বরিশালের মেয়র প্রার্থী ডাঃ মনীষা চক্রবর্তীর ভোটের দিনের একটা ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়েছিল। সেখানে তিনি সকাল নয়টায় একটা ভোটকেন্দ্রের চিত্র তোলে ধরেছিলেন এবং একে একে ব্যালট পেপারে নৌকার প্রতীকে সীল মারাটা দেখিয়ে দিচ্ছিলেন। একজন প্রিসাইডিং অফিসার তার সামনে অসহায়ের মত দাঁড়িয়েছিলেন আর মনীষা উচ্চারণ করেছিলেন ‘আপনারা শিক্ষিত মানুষ’ সকাল নয়টায় কোন ভোটার নেই, কিচ্ছু নেই অথচ এতো এতো ভোট কিভাবে সিলমারা অবস্থায় এখানে পড়ে আছে।‘ এই সত্যটুকু দেখছিলাম আর মনে হচ্ছিল মনিষা আপনার কপালে শনি ভর করেছে। দিনের শেষ বেলায় দেখেছি তার কপাল ভাল আছে, তবে তাঁর হাতটা ভাল নেই। তাঁর এই হাতটার উপর ব্যান্ডেজ যে বা যারা পরিয়েছেন, তারা হয়ত তাঁর মতো আরেক ডাক্তারই। কেন এটা হয়েছে, তা আমাদের জানা আছে। আমরা কি বলতে পারবো, কারা সেই মানুষগুলো? বলতে গেলে আবারও হাতুড়ি, আবারও সন্ত্রাস।
গত সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ভোটারবিহীন। যুক্তি আছে। বিরোধী দল নির্বাচনে আসে নি, অতএব গনতান্ত্রিক পদ্ধতিকেতো মাঝপথে আটকানো যাবে না। তাই সংবিধানের বিধান মেনে নিয়েছিল দেশের অধিকাংশ মানুষই। যদিও ঢেঁকি গিলেছিলো জনগণ। কিন্তু তিন নগরের সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের যে বার্তাগুলো আমরা পাচ্ছি, তাতে তো এটাই ধরে নেয়া যেতে পারে, আগামীর নির্বাচন নিয়ে শুরু হচ্ছে ধ্রুমজাল। নির্বাচন কমিশন থেকে আগেই বলা হয়েছে, সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হচ্ছে, জাতীয় নির্বাচনের রিহার্সাল। মাত্র দু-তিন দিন আগে তিনটি শহরে যে রিহার্সেল হলো, এতে কি মনে হয় এই কমিশনের অধীনে সুষ্ট নির্বাচন হবে ? আর তাই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন দেখা দিতেই পারে আবারও কি সংবিধান সামনে আসবে আমাদের। সংবিধানের জুজু দেখিয়ে এবার কি আরও অধিক সংখ্যক আসন পাকাপোক্ত হবে নির্বাচনবিহীন।
বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলো সরাসরি নির্বাচনে না আসার কথা বলছে না। তবে বিএনপি যাতে নির্বাচনে না আসে সে রকম পরিবেশ তৈরী করা হচ্ছে। রাজনীতির আকাশ এরকম মেঘাচ্ছন্ন কিংবা আগুনের মত ভয়াবহ থাকলে স্বাভাবিকভাবে অন্যান্য দলগুলোও নির্বাচনে আসবে না। শুধুমাত্র ক্ষমতার আশপাশে থেকে মধু সংগ্রহের জন্যে কিছু নামমাত্র সাইনবোর্ড সর্বস্ব বৈজ্ঞানিক তত্বের রাজনীতিবিদরা এরকম নির্বাচনকেও গনতন্ত্রের অংশ হিসেবে ধরে নিয়ে এতে অংশ নেবেন। এখনও যাদের দায়িত্বই হলো তাদের মন্ত্রণালয়ের কথা না বলে শুধু প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়া কিংবা তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে কথা বলা। কিংবা মাঝে মাঝে জঙ্গী জঙ্গী শব্দ উচ্চারণ করে এদের প্রতিহত করার কথা বলা; কার্যত তারা কিছুই করেন না। এবং সেজন্য এদের সংগে নিয়ে নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে যথা নিয়মেই। সরকার একটা শক্ত অবস্থানে আছে। পুলিশ-র্যাব কিংবা তাদের ছাত্রদের সাংগঠনিক শক্তির কারণেই। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাকে উপেক্ষা করা যেখানে যাবে না, সেখানে নির্বাচন অনেকটা অনিবার্যই হয়ে যাবে। সে হিসেবে এবারের নির্বাচনটা আরও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তবুও নির্বাচনকে আন্দোলনের শক্তি হিসেবেই জনগণের সামনে নিয়ে আসার ধারণা থাকতে পারে কোন রাজনৈতিক দলের। কারণ নির্বাচনী মাঠ অনেকটাই জনগণের সামনে যাবার একটা বিরাট মাধ্যম। সে মাধ্যমকে কাজে লাগাতেই পারে আন্দোলনকামী শক্তি।
সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন আওয়ামী লীগকে প্রায় সবকটা
-
র্যাবের নাম বদলে দিচ্ছে সরকার, নতুন নাম জানালো
-
বিএনপির ‘শাঁখের করাত’ ৯২ বিদ্রোহী প্রার্থী
-
বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে উত্তরা লেডিস ক্লাবে ক্যান্সার সচেতনতা সেমিনার অনুষ্ঠিত
-
বিমানের এমডি স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার, আদালতের নির্দেশে কারাগারে
-
জুলাই গণ–অভ্যুত্থান নিয়ে ৮৩৭টি হত্যা মামলা, ৪৫৩টিতেই শেখ হাসিনা আসামী
