ঢাকা ৪ বৈশাখ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা ৪ বৈশাখ ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ
ইসরায়েল ও লেবাননের ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি: ‘ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি’ কী হবে? যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে বাংলাদেশিরা যা করছে : নাস্তিকতার ভান, সমকামী সাজছেন / বিবিসি’র অনুসন্ধান জিয়ার হাতে ধানের শীষ তুলে দেন ভাসানী, তারেক রহমানের বক্তব্য নিয়ে মাঠ গরম করছে কারা? তেল রপ্তানি ছাড়াই দুই মাস কাটিয়ে দিতে পারবে ইরান তুতসি গণহত্যা নিয়ে ইউনেসকোর রাউন্ড টেবিল আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজারের বেশি সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র স্পেনে বাংলাদেশিসহ নথিহীন ৫ লাখ অভিবাসীর বৈধ হওয়ার সুযোগ মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ইরান ছাড়তে পারছে না তেলের ট্যাংকার ইরান যুদ্ধ বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে? সিলেটের মেয়ে কানাডার এমপি হলেন ট্রাভেল পাস নিতে গিয়ে না ফেরার দেশে প্রবাসী অরুণ বিতর্কের মধ্যেও ‘মঙ্গল’ থাকছে—বর্ষবরণের নানা আয়োজনে মেয়র লুৎফুর রহমান ও এসপায়ার পার্টির নির্বাচনী ক্যাম্পেইন উদ্বোধন স্বাধীনতা দিবসে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের 'একাত্তরের গল্প' অনুষ্ঠান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা কেন ব্যর্থ হল? এরপর কী? হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের পাশাপাশি ইরানে আবার হামলার চিন্তা ট্রাম্পের লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব সদস্যের পিতার ইন্তেকালে ক্লাব নেতৃবৃন্দের শোক কুষ্টিয়ায় দরবারে হামলা চালিয়ে পীরকে কুপিয়ে হত্যা, কী হয়েছিল সেখানে? ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ২১ ঘণ্টার আলোচনা ব্যর্থ : খারাপ খবর! ইরানের সঙ্গে চুক্তি হয়নি: ভ্যান্স রোমে সুরঙ্গ খুঁড়ে বাংলাদেশি দোকানে চুরি 'আওয়ামী লীগ বাঁচাতে' শীর্ষ নেতাদের দেশে ফিরতে বলছে তৃণমূল কুয়েতে ইরানের হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার তথ্য গোপন করছে যুক্তরাষ্ট্র? মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমানের বহর পাঠাল পাকিস্তান, কেন? হরমুজ প্রণালি দিয়ে দিনে ১৫ জাহাজ যেতে দেবে ইরান, ট্রাম্পের ক্ষোভ শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, অধ্যাপকসহ ৩০জনেরই সাজা যুদ্ধবিরতির একদিন পরও হরমুজ প্রণালি বন্ধ ২০ বছরে বিএনপির বিরুদ্ধে দেড় লাখ মামলা, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ২০ মাসেই ‘লক্ষাধিক’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনা, কোন পক্ষ কী বলছে বাংলাদেশি ভিসা প্রক্রিয়ায় ১৩ দেশের কড়া বার্তা: দালাল এড়িয়ে চলুন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল ও মেয়র নির্বাচন ৭ মে

রংধনু নদী

প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০১৮, ০৩:০৮ পিএম

রংধনু নদী
রংধনু থাকে আকাশে। তবে আকাশ ছেড়ে রংধনু নদীতে নেমে এসেছে শুনলে অবাক হতে হবে বৈকি। এমন রংধনু দেখতে চাইলে যেতে হবে দক্ষিণ আমেরিকায়। কলম্বিয়া নামের দেশটির যতটা পরিচিতি আমাজান অরণ্যের দেশ হিসেবে, তারচে’ দেশটিকে বেশি চেনা হয় ফার্স গেরিলাদের সাথে সরকারী বাহিনীর রেষারেষির বদৌলতে। তবে প্রকৃতি আর ভ্রমণ প্রেমিকদের কাছে কলম্বিয়াকে চেনার পেছনে আছে আর একটি কারণ। দেশটিতে আছে ক্যানো ক্রিস্টালেজ নামের পৃথিবীর বিস্ময়কর এক নদী। বিশেষত জুলাই থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নদীটিতে নানা রংয়ের দেখা মেলে সবচে’বেশি। আর তাই নানাবিদ রংয়ের আধিক্যের কারণে ক্যানো ক্রিস্টালেজের আরেক নাম রংধনু নদী বা পাঁচ রংয়ের নদী। নদীটিকে আরো আর্কষণীয় করে তোলেছে এর পাথুরে ধাপে ধাপে সৃষ্টি হওয়া ঝর্ণা আর পাহাড় থেকে নদীতে পড়া জলপ্রপাত। তবে এমন বর্ণিল নদীটির পানি কিন্তু নিজে থেকে এমন রঙিন নয়! তাহলে নদীটিতে নানান রংয়ের এমন বাহারের কারণ কি? আসলে ক্যানো ক্রিস্টালেজে যখন পর্যাপ্ত পানি প্রবাহ থাকে এবং এর পানিতে সূর্যের আলো ঠিক মত পড়ে তখন নদীর তলদেশে জন্ম নেয় এক ধরণের মস জাতীয় উদ্ভিদ। এসব মসের নাম ম্যাকারেনিয়া ক্লাভিগেরা। এই বর্ণিল মসগুলি নদীর তলদেশ জুড়ে দারুণ দৃষ্টিনন্দন রুপে ছড়িয়ে থাকে। যার জন্য নদীটির পানি এমন অপরুপ রঙে দেখায়। অন্যদিকে এর কালো রংয়ের পাথুরে তলদেশ, হলুদ বালু, নীলাভ পানিও নদীটিকে নানারংয়ের মিশ্রন এনে দিয়েছে। ম্যাকারেনিয়া ক্লাভিগেরা ভালভাবে জন্ম নিতে হলে এবং উচ্ছল রং ছড়াতে হলে অবশ্যই নদীতে পর্যাপ্ত পানির প্রবাহ থাকতে হবে। পাশাপাশি সূর্য কিরণ ঠিক মত পড়তে হবে। আর সেই জন্যে শুষ্ক মৌসুমে নদীটিকে এমন রুপে দেখা যায় না। তখন একে অন্যান্য সাধারণ নদীর মতই মনে হয়। আর তাই জানুয়ারী থেকে মে মাস পর্যন্ত এখানে পর্যটকদের আনাগোনা বন্ধ রাখা হয়। ক্যানো ক্রিস্টালেজ নদীটি তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ইকোসিস্টেমের মিলনস্থলে অবস্থিত। এর দুইটি আবার পৃথিবীর জীববৈচিত্রের অন্যতম প্রাচীন ও প্রধানতম ইকোসিস্টেম আমাজান রেইন ফরেস্ট ও আন্দিজ পর্বতশ্রেণী। ২০০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত এই নদীটি দেখতে যাওয়ার মত সাহসী পর্যটকদের সংখ্যা খুব একটা ছিল না। কারণ এই নদী তীরবর্তি পাহাড় আর বন-জঙ্গলে ঢাকা উপত্যকাটি ছিল বিদ্রোহী গেরিলাদের দখলে। তবে পরবর্তীতে সরকারি বাহিনী এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর অবস্থা পাল্টে যায়। তবে নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ যাতে অবাধ পর্যটনের নামে কোনরুপ রং না হারায় বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে কতৃপক্ষ অত্যন্ত সচেতন। এখানে এলকোহল সেবন, সানস্ক্রিন বা কীটনাশক ব্যবহার ইত্যাদি পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন অনেক কিছুতেই রয়েছে বিধিনিষেধ। এখানে বেড়াতে হলে পর্যটকদের দল অনধিক সাতজনের হতে হয়। বেড়ানোর জন্য প্রতিদিন সুযোগ পায় সর্বোচ্চ দুইশ’জন পর্যটক। আর সাঁতার কাটার অনুমতি রয়েছে নদীটির খুব সামান্য অংশেই। এতো কিছুর পরও প্রতি বছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক শুধুমাত্র এই রংধনু নদী ক্যানো ক্রিস্টালেজ কে দেখার জন্য ডি লা ম্যাকারেনা তে পাড়ি জমায়। লেখক : ভ্রমণ ও প্রকৃতি বিষয়ক লেখক এবং ব্যাংক কর্মকর্তা।