ঢাকা ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
ঢাকা ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
সর্বশেষ
নিউইয়র্কে ইন্তেকাল করেছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামাল আহমদ রোমে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বৈশাখী উৎসব সাংবাদিক ফয়সল মাহমুদের মায়ের ইন্তেকাল, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব পরিবারের শোক ফ্লুসি ডিক্রি জটিলতা নিরসনে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক ইতালি পাঠানোর নামে মাদারীপুরে সক্রিয় মানবপাচার চক্র: বন্দিশালায় রাকিবসহ নিখোঁজ অনেকে নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর স্টারমারের পাশে গর্ডন ব্রাউন ও হ্যারিয়েট হারম্যান পশ্চিমবঙ্গের শুভেন্দু অধিকারী: নন্দীগ্রামের ‘জায়ান্ট কিলার’ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশি-ব্রিটিশ ফরহাদ হোসেন ইতিহাস গড়লেন, লেবারের মনোনয়নে নিউহ্যামের প্রথম বাংলাদেশি মেয়র ইতিহাস গড়লেন লুৎফুর, চতুর্থবার টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা, কী বললেন ট্রাম্প? ধর্মীয় ব্যাখ্যার নামে উগ্রবাদ প্রচার, বাড়ছে উদ্বেগ: জঙ্গিদের অস্তিত্বও স্বীকার করল সরকার মমতা আর মুখ্যমন্ত্রী নন, বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল যুক্তরাজ্যে ঈদের ছুটির দাবিতে হোয়াইটচ্যাপেলে দিনব্যাপী ক্যাম্পেইন, ১১ মে আলতাব আলী পার্কে সমাবেশ কলকাতায় মাংসের দোকানে বুলডোজার চালালো বিজেপি সমর্থকরা ১১ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা : নেত্রকোণার সেই মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের মোদী সুনামিতে ভেঙে পড়ল মমতার শক্ত রাজনৈতিক দুর্গ, নেপথ্যে পাঁচ কারণ ঢাকা বার নির্বাচনে ২০ হাজারের মধ্যে পড়ল ৭ হাজার ভোট, জামায়াত-এনসিপি’র ভরাডুবি পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল হঠিয়ে আসছে বিজেপি? প্রাথমিক গণনায় এগিয়ে ঢাকা-সিলেট ‘সড়ক ও রেল’ যোগাযোগ উন্নত করা হচ্ছে : জানালেন প্রধানমন্ত্রী লিমনের পর বৃষ্টির মরদেহ যেভাবে শনাক্ত করল ফ্লোরিডা পুলিশ ইরানের নতুন ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাব, গ্রহণে ‘সন্দিহান’ ট্রাম্প ‘যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে’ ইরান যুদ্ধ শেষ—জানালেন ট্রাম্প, ইরানের জন্য স্থলপথ খুলে দিল পাকিস্তান ইতালিতে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, পরিবারকে ভিডিও কলে দেখালেন মরদেহ হামে প্রতিদিন মরছে মানুষ : ইউনিসেফের সতর্কতা উপেক্ষা করে টিকা কেনার পদ্ধতি পাল্টায় ইউনূস সরকার: সায়েন্সের প্রতিবেদন সিলেটের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭৫০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প ,শনিবার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী বিএনপি সরকার কি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে পারবে? নিউ ইয়র্কে মসজিদে মেয়ে শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে বাংলাদেশি ইমাম গ্রেপ্তার ইরানে আবার হামলা শুরু হতে পারে, ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা সরানোর আভাস ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য বিএনপির ৪১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন

যুদ্ধাপরাধের বিচারকে ইসলামবিদ্বেষী বলা ‘ভয়ংকর মিথ্যাচার’: আনু মুহাম্মদ

প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৫, ০৯:৩৬ পিএম

যুদ্ধাপরাধের বিচারকে ইসলামবিদ্বেষী বলা ‘ভয়ংকর মিথ্যাচার’: আনু মুহাম্মদ

যুদ্ধাপরাধের বিচারকে ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে চিত্রিত করাটা ‘ভয়ংকর মিথ্যাচার’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ও গবেষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

তিনি বলেছেন, “এটা ভয়ংকর মিথ্যাচার। ১৯৭১ সালে শহীদ হওয়া মানুষের অধিকাংশই ছিলেন ধার্মিক মুসলমান। সুতরাং তাদের হত্যাকারীদের বিচারকে ইসলামবিরোধী বলা মানে ইসলামেরই অবমাননা করা।

“যুদ্ধাপরাধবিরোধী আলাপকে যারা ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে চিত্রিত করেন, তারা ভয়ংকর অপরাধী। যারা ইতিহাস বিকৃত করছে, বৈষম্য–নিপীড়নের রাজনীতি করছে, তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।”

শনিবার (৩১ মে ২০২৫) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘নাগরিক সংহতি সমাবেশে’ এসব কথা বলেন তিনি।

জামায়ত-শিবিরকে উদ্দেশ করে আনু মুহম্মদ বলেন, “তাদের বর্তমান তরুণ কর্মীদের অনেকেই একাত্তর সালে জন্মাননি। তারা যুদ্ধাপরাধ করেননি ঠিকই, কিন্তু তারা যদি সেই রাজনীতি ধারণ করেন, তবে সেই অপরাধের দায় থেকে তারাও মুক্ত থাকতে পারেন না।

“যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি যত দিন থাকবে, তত দিন গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে লড়াই চলবে। আর সেই লড়াই হবে বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশের পথচলার ভিত্তি।”

এ টি এম আজহারের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে আনু মুহাম্মদ বলেন, “তিনি ১৯৭১ সালে একটি যুদ্ধাপরাধী সংগঠনের নেতা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, তা দলিল-প্রমাণসহ ছিল। আদালত যদি কোনো ত্রুটির কারণে আগের রায় বাতিলও করে, তাহলেও যুদ্ধাপরাধের সত্যতা তো মুছে ফেলা যায় না। যে ব্যক্তি ইতিহাসের বিবেচনায় চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী, তাকে নির্দোষ ঘোষণার মাধ্যমে ইতিহাসকেই বিকৃত হয়েছে। এর মাধ্যমে একাত্তরে শহীদ, নির্যাতিত নারী ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।”

অন্তর্বর্তী সরকারকে নিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, “ধীরে ধীরে বাস্তবতা প্রত্যাশা ভঙ্গের জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। একদিকে সামাজিকভাবে বল প্রয়োগের শক্তি তৈরি হচ্ছে, যারা মিথ্যা, কুৎসা ও ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে নব্য ফ্যাসিবাদকে জানান দিচ্ছে। বিপরীতে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্লিপ্ততা দেখা যাচ্ছে সমাজে নানা বর্গের নিপীড়নের বাস্তবতায়। বিভিন্ন ধরনের বিভাজনের রাজনীতির পুরনো বন্দোবস্ত পুনঃস্থাপিত হচ্ছে।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষক বলেন, “অভ্যুত্থানের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেখানে জনগণ একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সরকারের ভূমিকা নির্লিপ্ত, কোথাও তাদের অস্তিত্ব আছে বলে মনে হয় না। বরং হামলা-নির্যাতনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি বাহিনীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “নারী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক, শিক্ষকসহ যেকোনো স্তরের মানুষ যখন নিজেদের অধিকার আদায়ে কথা বলেন, তখনই তাদের ওপর হামলা হয়। আর যারা হামলা করে, তারা রক্ষা পায়, কারণ সরকারের ভেতরেই তাদের মদদদাতা রয়েছে।

‘যুদ্ধাপরাধী এ টি এম আজহারুল ইসলামকে দায়মুক্তি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের মিছিলে জামায়াত-শিবিরের হামলার প্রতিবাদে’ গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট এ সমাবেশ আয়োজন করে।

সমাবেশে আইনজীবী মানজুর আল মতিন বলেন, “জুলাইয়ের ঐক্য কীভাবে ভাঙছে জামাত-শিবির, তা আজ দেখার বিষয়। জুলাইয়ে ছাত্রলীগের হাতে আহত হয়ে মাথায় পাঁচটি সেলাই নিয়ে বেঁচে যাওয়া শ্রীকান্তের মাথায় শিবিরের হামলায় ছয়টি সেলাই পড়েছে।”

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা রিতু, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা নিত্রা, সাবেক ছাত্রনেতা মতিন সরকার, শ্রমিক নেতা শামীম ইমাম, মানস নন্দী, বাংলাদেশ উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চল, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সভাপতি সায়েদুল হক নিশান, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস চাকমা।