যা আছে তাতে বেসরকারি পর্যায়ে স্বনিয়োজিত কর্মে নারীর অংশ গ্রহণের সুযোগ বেশি। নারীর উন্নয়ন শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে নারীর ভেতর কার শক্তি জাগিয়ে তোলায় সচেষ্ট হওয়া। নারীর ভগ্নস্বাস্থ্য ,নিরক্ষরতা এবং দারিদ্র্য দূরীকরণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। এছাড়া, স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং শিক্ষা সহ সামগ্রিক ভাবে নারীর কল্যাণের ব্যবস্থাকে উন্নতকরা। এদেশের সমাজের উ্ন্নয়নে নারীরা যাতে পুরোপুরি ভাবে অংশ নিতে পারে, সে ভাবেই উৎসাহ ব্যঞ্জক শিক্ষা নিতে পারে সামাজিক নীতি কৌশল গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হলে নারীর উন্নয়নে শিক্ষার ভূমিকা জোরদার ও সম প্রসারিত হতেপারে। স্বাস্থ্য পরিচর্য, শিক্ষা এবং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মতৎপরতা এবং সম্পত্তির ক্ষেত্রে কোন ধরনের বৈষম্য না করা হয় সে উদ্দেশ্যে বিশেষ বিশেষ শিক্ষা এবং তথ্য প্রচারের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের সকল স্তরের নারী যৌনতা, প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, শিশু প্রতিপালন, গৃহকর্মসহ পরিবার ও সমাজের সকল ক্ষেত্রে সচেতনতসহ উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে। বিশেষ ভাবে, নারী উন্নয়ন হল নারীরা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পূণাঙ্গ অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে নারীর মৌলিক অধিকার সমন্ধে নারী জনগোষ্ঠির উন্নয়ন করা সম্ভব। এছাড়াও নারীদের শিক্ষার হার বৃদ্ধি, ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করা, সুন্দর পরিবেশ পাওয়া, এ বিষয়ে প্রচার বৃদ্ধি, নারীদের উৎসাহ ও সচেতনতা বৃদ্ধিকরা, মেয়েরা স্বনির্ভর হওয়া, রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমাজ তথা বাংলাদেশের নারী সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেপারবে।

নারী জাতিকে শিক্ষিত, যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন শিক্ষার ব্যাপক প্রসাড় ঘটানো, যাতে করে যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে পুরুষের ন্যায় সকল স্তরে সব বাধা- বিপত্তি দূর করে সমাজ তথা রাষ্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, আর এ ধরনের নির্যাতন থেকে উপশম ঘটানোর যা করা আবশ্যিক ও জরুরি হচ্ছে শিক্ষিত, স্বল্প শিক্ষিত, স্বাক্ষর, নিরক্ষর নারীদের বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণ দিয়ে কিংবা কায়িক শ্রমে জীবিকার্জনে সমর্থ করে তুলতে হবে ।নারীর বিভিন্ন ভাবে কর্ম ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হচ্ছে। নার্স, সেলসগার্ল, নারী গার্মেন্টস শ্রমিক, নারী নির্মাণ শ্রমিক, গৃহপরিচারিকা থেকে শুরু করে পেশাগত নারী ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ম্যাজিস্টেট, আইনজীবি ও মানুষ গড়ার কারিগড় শিক্ষক পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রে চরম ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। এ হয়রানির বিরুদ্ধে নারী জাতিকে রুখে দাড়াতে হবে। তখনই নারী জাতির সত্যিকার অর্থে শিক্ষার আলো সঠিকভাবে পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রে সকল স্তরে নারী জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

নারী শিক্ষা প্রদানকরা ও নারীকে যেকোন কাজে প্রশিক্ষণ ও প্রেরণা প্রবর্তনা দেয়া সরকারের, রাজনৈতিক দলের এবং সাধারণভাবে সর্বশ্রেণীর সমাজসেবী ও বুদ্ধিজীবির আবশ্যিক নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য বলা যায়। নারী জাতির মন কেতাদের কথায় – কাজে, লেখায়- গানে-সুরে,কীর্তি- কৃতি- আচরণে প্রভাবিত করতেপারেন, আমাদের চিত্ত জয় করেন, তারাই কেবল স্থানিক, কালিক, আঞ্চলিক, জাতিক, সাম্প্রদায়িক, গৌত্রিক কিংবা বৈশ্বিক ও চিরকালীন হয়ে অমাদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মন্তরে স্মরণীয় হয়ে থাকেন। তিনি হলেন লেখিকা, সমাজ সংস্কারক, নারীর অবরোধ ও অবগুণ্ঠন মুক্তি আর শিক্ষা প্রচারক, নারীর স্বাধীনতা ও স্বাধীকার প্রতিষ্ঠার স্বাপ্নিক, নারীকে স্বনির্ভর- স্বয়ম্ভর করার প্রয়াসী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। তার অনুপ্রেরণায় নারী সমাজ পরিবার, সমাজ ,রাষ্ট্রের সকল অবরোধ থেকে বেরিয়ে শিক্ষার আলো গ্রহণ করে নারী জাতির জীবনবোধ, চিন্তা- চেতনা, দর্শন পরিবরতন করে সমাজের সকল স্তরে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে নারীর উন্নয়নের পথকে কল্যাণকর ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে নারী উন্নয়নে শিক্ষা ব্যপক ভাবে ভূমিকা রাখা নারী জাতিকে মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তাই বলা যায় যে্, একুশ শতক হয়ে উঠবে নারী উন্নয়নে সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা স্বপ্ন, যা বাংলা নারী সমাজ প্রাণে লালন করে সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখে।

লেখক:  প্রভাষক, সমাজকল্যাণ, পুবাইল কলেজ, গাজীপুর,ঢাকা।

 

 

 

 

 

 

 


সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 101
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    101
    Shares

"এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত ও লেখার দায় লেখকের একান্তই নিজস্ব " -সম্পাদক