একদিনের ব্যবধানে, বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনের আগেই রাজধানী পুরোপুরি যেন থমকে গেছে। সরকারের নির্দেশে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ, আর ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ছুটি উপভোগ করতে রাজধানী ছেড়ে গেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সড়কগুলোতে গণপরিবহন মিলছে না, সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও অদ্ভুতভাবে কম।
সরাসরি ঘুরে দেখা যায়, শ্যামলী, শিশুমেলা, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, জাহাঙ্গীরগেট, মহাখালী, গুলশান ও বাড্ডা এলাকায় সকাল থেকেই প্রধান সড়কগুলো প্রায় জনশূন্য। যেখানে সাধারণত ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকতো, গাড়ির হর্ন এবং মানুষের কোলাহল থাকতো, আজ সেই সব জায়গা নীরব এবং শান্ত। হঠাৎ দু-একটি ব্যক্তিগত গাড়ি বা গণপরিবহন দেখা গেলেও তা খুবই কম। বাস পয়েন্টে দীর্ঘসময় ধরে যাত্রী দাঁড়িয়ে থাকে, আর চালকের সহকারীরা তাঁদের জন্য হাঁকডাক করতে দেখা যায়। ট্রাফিক পুলিশও অলসভাবে দাঁড়িয়ে আছে, কারণ কোথাও গাড়ির চাপ নেই। দোকানপাট এবং ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ বা ক্রেতাশূন্য। সব মিলিয়ে রাজধানীতে বিরাজ করছে এক ধরনের অদ্ভুত নীরবতা।
এই সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেশের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। অফিস ও প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ১১ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার দিন টানা ছুটি উপভোগ করবেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলবে ১১ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, যাতে ভোট ও শ্রী শ্রী শিবরাত্রি ব্রত উভয় উপলক্ষের ছুটি মিলিয়ে যায়। এর আগে, ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
সরকারের নির্বাহী আদেশ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই ছুটির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য ছিল ভোটাধিকার প্রয়োগকে সহজ করা এবং ভোটারদের সুবিধার্থে নির্বাচনের দিন দেশে সকলেই তাদের ভোট দিতে সক্ষম হোক। নির্বাচনের দিন ঠিক করা হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগের এই দিনগুলোতে রাজধানী যেন এক অন্য রূপে দেখা দিয়েছে – মানুষ কম, গাড়ি কম, দোকানপাট বন্ধ, আর চারপাশে বিরাজ করছে এক অদ্ভুত নীরবতা।