যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ লক্ষাধিক অভিবাসীর জন্য উদ্বেগজনক খবর। আগামী সপ্তাহে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি বিতর্কিত অভিবাসন ও আশ্রয় বিল উত্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। বিলটি কার্যকর হলে আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিদের জোরপূর্বক বহিষ্কার বাড়বে, বয়স যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর হবে এবং মানবাধিকার আইনের আওতায় কিছু আবেদনের সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে। বিলটি নিয়ে ইতোমধ্যে শরণার্থী অধিকার সংগঠন, শিশু অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের উদ্যোগে আনা বিলটি আগামী মঙ্গলবার পার্লামেন্টে উপস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। লেবার পার্টির কিছু সদস্য, লিবারেল ডেমোক্র্যাট এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে বিলটি।
মানবাধিকার সনদে পরিবর্তন
প্রস্তাবিত আইনে ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রয়োগ নতুনভাবে নির্ধারণ করা হবে, যা ব্যক্তির পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনের অধিকার নিশ্চিত করে। সরকারের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে এই অধিকারকে বহিষ্কার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা আইন ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
শিশুদের জন্য ঝুঁকি
বিলে আশ্রয়প্রার্থীদের বয়স নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI) প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিশু অধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারে অনেক শিশুকে ভুলভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে চিহ্নিত করার আশঙ্কা রয়েছে।
রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্র্যান্ট চিলড্রেনস কনসোর্টিয়ামের সহ-সভাপতি অনিতা হারেল বলেছেন, প্রস্তাবিত আইন শিশুদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং আধুনিক দাসত্বের শিকার শিশুদের সুরক্ষা পাওয়ার পথ সংকুচিত করতে পারে।
ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থায় পরিবর্তন ও জোরপূর্বক বহিষ্কার
বর্তমানে বিদ্যমান স্বাধীন আশ্রয় ট্রাইব্যুনাল ব্যবস্থার পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন আপিল সংস্থা গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে যেসব ব্যক্তি সব ধরনের আপিলের সুযোগ শেষ করেছেন, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে জোরপূর্বক বহিষ্কারের বিধানও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
পরিবার বিচ্ছেদের আশঙ্কা
শরণার্থী সহায়তা সংস্থা সেফ প্যাসেজ ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী জো কোবলি বলেছেন, সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কঠোর নীতিমালা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তিনি পরিবার পুনর্মিলনের ওপর সম্ভাব্য বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, যুদ্ধ ও নির্যাতনের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর একত্রিত হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থায়ী বসবাসের মেয়াদ বাড়তে পারে
যদিও এই বিলে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না, তবে অধিকাংশ অভিবাসী কর্মীর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। পরবর্তীতে গৌণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই পরিবর্তন কার্যকর করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিলটি যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ও আশ্রয় নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং শিশু সুরক্ষার প্রশ্নে এটি সংসদ ও নাগরিক সমাজে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
-
রেললাইনের তাপমাত্রা ৬০ ডিগ্রি ছুঁতে পারে, সতর্ক করল যুক্তরাজ্যের নেটওয়ার্ক রেল
-
লন্ডনে ৪০ ডিগ্রি তাপদাহ: কর্মক্ষেত্রে আপনার অধিকার জানুন, সুস্থ থাকুন
-
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন
-
পদত্যাগ করছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী?
-
লন্ডনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা, জবাব দিলেন থানায় হাজির হয়ে