সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচার প্রক্রিয়াকে ‘বেআইনি’ ও ‘মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্রিটিশ আইনি প্রতিষ্ঠান কিংসলি ন্যাপলি (Kingsley Napley)। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটি শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে পাঠানো এই চিঠিতে ল ফার্মটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, শেখ হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে (In absentia) মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত ও দণ্ডিত করা হয়েছে। এই বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক আইনের সুষ্ঠু বিচার ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মৌলিক মানদণ্ডের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। চিঠিতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা এই ট্রাইব্যুনালের এক্তিয়ার, গঠন এবং এর কার্যক্রমকে কোনোভাবেই স্বীকৃতি দেন না এবং ভবিষ্যতে এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সব ফোরামে লড়াই করার অধিকার সংরক্ষণ করেন।
বিচারিক স্বাধীনতার অভাব ও রাজনৈতিক পক্ষপাত
চিঠিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে:
অভিজ্ঞতাহীন নিয়োগ: ট্রাইব্যুনালের বর্তমান বেঞ্চটি এমন বিচারকদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে যাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বা জটিল ফৌজদারি মামলা বিচারের কোনো অভিজ্ঞতা নেই।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা: ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার এবং বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর সাথে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ একটি নির্দিষ্ট দলের সাথে সরাসরি যুক্ত বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।
পূর্বনির্ধারিত রায়: বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদের একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে যে, রায় আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তিনি ডিফেন্স আইনজীবীকে বলেছিলেন, “আপনার মক্কেলদের ফাঁসির দড়ি থেকে বাঁচাতে আপনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন”—যা প্রমাণ করে বিচারক সাক্ষ্যপ্রমাণের আগেই অপরাধ নিশ্চিত ধরে নিয়েছিলেন।
প্রসিকিউটর ও পদ্ধতিগত অনিয়ম
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কিংসলি ন্যাপলি বলছে, তাজুল ইসলাম একসময় জামায়াত নেতাদের আইনজীবী ছিলেন এবং বর্তমান বিচার চলাকালেই তিনি রাজনৈতিক সমাবেশে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি তুলেছেন, যা প্রসিকিউটোরিয়াল নিরপেক্ষতার চরম পরিপন্থী। এছাড়া প্রসিকিউশন টিমের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত দুর্নীতি ও ঘুষের গুরুতর অভিযোগও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এক্তিয়ার বহির্ভূত বিচার ও আইনের অপব্যবহার
আইনজীবীরা দাবি করেছেন, ১৯৭৩ সালের আইসিটি অ্যাক্ট ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক অপরাধের বিচারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন অবৈধভাবে এই আইনের পরিধি বাড়িয়ে সাম্প্রতিক ঘটনার বিচার করছে। তারা বলছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনাগুলো সাধারণ ফৌজদারি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত, বিশেষ কোনো ট্রাইব্যুনালের নয়। এছাড়া সংবিধানের ৩৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কাউকে অতীতকাল থেকে কার্যকর কোনো আইনে বিচার করা আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উদ্বেগ
চিঠিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের (IBAHRI) কঠোর সমালোচনা তুলে ধরা হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস কলমার্ড বলেছেন, “এই বিচার ও সাজা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়”। অন্যদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড প্রদান আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তির (ICCPR) সরাসরি লঙ্ঘন।
কিংসলি ন্যাপলির চূড়ান্ত দাবি ও আল্টিমেটাম
- শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় ও সাজা অবিলম্বে আইনিভাবে বাতিল বা Void ঘোষণা করতে হবে।
- মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, কারণ এটি আন্তর্জাতিক আইনে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে গণ্য হবে।
- ভবিষ্যতে কোনো বিচার করতে হলে তা অবশ্যই নিরপেক্ষ ট্রাইব্যুনাল, সঠিক নোটিফিকেশন এবং শেখ হাসিনার পছন্দমতো আইনজীবীর উপস্থিতিতে নিশ্চিত করতে হবে।
- আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত আইনজীবী ও রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
-
আপাসেন-এর জুডিশিয়াল রিভিউ (বিচারিক পুনর্বিবেচনা) আবেদন খারিজ
-
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে উৎসবমুখর আয়োজন
-
কমনওয়েলথ সভায় বাংলাদেশ : রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু তুললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
-
লন্ডনে 'লতা দিয়া ফতা': সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ব্যতিক্রমী সেহরি আয়োজন
-
লন্ডনে হাই কমিশনারকে ‘প্রত্যাহার’ এর খরব দিলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা