যুক্তরাজ্যজুড়ে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। রাজধানী লন্ডনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে 'রেড এক্সট্রিম হিট ওয়ার্নিং' জারি করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। এই সপ্তাহে মঙ্গলবার তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, আর বুধবার তা ৪০ ডিগ্রিতে পৌঁছাতে পারে, যা হতে পারে জুন মাসের নতুন রেকর্ড। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও ২৭ থেকে ২৯ ডিগ্রির মধ্যে থাকবে।
এই তীব্র গরমের মধ্যে লাখো কর্মজীবী মানুষকে অফিসে যেতে হচ্ছে এবং বাস ও টিউবে চেপে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে লন্ডনের পুরোনো ভবনগুলো, যেগুলোতে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের আধুনিক ব্যবস্থা নেই, সেখানকার কর্মীরা পড়েছেন বাড়তি কষ্টে।
- কর্মক্ষেত্রে তাপমাত্রা নিয়ে কী বলছে আইন?
Workplace (Health, Safety and Welfare) Regulations 1992 অনুযায়ী, নিয়োগকর্তাকে কর্মক্ষেত্রে "যুক্তিসঙ্গত" তাপমাত্রা ও পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। তবে বাস্তবতা হলো, যুক্তরাজ্যের আইনে কর্মক্ষেত্রের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার কোনো সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা নেই।
Approved Code of Practice অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সাধারণ কাজের জন্য ১৬ ডিগ্রি এবং শারীরিক পরিশ্রমের ক্ষেত্রে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়া উচিত। কিন্তু সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নিয়ে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা নেই।
- আপনার অধিকার কী?
Health and Safety Executive (HSE)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রের তাপমাত্রা অস্বস্তিকর মনে হলে কর্মীরা নিয়োগকর্তার কাছে অভিযোগ জানাতে পারবেন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী অভিযোগ করলে নিয়োগকর্তাকে 'রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট' বা ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে হবে এবং তা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া গরমের সময় কর্মীদের জন্য পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও নিয়োগকর্তার দায়িত্ব।
তবে অভিযোগ করলেই যে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি পাওয়া যাবে, তেমন কোনো বাধ্যবাধকতা আইনে নেই।
- সর্বোচ্চ তাপমাত্রার আইন কি আসছে?
২০২৪ সালের জুনে Trades Union Congress (TUC) সরকারকে কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার আইনি সীমা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, তীব্র গরমে কাজ করতে বাধ্য হলে কর্মীরা পানিশূন্যতা, ত্বকের সমস্যা, জ্ঞান হারানো এবং চরম ক্ষেত্রে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। উন্মুক্ত স্থানে কর্মরত শ্রমিকদের ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি তিনগুণ বেশি বলেও সতর্ক করেছে TUC। ।
- প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি পরামর্শ
যুক্তরাজ্যে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় কর্মীরা অনেকেই নির্মাণকাজ, রেস্তোরাঁ বা ডেলিভারির মতো শারীরিক পরিশ্রমের পেশায় নিয়োজিত। তাদের জন্য এই গরম বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন:
নিয়মিত পানি পান করুন।
রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় কাজ এড়িয়ে চলুন।
হালকা ও হালকা রঙের পোশাক পরুন।
অস্বস্তি বোধ হলে নিয়োগকর্তাকে সঙ্গে সঙ্গে জানান।
তথ্যসূত্র: Evening Standard, HSE (Health and Safety Executive), GOV.UK, TUC
-
পদত্যাগ করছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী?
-
লন্ডনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা, জবাব দিলেন থানায় হাজির হয়ে
-
কাগজের বিআরপি কার্ডের মেয়াদ বাড়াল যুক্তরাজ্য, ই-ভিসার নতুন সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর
-
কেয়ার ও স্কিলড ওয়ার্কারদের সুখবর : প্রতি মাসের বেতন প্রতি মাসেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার নতুন নিয়ম
-
ব্রিটেনে হিট হেলথ অ্যালার্ট : পোষা প্রাণী ও বাগানের যত্নে যা মাথায় রাখবেন