
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক পেতে হলে সরাসরি প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইটে গিয়ে গ্রাহক দুটি অপশন দেখতে পাবেন—‘রেসিডেনশিয়াল’ ও ‘রোম’।
‘রেসিডেনশিয়াল’ অপশনের ‘অর্ডার নাউ’–তে ক্লিক করে ব্যবহারকারীকে নিজের অবস্থান নির্বাচন করতে হবে। তবে ‘রোম’, অর্থাৎ ভ্রাম্যমাণ সেবা ব্যবহারের অনুমোদন এখনো সরকার থেকে মেলেনি। স্থান নির্ধারণের পর চেকআউট অপশনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও অর্থপ্রদান সম্পন্ন করে ‘প্লেস অর্ডার’ ক্লিক করতে হবে।
পণ্য অর্ডারের তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে গ্রাহকের ঠিকানায় পৌঁছে যাবে। স্টারলিংক বলছে, এটি সহজে নিজেরা সেটআপ করতে পারবেন গ্রাহকরা।
বাংলাদেশে মঙ্গলবার (২০ মে ২০২৫) থেকে বাণিজ্যিকভাবে সেবা দেওয়া শুরু করেছে স্টারলিংক। এই তথ্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। প্রতিষ্ঠানটি নিজেও ওই দিন এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে।
প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি–বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, স্টারলিংকের সরঞ্জাম সেটআপ করতে এককালীন খরচ পড়বে ৪৭ হাজার টাকা। প্রাথমিকভাবে দুটি প্যাকেজ চালু করেছে স্টারলিংক—‘রেসিডেন্স’ প্যাকেজের মাসিক খরচ ৬ হাজার টাকা, আর ‘রেসিডেন্স লাইট’ প্যাকেজের খরচ ৪ হাজার ২০০ টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একটি ডিভাইস থেকে ২০ থেকে ৫০ মিটার পর্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট পাওয়া যাবে। গ্রামীণ এলাকায় এই পরিসর ৫০ থেকে ৬০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। একজন ব্যবহারকারী নিজে অথবা একাধিক ব্যক্তি মিলে সমিতিভিত্তিকভাবে সংযোগ কিনে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে পারবেন।
উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার জন্য স্টারলিংক জনপ্রিয়। বলা হয়, যেখানে প্রথাগত ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছায় না, সেই দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও স্টারলিংক নিরবিচারে সংযোগ দিতে সক্ষম। এই সেবায় সর্বোচ্চ ৩০০ এমবিপিএস গতিতে সীমাহীন ইন্টারনেট ব্যবহার করা সম্ভব।
দক্ষিণ এশিয়ায়, বাংলাদেশের পাশাপাশি ভুটান ও শ্রীলঙ্কায়ও স্টারলিংক আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এবং বর্তমানে সেদেশের সরকারি দক্ষতা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।