যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের প্রতি পশ্চিমা সমর্থন ক্রমেই বাড়ছে। ফ্রান্স ও কানাডার পর এবার যুক্তরাজ্যও ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে।
দেশটির সংবাদমাধ্যম জানায়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরুর আগে রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেবেন।
জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৪৭টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবুও দেশটি এখনও পূর্ণ সদস্যপদ পায়নি। কারণ, নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতাধর যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি।
২০১২ সাল থেকে ফিলিস্তিন জাতিসংঘে পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদায় আছে।
আন্তর্জাতিক আইনে একটি রাষ্ট্র স্বীকৃত হতে হলে ১৯৩৩ সালের মন্টিভিডিও কনভেনশন অনুযায়ী থাকতে হবে—
- স্থায়ী জনসংখ্যা
- নির্দিষ্ট ভূখণ্ড
- কার্যকর সরকার
- আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা
- যেকোনো দেশ মহাসচিবের কাছে আবেদন করে
- নিরাপত্তা পরিষদে তা মূল্যায়ন হয় ও ভোট হয়
- ১৫ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৯টি ভোট প্রয়োজন, তবে ভেটো শক্তিধর ৫ দেশ (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন) এর কেউ আপত্তি করতে পারবে না
- এরপর সাধারণ পরিষদে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পেলে সদস্যপদ নিশ্চিত হয়
- ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র থাকবে
- পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা হবে ফিলিস্তিনের অংশ
- ইসরায়েলি বসতি ইসরায়েলের অধীনে থাকবে
- ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া মানে “ইসরায়েল ধ্বংসের মঞ্চ তৈরি করা” এবং এটি হামাসকে পুরস্কৃত করবে।
- ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস পশ্চিমা দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান।
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “এতে হামাস পুরস্কৃত হবে।”
- ফ্রান্স ও কানাডার ঘোষণার পরও তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন এবং কানাডাকে বাণিজ্যচুক্তি কঠিন হওয়ার হুমকি দেন।
- জাপান যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনুসরণ করে আপাতত স্বীকৃতি দিচ্ছে না।
- জার্মানি বলছে, তারা দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে, তবে এখনই স্বীকৃতি দেবে না।