ঢাকা ৫ ফাল্গুন ১৪৩২, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা ৫ ফাল্গুন ১৪৩২, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সর্বশেষ
রেমিটেন্স যোদ্ধাদের বার্তা দিলেন প্রবাসী মন্ত্রী নুর বিসিবির নতুন প্রধান নির্বাচক হচ্ছেন হাবিবুল বাশার যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জানালেন মির্জা ফখরুল স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে যা লিখেছেন তারেক রহমান শেখ সেলিম পরিবারসংশ্লিষ্ট ৩ জন মন্ত্রী-এমপি কেমন হলো নতুন মন্ত্রিসভা? বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, উপনেতা তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় নতুন মুখের প্রধান্য তারেক রহমান সংসদের নেতা, বিনাশুল্কের গাড়ি ও সরকারি প্লট ‘নেবেন না’ বিএনপির এমপিরা ষড়যন্ত্র ভেস্তে গেল, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথে অংশ নেয়নি বিএনপি শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দুদেশের সম্পর্কে ‘বাধা’ হবে না সিইও-এর পদত্যাগ, ফরেনসিক তদন্ত ও ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠনে চারিটি কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি শপথ অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন ব্রিটিশ আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রা পারিবারিক কারণ দেখিয়ে দেশ ছাড়লেন বিসিবি সভাপতি বুলবুল ভোট–পরবর্তী সহিংসতা: দেশে ‘৭ মৃত্যু, আহত ৩৫০’ মঙ্গলবার এমপিদের কয়টি শপথ? মন্ত্রীদের জন্য প্রস্তুত ৩৭ বাড়ি ওমরাহ শেষে সৌদি আরবের সড়কে প্রাণ গেল ৫ বাংলাদেশির আলহাজ বশির উদ্দিন আহমদ সাহেবের ইন্তেকালে দারুল হাদিস লাতিফিয়ার শোক প্রকাশ মধ্যপ্রাচ্যে আবারও মার্কিন রণতরী: ইরানের সঙ্গে কী ঘটছে? নামাজের সঠিক সময়সূচি নিয়ে পনের বছরের গবেষণার ফল প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর হিসেবে তারেক রহমান কোথায় থাকবেন? বিএনপি’র মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন কারা? এমপি ও মন্ত্রিসভার শপথ মঙ্গলবার, প্রতিবাদ কর্মসূচি দিল জামায়াত জোট দেশ ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন তারেক রহমান ৩ দিনের মধ্যে এমপিদের শপথ, পড়াবেন সিইসি সংসদ নির্বাচন ২০২৬ : নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তালিকা ভোটের ফলাফল ‘পাল্টে দেওয়ার’ অভিযোগ ১১ দলীয় ঐক্যের আলোচিত মুখ মান্না, আমজনতার তারেকসহ জামানত হারালেন যারা

প্রসঙ্গ: আল মাহমুদ

প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৭:২৮ পিএম

প্রসঙ্গ: আল মাহমুদ
যখন কবিতা পড়তে শুরু করি, সেই নব্বইয়ের শুরুর দিকে, তখন অনেক কবিই আমাদের মুগ্ধ করে রাখতেন, কবিতা কী জিনিস সেটি আমরা তাদের কাব্যপাঠের মধ্য দিয়েই বুঝতে শিখেছি। এরা মূলধরার কবি। এর বাইরে ছিল প্রথাবিরোধী ছোট কাগজের কবিরা। তাদের কবিতাও বেশ টানত। এটা তো অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই মূলধারার এই কবিদের মধ্যে আল মাহমুদও ছিলেন। তাঁর সোনালী কাবিন, কালের কলস, লোক লোকান্তর এসব কাব্যগ্রন্থ যৌবনে যখন রাজনৈতিক কর্মী ছিলাম তখনো দিনের পর দিন ঘোরলাগা মুগ্ধতা নিয়েই পাঠ করেছি। খুব সম্ভবত নব্বইয়ের মাঝামাঝি দশক থেকে আল মাহমুদের কিছু গল্পও পড়তে শুরু করি। মূলধারার অনেক কবির রাজনৈতিক কবিতাও আমার বেশ লাগত, সেটা স্লোগান হলেও। হতে পারে সেটা আমার নিজের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে। কারণ, সেই সময়টায় সত্তর, আশির দশকে যারা কবিতার বয়ান তৈরি করেছিলেন, সমাজে-সামাজিক অনুষ্ঠানে-রাজনৈতিক মঞ্চে তাদের কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে, তাঁরা তাদের প্রভাব বজায় রেখে চলেছিলেন। এই সময়ে দেশ-বিদেশের নানা কবির কবিতা পাঠ করে মুগ্ধ হয়েছি। রাজনৈতিক দর্শন জেনেও তাদের কবিতায় মুগ্ধ হতে কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি। মনে হয়েছিল, রাজনৈতিক সত্তা কবির আছে, কবিতারও আছে। কিন্তু কবিতার স্বাদ সেসবকে বিলীন করে তুললেই কবিতা। আল মাহমুদ কি এমন কিছু কবিতা, কাব্যগ্রন্থ সৃষ্টি করেননি। তাহলে তাঁকে পাঠ করে ভুল কিছু করিনি। বরং এটা মনে হয়েছে, এমন একজন কবির মহৎ কবিতার স্বাদ আমি যদি আস্বাদন করতে না পারি, তাহলে বোধহয় পাঠক হিসেবে সেটা আমারই ব্যর্থতা, খামতি। আজ সেই খামতি, ব্যর্থতা কবির চিরবিদায়ের দিনে কী ঘৃণায় দিকে দিকে ঝরে পড়ছে। হায়! এটাই সমাজের বাস্তবতা। গোটা শিল্পই তো বিভাজিত, কবি বিভাজিত, কবিতা বিভাজিত। আল মাহমুদ মানুষ ছিলেন বলে তিনিও বিভাজিত। আর একটা কথা, আল মাহমুদ রাজনৈতিকভাবে প্রগতিশীলদের কাছে অচ্যুত, অস্পৃশ্য প্রায় চার দশক ধরে। কই, তাঁকে কি নিশেষ করতে পেরেছেন? নিজেকে প্রশ্ন করুন। আল মাহমুদ নিজের রাজনৈতিক মত নয়, বিভাজিত অংশ হিসেবে নয়, কবিতার সৃষ্টিশীলতা দিয়েই তিনি টিকে ছিলেন, আছেন, থাকবেন। যারা তাঁকে পড়েছিলেন তাঁরা মুগ্ধ হয়েছেন। বাঙলা সাহিত্য যতদিন থাকবে ততদিন কবিতার পাঠকের কাছে আল মাহমুদের এই মুগ্ধতা থেকে যাবে। শব্দই ব্রহ্ম। শব্দ দিয়ে যে আবেশ, মুগ্ধতা, ঘোর, বাংলাদেশের আনকোড়া যৌনতা আল মাহমুদের কবিতায় তৈরি হয় সেটা স্থান-কাল-পাত্রের উর্ধ্বে। আল মাহমুদের জয় সেখানেই।