গত তিন দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্যে ‘অতিদারিদ্র্য’ পরিস্থিতিতে থাকা মানুষের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ ‘অতিদারিদ্র্যের’ মধ্যে জীবনযাপন করছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
গবেষণায় ‘অতিদারিদ্র্য’ বলতে এমন পরিবারকে বোঝানো হয়েছে, যাদের বাসাভাড়া ও আবাসন-সংক্রান্ত ব্যয় বাদ দেওয়ার পর আয় যুক্তরাজ্যের মধ্যম আয়ের ৪০ শতাংশেরও কম। দুটি অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানসহ একটি দম্পতির ক্ষেত্রে এই আয়ের পরিমাণ বছরে আনুমানিক ১৬ হাজার ৪০০ পাউন্ড (প্রায় ২২ হাজার ৪৪৭ মার্কিন ডলার)।
দারিদ্র্য নিরসনে গবেষণা পরিচালনাকারী সংস্থা জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশন (জেআরএফ) জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে মোট দারিদ্র্যের হার ১৯৯৪–৯৫ সালে ছিল ২৪ শতাংশ, যা ২০২৩–২৪ সালে কমে ২১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে একই সময়ে ‘অতিদারিদ্র্যে’ থাকা মানুষের হার ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ বর্তমানে দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা মানুষের প্রায় অর্ধেকই ‘অতিদারিদ্র্যের’ শ্রেণিতে পড়েন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশটিতে শিশুদারিদ্র্যও বাড়ছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪৫ লাখ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। টানা তৃতীয় বছর শিশুদারিদ্র্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন।
ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে কল্যাণসুবিধার ওপর আরোপিত দুই শিশুর সীমা তুলে নেওয়া হয়েছে। পরিবারগুলোর জন্য সুবিধা বাড়িয়ে শিশুদারিদ্র্যের হার কমানোই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। কর্মকর্তাদের হিসাবে, এতে প্রায় ৩১০ কোটি পাউন্ড ব্যয় হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ সরকার কল্যাণসুবিধার ওপর এই সীমা (ক্যাপ) আরোপ করে। এর ফলে স্বল্প আয়ের অনেক পরিবার তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তান থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত কল্যাণসুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।
জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশন কল্যাণসুবিধার ওপর দুই শিশুর সীমা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এটি যেন একমাত্র উদ্যোগে সীমাবদ্ধ না থাকে।
জেআরএফের মতে, শিশুদারিদ্র্য কমাতে সরকার যদি আরও কার্যকর ও কৌশলগত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এ খাতে অগ্রগতি থমকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দারিদ্র্যের নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে শিশুদের ওপর। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে বেশি রয়েছেন।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে বসবাসরত কিছু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে—বিশেষ করে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে—দারিদ্র্যের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
জেআরএফের এই প্রতিবেদনকে দাতব্য সংস্থা বিগ ইস্যুর প্রতিষ্ঠাতা জন বার্ড ‘সমাজের জন্য খারাপ খবর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।