ঢাকা ৮ বৈশাখ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা ৮ বৈশাখ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ
বিদ্যুৎ ও ডিজেল সংকট, সারা দেশে সেচ পাম্প বন্ধ, কৃষকদের হাহাকার মার্কিন অবরোধ তুলতে পাকিস্তানের উদ্যোগ, আলোচনায় বসার ইঙ্গিত ইরানের বাংলা প্রেসক্লাব বার্মিংহামের নতুন কমিটি: সভাপতি জিয়া, সম্পাদক আতিকুর মৌলভীবাজার ইনসানিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার উদ্বোধন সংরক্ষিত নারী আসন : বিএনপির এমপি হলেন যারা ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের, আলোচনায় বসতে নারাজ তেহরান ইরানের জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র, প্রতিশোধের হুমকি তেহরানের যুক্তরাজ্যে ঈদে ছুটির দাবিতে আলতাব আলী পার্কে সমাবেশ ১১ মে এবার হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা ইরানের আমেরিকার নজর ইরানে, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া যেকোনো মুহূর্তে আবারও যুদ্ধ, দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আগেই চূড়ান্ত রূপরেখা চায় ইরান টাওয়ার হ্যামলেটস নির্বাচন : লেবার মেয়র প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের ২৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা ‘আমরা নারী’ ও ‘ইউনিকো হসপিটালস পিএলসি’-এর মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অবরোধ না তুললে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের বিএনপির কাউন্সিল : দলপ্রধানের পদ ছাড়ছেন তারেক রহমান? ইসরায়েল ও লেবাননের ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি: ‘ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি’ কী হবে? যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে বাংলাদেশিরা যা করছে : নাস্তিকতার ভান, সমকামী সাজছেন / বিবিসি’র অনুসন্ধান জিয়ার হাতে ধানের শীষ তুলে দেন ভাসানী, তারেক রহমানের বক্তব্য নিয়ে মাঠ গরম করছে কারা? তেল রপ্তানি ছাড়াই দুই মাস কাটিয়ে দিতে পারবে ইরান তুতসি গণহত্যা নিয়ে ইউনেসকোর রাউন্ড টেবিল আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজারের বেশি সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র স্পেনে বাংলাদেশিসহ নথিহীন ৫ লাখ অভিবাসীর বৈধ হওয়ার সুযোগ মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ইরান ছাড়তে পারছে না তেলের ট্যাংকার ইরান যুদ্ধ বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে? সিলেটের মেয়ে কানাডার এমপি হলেন ট্রাভেল পাস নিতে গিয়ে না ফেরার দেশে প্রবাসী অরুণ বিতর্কের মধ্যেও ‘মঙ্গল’ থাকছে—বর্ষবরণের নানা আয়োজনে মেয়র লুৎফুর রহমান ও এসপায়ার পার্টির নির্বাচনী ক্যাম্পেইন উদ্বোধন স্বাধীনতা দিবসে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের 'একাত্তরের গল্প' অনুষ্ঠান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা কেন ব্যর্থ হল? এরপর কী?

'করোনা'র অর্থনৈতিক প্রভাব

প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২০, ০৪:১০ এএম

'করোনা'র অর্থনৈতিক প্রভাব
মানব জাতির অদৃশ্য শত্রু করোনা ভাইরাস সম্পর্কে প্রায় সমগ্র বিশ্বের মানুষ এখন ওয়াকিবহাল! আমেরিকার দুর্দণ্ডপ্রতাপ রাষ্ট্রপতির নাম যেমন বিশ্বের শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে অনেকেই জানেন, তেমনই, জানেন এই মারণরোগের নাম! অর্থাৎ সাধারণত মানুষ সে-সকল ব্যক্তি, বস্তু, সংগঠন, রাষ্ট্র ও রোগের নাম মনে রাখতে বাধ্য, যার যার দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার তথা প্রাণনাশের আশঙ্কা আছে! আমেরিকার বর্তমান রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভূতপূর্ব দুই রাষ্ট্রপতি যথাক্রমে সিনিয়র জর্জ বুশ ও জুনিয়র জর্জ বুশের নাম জানেন না, এরকম লোক কমই আছেন! অথচ, আমেরিকার প্রথম রাষ্ট্রপতি জর্জ ওয়াশিংটন-এর নাম সকল শিক্ষিত ব্যক্তিও জানেন কি না, সন্দেহ আছে! আব্রাহাম লিঙ্কনের নাম রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র ছাড়া সর্বস্তরের জনগণের মনে আছে কি না, সমীক্ষা করে জানতে হবে! কথায় আছে, বেশিরভাগ মানুষই শক্তের ভক্ত! নরমের যম! করোনা ভাইরাসও আমেরিকার বর্তমান রাষ্ট্রপতির মতোই দুর্দণ্ডপ্রতাপশালী! বিশ্বের দেড় শতাধিক দেশে ইতিমধ্যে তার 'উপনিবেশ' কায়েম করতে সক্ষম হয়েছে সন্তর্পণে! আর এক শ্রেণির স্বার্থপর মানুষ সেই শত্রুকেই কোলে-পিঠে করে বয়ে নিয়ে আসছেন যার যার হেঁশেল পর্যন্ত! উপসাগরীয় যুদ্ধে যেভাবে সৌদি আরব সরকার আমেরিকার সৈন্যকে সৌদি আরবে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়েছিল! সেভাবেই কিছুসংখ্যক ব্যক্তি করোনা ভাইরাসকে নিজের মধ্যে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন! কিন্তু কাল যে এই শত্রু তার আসল রূপ দেখাবে, সে-ব্যাপারে নিতান্তই অজ্ঞ! মারণ-ব্যাধী এই করোনা ভাইরাস একটি মানব-সৃষ্ট জীবাণু বলে মনে করছেন কেউ কেউ।ভিত্তি মজবুত না হলেও চিনের উহান শহরের গোপন গবেষণাগারে যার জন্ম ও বিস্তার, এ ধারনাও কারো কারো। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে গত তিনটি দশক ধরে সকলের অলক্ষ্যে নিজেদের পরাক্রমশালী একটি শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছিল চিন! বিশ্বের বিভিন্ন জ্বলন্ত সমস্যা, যেমন, দু দুটি উপসাগরীয় যুদ্ধ, আফগান যুদ্ধ, ফিলিস্তিন সমস্যাসহ কোনও ব্যাপারেই নাক গলাতে দেখা যায়নি চিনকে! তারা তাদের শক্তির 'অপচয়' করতে চায়নি বিশেষ কোনও ইস্যুতে সমর্থন প্রদানের মাধ্যমে! মাঝে-মধ্যে ভারতীয় সীমান্তে অনধিকার প্রবেশ ও দুটি যুদ্ধ বাদ দিলে, বলা যায়, তারা তাদের শক্তিকে সুসংহত করে যাচ্ছিল নিরবচ্ছিন্নভাবে! ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষের মূল কারণ ছিল, প্রতিবেশীর ভূমি জবরদখলের কূট-কৌশল! গত এক দশক ধরে চিন একটি পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছিল আমেরিকার প্রতিস্পর্ধী শক্তি হিসেবে! আর সেই প্রতিযোগিতা সরাসরি রণাঙ্গণে নয়; বিশ্ববাজারে! অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র আবিষ্কার ও বাণিজ্যিকভাবে তার উৎপাদনের মাধ্যমে বিশ্বের অর্থনীতিতে ক্রমে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে চিন! জনসম্পদে ভরপুর চিন অত্যধিক শ্রম দেয়ার দরুন বিশ্ববাজারকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। আমেরিকা যে পণ্য এক হাজার ডলারে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে মনোপলি করত, সেখানে, চিন একই পণ্য আমেরিকার চেয়ে অর্ধেকের চেয়ে কম মূল্যে বাজারজাত করতে সক্ষম! ধরা যাক, এমআই মোবাইল সেটের কথা-ই। আমেরিকা একই বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি মোবাইল সেট যে-দামে বিক্রি করতে সক্ষম, চিন তার চেয়ে ঢের কম দামে তা বিক্রি করতে সক্ষম! ফলে, স্বভাবতই আমেরিকার পণ্যের চেয়ে চিনের পণ্য তুলনামূলক অনেক বেশি বিক্রি হচ্ছে! তা ছাড়া, প্রবাদ অনুযায়ী, 'আলপিন টু এলিফ্যান্ট' সব পণ্যই উৎপাদন তথা 'নকল' করার মতো অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে চিনারা! মুসলিমদের মাথার টুপি হোক আর হিন্দুদের কালীপুজোর বাজি-পটকা-ই হোক, সুলভ মূল্যে বিক্রি করার মতো বাজার তারা ইতিপূর্বে তৈরি করে নিয়েছে! কিন্তু করোনা জীবাণু দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন দেশে চিনের প্রতি ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিনাদের আর 'বিশ্বাস' করতে পারছেন না অনেকেই! যেখানে যেখানে চিনাদের দেখছেন, লোকজন তাড়া করছেন! এই বুঝি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ করতে আসছে! ফলে, গত তিন দশকের প্রচেষ্টায় তরতরিয়ে যে অর্থনীতি বা জিডিপি ঊর্ধ্বগতি লাভ করেছিল, এক করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ তা ধপাস করে নীচে নামিয়ে আনতে পারে। এ তো গেল শুধু চিনের আর্থিক ক্ষতি! সেই ক্ষতি আবার পুষিয়ে নিতে তারা যে প্রাণ-পণ চেষ্টা চালাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না! কিন্তু, ভারতবাসীর কী হবে! দোকানপাট বন্ধ! ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ! উৎপাদন বন্ধ! বিদেশে যারা চাকরি করছেন, তাঁরাও গৃহবন্দি! বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারছেন না! একমাত্র যাঁরা সরকারি কর্মচারী, তাঁরা স্কুল-কলেজে-বিশ্ববিদ্যালয়ে না-গিয়ে, কার্যালয়ে না-গিয়ে বেতন পাবেন! কিন্তু যাঁরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, অথচ উৎপাদন বন্ধ, তাঁদের কী হবে? সংগঠিত বা অসংগঠিত শ্রমিক, যাঁরা কর্মস্থলে যেতে পারছেন না বা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, তাঁদের অন্নের সংস্থান কীভাবে হবে? বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ভাড়াটেদের মার্চ মাসের ভাড়া মকুব করেছেন অনেক ঘর-মালিক। কানাডাসহ একাধিক রাষ্ট্র-প্রধানগণ সে-সব দেশের সর্বস্তরের জনগণের অন্নের সংস্থানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় যাবতীয় পণ্য বিনামূল্য আবাসিকদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এমনকী পশ্চিমবঙ্গ সরকারও জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে! অসম সরকার তথা কেন্দ্রীয় সরকারকেও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। সরকার সর্বস্তরের জনগণকে ভরসা দিলে, সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে, জনগণও এক দিনের স্থলে এক সপ্তাহ বা এক মাস পর্যন্ত জনতাকার্ফু অব্যাহত রাখতে এগিয়ে আসবেন, নিশ্চিত। সরকারের শুকনো আবেদনে জনগণের রুটি যখন ভিজবে না, তখন সবই কেঁচে গণ্ডুষ হতে বাধ্য! করোনা শুধু প্রাণই কেড়ে নিচ্ছে না; মানুষের সাজানো সংসার তছনছ করে দিচ্ছে! ইতালি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ডের মতো 'উন্নত দেশ' বলে কথিত রাষ্ট্রগুলোতে এখন রীতিমতো লাশের মিছিল! ইরানে গণকবর খোঁড়ে সমাধিস্থ করা হচ্ছে লাশ! প্রধানমন্ত্রী এক দিনের জন্য জনতা কার্ফু ঘোষণা করেছেন। এক দিন যথেষ্ট নয়, বৃদ্ধি করতে হবে আগামী এক সপ্তাহের জন্য। সঙ্গে জনগণের অন্নের সংস্থানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ারও ব্যবস্থা করতে হবে। দেশবাসী সরকারের মানবিক রূপটি দেখতে চান। রাজনৈতিক চেহারা নয়।