বাংলাদেশের সঙ্গে অমীমাংসিত ঐতিহাসিক ইস্যুগুলোর সমাধান একবার নয়, বরং দুইবার হয়েছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
রোববার (২৪ আগস্ট) ঢাকায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি করেন।
গত এপ্রিল মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকেও এসব অমীমাংসিত ইস্যুর সমাধানের জন্য পাকিস্তানকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। তখন ১৯৭১ সালে গণহত্যার দায় স্বীকার করে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা এবং প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওনা পরিশোধের প্রসঙ্গ তোলা হয়েছিল।
সে বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ইসহাক দার বলেন, “এই ইস্যুর সমাধান আসলে দুইবার হয়েছে। একবার ১৯৭৪ সালে, আরেকবার ২০০০-এর শুরুর দিকে, যখন জেনারেল (পারভেজ) মোশাররফ এখানে এসেছিলেন। তিনি পুরো পাকিস্তান জাতির পক্ষ থেকে পুরো বাংলাদেশ জাতিকে উদ্দেশ করে কথাটি বলেছিলেন।”
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, **“অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে আপনার প্রশ্ন… দেখুন, প্রিয় ভাই, ১৯৭৪ সালে এটি লিখিতভাবে সমাধান হয়েছিল। সেই নথি দুই দেশের কাছেই রয়েছে।
“তারপর, যখন জেনারেল মোশাররফ এখানে আসেন, তিনি খোলামেলা এবং অকপটে বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। আর আমি মনে করি, পরিবারের মধ্যে, দুই ভাইয়ের মধ্যে একবার সমাধান হলে, সেটাই সমাধান।”**
১৯৭১ সালে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে ৩০ লাখ মানুষ নিহত এবং ৩ লাখ নারী ধর্ষণের ঘটনায় পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।
অর্ধ শতাব্দী পেরোলেও পাকিস্তান এখনো ৩০ লাখ হত্যার দায় স্বীকার করেনি, রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমাও চায়নি। ২০০২ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ শুধু সাধারণভাবে ‘দুঃখ প্রকাশ’ করেছিলেন।
দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে ইসহাক দার বলেন, “দুই দেশের মানুষের জন্য আরও ভালো কিছু করতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই। এটিই আমাদের ঐকমত্য, এবং আমরা সেটাই করছি।”
তিনি আরও জানান, বৈঠকে বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা—সবকিছু নিয়েই আলোচনা হয়েছে। “আমাদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য ছিল না, যা সত্যিই ভালো দিক।”
এর আগে গত এপ্রিলে ঢাকায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালুচ এবং বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিনের বৈঠকেও অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।
জসীম উদ্দিন তখন বলেছিলেন, আটকেপড়া পাকিস্তানিদের প্রত্যাবাসন, অবিভাজিত সম্পদে বাংলাদেশের ন্যায্য অংশ, ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিদেশি সাহায্যের অর্থ হস্তান্তর এবং ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা—এসব ইস্যু তিনি বৈঠকে তুলেছিলেন।
“আমরা বলেছি, দক্ষিণ এশিয়ায় বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্রুততম সময়ে এই ঐতিহাসিক অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করে একটি মজবুত, কল্যাণমুখী ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য পাকিস্তানের সহযোগিতা দরকার, আর আমরা একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি।”
পাওনা অর্থ প্রসঙ্গে জসীম উদ্দিন বলেন, পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক ডেপুটি চেয়ারম্যানের হিসাবে পাকিস্তানের কাছে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওনা আছে। আরেক হিসাবে এটি ৪.৩২ বিলিয়ন।
“এছাড়া ১৯৭০ সালের নভেম্বরে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংস্থা যে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্য দিয়েছিল, সেটিও আমাদের হিস্যার মধ্যে চাওয়া হয়েছে।”
-
র্যাবের নাম বদলে দিচ্ছে সরকার, নতুন নাম জানালো
-
বিএনপির ‘শাঁখের করাত’ ৯২ বিদ্রোহী প্রার্থী
-
বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে উত্তরা লেডিস ক্লাবে ক্যান্সার সচেতনতা সেমিনার অনুষ্ঠিত
-
বিমানের এমডি স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার, আদালতের নির্দেশে কারাগারে
-
জুলাই গণ–অভ্যুত্থান নিয়ে ৮৩৭টি হত্যা মামলা, ৪৫৩টিতেই শেখ হাসিনা আসামী