নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া–আটপাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খায়রুল কবির নিয়োগীর সামনে বিএনপির সমর্থকদের গলা কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ধারণ করা হয় গত মঙ্গলবার নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বঙ্গবাজারে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে। সেখানে জামায়াত প্রার্থীর ভাতিজা জাকারিয়া নিয়োগী এই হুমকি দেন।
অভিযুক্ত জাকারিয়া নিয়োগী জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য। তিনি এ আসনের প্রার্থী খায়রুল কবির নিয়োগীর চাচাতো ভাই রায়হান নিয়োগীর ছেলে।
জাকারিয়া নিয়োগী কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তাঁর গ্রামের বাড়ি কেন্দুয়া উপজেলার কলসহাটি গ্রামে।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোজার সময় কলসহাটি গ্রামের একটি রাস্তা নিয়ে বিএনপির সমর্থকদের সঙ্গে জাকারিয়া নিয়োগীর কথা–কাটাকাটি হয়। সেই ঘটনার জেরে গত সোমবার ইজিবাইকের ভাড়া নিয়ে জাকারিয়ার কয়েকজন অনুসারীর সঙ্গে বিএনপির সমর্থকদের আবারও কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জাকারিয়ার লোকজন মারধরের শিকার হন। এর প্রতিবাদে পরদিন মঙ্গলবার স্থানীয় বঙ্গবাজারে জামায়াতের প্রার্থী একটি প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন।
ওই সমাবেশে প্রায় ১০ মিনিট বক্তব্য দেন জাকারিয়া নিয়োগী। তাঁর বক্তব্যের ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে জাকারিয়া নিয়োগীকে বলতে শোনা যায়, ‘...খুঁজে বের করতে হবে, আর আপনারা আজ থেকেই চিন্তা করেন, ভবিষ্যতে যদি একটা কণ্ঠ উচ্চারিত হয়, গলা কাইট্টা ফেলা হবে। আমার চাচার দিকে আঙুল তুললে আঙুল ভেঙে দেওয়া হবে...।’
এ বিষয়ে জাকারিয়া নিয়োগী বলেন, ‘আমাকেসহ আমার আত্মীয়স্বজন ও লোকজনদের ওপর বিএনপির প্রার্থীর লোকজন বিভিন্ন সময় নির্যাতন চালিয়েছে। তাই আমি প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছিলাম। আমার বক্তব্যের খণ্ড অংশ প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে আমার অশোভন কথাগুলো শোনা যাচ্ছে। তবে যা–ই হোক, এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া আমার ঠিক হয়নি। আমি আমার রাগকে সংযত করতে পারিনি। সে জন্য আমি সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। এ ছাড়া আজ সকালে যখন আমি গুরুদয়াল কলেজে ক্লাস নিতে যাই, তখন ছাত্রদলের ছেলেরা আমাকে হুমকি-ধমকি দেয়। সে জন্য আমিও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
জামায়াতের প্রার্থী খায়রুল কবির নিয়োগী বলেন, ‘জাকারিয়া আবেগের বশবর্তী হয়ে এই মন্তব্য করেছেন। তাঁর এমন মন্তব্য করা ঠিক হয়নি। সে দলের কেউ নয়। তাঁকে শাসিয়েছি। এ জন্য আমি বিভিন্ন জায়গায় দুঃখ প্রকাশ করেছি।’
বিএনপির প্রার্থী এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী মুঠোফোনে বলেন, ‘হুমকির বিষয়টি নিয়ে আমি ও আমার সমর্থকেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। জামায়াতের প্রার্থীর ভাতিজা এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন না। এ ব্যাপারে আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আজ লিখিত অভিযোগ দেব।’
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তাঁদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য থানা-পুলিশকে বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-
রামিসা ধর্ষণ-হত্যার ১৯ দিনের মাথায় সোহেল-স্বপ্না দম্পতির ফাঁসির রায়
-
হামে প্রতিদিন গড়ে ৭ শিশুর প্রাণহানি : রাজশাহী থেকে যেভাবে দেশজুড়ে ছড়াল
-
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিয়ম : গ্রিন কার্ড পেতে বিদেশিদের দেশে ফিরতে হবে
-
হামে শিশু মৃত্যু বাড়ছেই: টিকার ঘাটতি নিয়ে ইউনিসেফের ৫ চিঠিতেও সতর্ক হয়নি ইউনূস সরকার
-
শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকার : গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে দেশে ফিরব