প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, বিদেশগামী কর্মীদের উচ্চ অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং তাদের সঙ্গে প্রতারণা বন্ধ করাই হবে তার প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, ‘সবার আগে আমাদের লক্ষ্য থাকবে প্রতারণা বন্ধ করা, অতিরিক্ত খরচ কমানো এবং প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য যথাযথ সুবিধা নিশ্চিত করা।’
নুর আরও বলেন, ‘সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যক্তিদের কারণে অনেক শ্রমিককে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। এটা বন্ধ করতেই হবে।’
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রবল দায়িত্ববোধ অনুভব করছেন জানিয়ে নুর বলেন, এর আগে তিনি রাজপথে নেমে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলেই আমরা জনপ্রিয় হয়েছি। এখন আমরা ক্ষমতায়, বাস্তবে সেই অধিকার কতটা নিশ্চিত করতে পারি, সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ।’
নিজের দায়িত্বে থাকা দুই মন্ত্রণালয়—প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান—উল্লেখ করে নুর বলেন, ‘উভয়ই জটিল খাত এবং সামনে অনেক কাজ আছে।’
ঈদের সময় বেতন পরিশোধে বিলম্ব, দূতাবাসগুলোতে শ্রম কল্যাণ কর্মকর্তার সংকট, বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের নানামুখী ভোগান্তি এবং উচ্চ অভিবাসন ব্যয়ের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতি প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তাই প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষা ও তাদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা শুধু দায়িত্ব নয়, বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।’
নুর জানান, এর আগে শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে কাজ করে তিনি প্রবাসীদের ভোটাধিকার, মৃত কর্মীদের মরদেহ দেশে আনার ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবিতে ভূমিকা রেখেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আগে সেমিনারে কথা বলতাম, প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়াতাম। এখন নীতিনির্ধারণের টেবিলে আছি, তাই এগুলোই আমার অগ্রাধিকার।’
নতুন দায়িত্বে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নুর বলেন, ‘আমরা মাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছি। সবকিছু বুঝে নিতে কিছু সময় দিন। আমাদের সঙ্গে থাকুন, সহযোগিতা করুন, দোয়া করবেন।’
ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিষয়টি স্বীকার করে আত্মবিশ্বাসের কথাও জানান তিনি।
তিনি যোগ করেন, ‘চ্যালেঞ্জ সবসময় থাকবে। ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই আমরা এখানে এসেছি। প্রকৃত সাফল্য আসে বাধা অতিক্রম করেই।’