ঢাকা ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ
ইতালিতে দলবদ্ধ হেনস্তায় কঠোর সাজা ও পারমিট বাতিলের বিধান বাঁধনকাণ্ডে জেনেভার প্রসঙ্গ টানলেন আসিফ নজরুল, হামলাকারীদের হুঁশিয়ারি অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলা: নড়েচড়ে বসেছে ভেনিস প্রশাসন ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তা, হামলায় জড়িতদের পরিচয় প্রকাশ সিডনির ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হলেন বাংলাদেশি এলিজা বেনিফিটভুক্ত অভিভাবকদের সন্তানরা আর পাবে না প্রি-স্কুলে অগ্রাধিকার বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে এনসিপি ডায়াস্পোরার স্মারকলিপি ডিসএবিলিটি বেনিফিট কমানোর বিপক্ষে অধিকাংশ ব্রিটিশ, বলছে নতুন জরিপ রাজপ্রাসাদের চিঠিতে ক্ষুব্ধ হ্যারি-মেগান, HRH খেতাব স্থগিতই থাকছে চাপের মুখেও অনড় মিলিব্যান্ড, ইসরাইলি বসতির পণ্যে নিষেধাজ্ঞার পথে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে গরুর মাংস খেয়ে কলকাতায় তোপের মুখে স্বনামধন্য অভিনেতা ইতালিতে বছরে ১০ হাজার বাংলাদেশির বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ অধরাই রয়ে গেল স্বপ্ন, কফিনে ফিরছে ইতালি প্রবাসীর লাশ সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের দুই প্রবাসীর মৃত্যু কুয়েতে নাগরিকত্ব হারানো ব্যক্তিদের জন্য ১০ বছর মেয়াদি আবাসনের নতুন সুযোগ যুক্তরাজ্যকে সেন্সরশিপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্প প্রশাসনের, বিবিসি-আইটিভি ইস্যুতে আপত্তি ভেনিসে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার দাবি ইতালিতে সাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই বাংলাদেশি তরুণের, কমিউনিটিতে শোকের ছায়া একনেকে উঠছে এমআরটি-৫ দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট, ব্যয় ৪৫ হাজার কোটি টাকা ছেলে যুবরাজ শেখ হামদানের ২০ বছর পূর্তিতে আবেগঘন চিঠি লিখলেন বাবা শেখ মোহাম্মদ সৌদি আরবে বাংলাদেশি প্রবাসীদের ই-পাসপোর্টে নতুন নির্দেশনা ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে সময় কমানো, লাইভ মনিটরিং স্ক্রিন স্থাপনের নির্দেশ বিমানমন্ত্রীর সৌদিতে ধরপাকড়ের মধ্যে বৈধতা ধরে রাখতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কী করণীয় আমার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি হবেন শেখ সেলিম: দ্য ওয়ালকে শেখ হাসিনা পাতায়ায় মার্কিন রণতরী ভেড়ার আগে যৌনকর্মী ঠেকাতে পুলিশি অভিযান ফ্রান্সে গ্যাস বিস্ফোরণ, বাংলাদেশি শিশু নিহত কানাডায় নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশি সিনেমা ‘ভায়োলেন্স’ সৌদি আরবে ধরপাকড়: আটক ১৪ হাজারের মধ্যে ১২ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে ফেরত ভিসাহীন বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়া ছাড়তে বললো হাই কমিশন রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ল অ্যামাজনের বিমান: মায়ামিতে প্রাণ গেল ৫ জনের

দেশে দারিদ্র্যের সংখ্যা বেড়েছে

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৫, ০৬:০২ পিএম

দেশে দারিদ্র্যের সংখ্যা বেড়েছে

গত তিন বছরে দেশে দারিদ্র্যের হার কমেনি, বরং বেড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে। একই সময়ে অতি দারিদ্র্যের হারও বেড়ে ৫ দশমিক ৬ থেকে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মিলনায়তনে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) গবেষণা প্রতিবেদন ‘ইকনোমিক ডায়নামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউজহোল্ড লেভেল ইন মিড ২০২৫’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।

পিপিআরসি জানায়, দারিদ্র্য বৃদ্ধির পেছনে মূলত তিনটি সংকট ভূমিকা রেখেছে—কোভিড-১৯ মহামারি (২০২০-২২), বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।

গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের পরিবারের গড় আয় কমলেও খরচ বেড়েছে। বর্তমানে শহরে একটি পরিবারের মাসিক গড় আয় ৪০ হাজার ৫৭৮ টাকা হলেও খরচ ৪৪ হাজার ৯৬১ টাকা। অন্যদিকে গ্রামে আয় কিছুটা বেড়েছে, তবে জাতীয় পর্যায়ে সঞ্চয় প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবারের মাসিক ব্যয়ের প্রায় ৫৫ শতাংশই চলে যাচ্ছে খাদ্যে। চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াত খাতেও উল্লেখযোগ্য ব্যয় হচ্ছে।

আগস্টের পর ঘুষ কমেছে

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের আগস্টের পর ঘুষের পরিমাণ কিছুটা কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আগস্টের আগে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ সেবা নিতে ঘুষ দিতে হয়েছে; আগস্টের পরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশে। সবচেয়ে বেশি ঘুষ দিতে হয়েছে সরকারি অফিসে, এরপর পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে।

হোসেন জিল্লুর রহমানের পর্যবেক্ষণ

গবেষণা ফলাফল উপস্থাপনকালে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারও সঙ্গত কারণে ক্ষুদ্র অর্থনীতির তুলনায় সামষ্টিক অর্থনীতিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে অর্থনীতির পরিকল্পনায় এখন জনমুখী দৃষ্টি রাখা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। শুধু জিডিপি নিয়ে আলোচনা না করে সমতা, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা ও নাগরিক কল্যাণকে আলোচনায় আনতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় পাঁচটি নতুন ঝুঁকি বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন—
১. দীর্ঘস্থায়ী রোগের ক্রমবর্ধমান বোঝা; এর জন্য নতুন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি দরকার।
২. নারীপ্রধান পরিবারগুলো সমাজের সবচেয়ে নিচের স্তরে অবস্থান করছে, এদের জন্য বিশেষ সহায়তা জরুরি।
৩. ঋণের বোঝা বাড়ছে, যা বড় সংকটে রূপ নিচ্ছে।
৪. খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ক্রমে বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক।
৫. এসডিজি অর্জনে স্যানিটেশন সংকট বড় চ্যালেঞ্জ। এখনো প্রায় ৩৬ শতাংশ মানুষ নন-স্যানিটারি টয়লেট ব্যবহার করে।

কর্মসংস্থানে জরুরি অবস্থা

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন,
“আমরা এখন কর্মসংস্থানের জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি। অন্তত ৩৮ শতাংশ মানুষ বলছেন তারা কাজ করছেন, কিন্তু বাস্তবে তারা ছদ্মবেশী বেকার। নারীদের অংশগ্রহণ ২৬ শতাংশে সীমিত। তাই কর্মসংস্থান নিয়ে বড় ধরনের ভাবনা এবং জরুরি পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে—২০২২ সালে করোনাভাইরাস, ২০২৩ সালে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তন। এতে সম্ভাবনার পাশাপাশি অনিশ্চয়তাও তৈরি হয়েছে।

তার মতে, বর্তমানে প্রায় ১৮ শতাংশ পরিবার দারিদ্র্যসীমার ওপরে থাকলেও যেকোনো সময় নিচে নেমে যেতে পারে। এদেরকেও আলোচনায় আনা দরকার।

তিনি বলেন, “টিসিবি থেকে যারা কেনাকাটা করে তাদের ভিজ্যুয়াল ডায়েরি করলে বোঝা যাবে ধীরে ধীরে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ সেখানে আসছে।”

আশার দিকও আছে

সবকিছুতে হতাশার চিত্র না থাকলেও দারিদ্র্য বৃদ্ধির কারণে সমাজে শ্রেণিবৈষম্য এবং আশাবাদ-নৈরাশ্যের বিভাজন বাড়ছে বলে সতর্ক করেন হোসেন জিল্লুর রহমান। দরিদ্র মানুষের মধ্যে নৈরাশ্যের প্রবণতা বেশি, ধনী শ্রেণির মধ্যে তা তুলনামূলকভাবে কম।

তবে তিনি ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন। তার মতে, রেমিট্যান্স, পারিবারিক ভোগের বাজার, ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার এবং জ্বালানির স্মার্ট ব্যবহার অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক। বর্তমানে ৭৪ শতাংশ পরিবার স্মার্টফোন ব্যবহার করছে, আর তরুণ প্রজন্ম থাকলে সেই হার ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে।