ঢাকা ২২ ফাল্গুন ১৪৩২, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬
ঢাকা ২২ ফাল্গুন ১৪৩২, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ
শমসের নগর ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট ইউকের ইফতার ও দোয়া মাহফিল রাজনগর ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইউকে'র ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশিকে মালয়েশিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে  যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেল এফবিআই ইরানকে সময়ের আগেই ‘ধ্বংস’ করার ঘোষণা ট্রাম্পের, পাল্টা হুংকার স্টেপনি শাহজালাল মসজিদ নির্মাণ কাজ ৮০ ভাগ সম্পন্ন: জরুরি প্রয়োজন £৭০০,০০০ খালেদা জিয়াসহ ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার ঈদুল ফিতরের ছুটি সাত দিন হাউস অব কমন্সে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ : রাজনৈতিক বন্দি ও সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে সরব এমপি ও লর্ডরা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দায়িত্বে মুসলিম নারী ‘ক্যাপ্টেন এল্লা’ ইরানে চারদিনে ৫ হাজারেরও বেশি বোমা ফেলেছে ইসরায়েল, কত মানুষের প্রাণ গেল? বারান্দায় বসেছিলেন প্রতিমন্ত্রী, ভূমি অফিস তখনো খোলেনি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: কার বিরুদ্ধে লড়ছে কে? ইরান যুদ্ধ কোন দিকে যাচ্ছে এখনও স্পষ্ট নয় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ইরানের শাহেদ ড্রোন মার্কিনিদের মধ্যপ্রাচ্য এখনই ছাড়ার নির্দেশ সৌদির মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা, প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি হুঁশিয়ারি নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করে গেছেন ইউনূস, এক বছর পাবেন এসএসএফ নিরাপত্তা ইরানে হামলা চালিয়ে ট্রাম্প মার্কিনীদের সমর্থন হারাচ্ছেন? বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের খবর নিশ্চিত করল কুয়েত ইরানের হামলায় এবার বাহরাইনে এক বাংলাদেশি নিহত খামেনির মৃত্যুতে ইরানে শোকের মাতম : উল্লাস করছে কারা? ইরানের হামলার পরিণতি: আমিরাতে এক বাংলাদেশি নিহত খামেনির অবস্থান কীভাবে চিহ্নিত হয়, হত্যা করল কীভাবে? চাপের মুখে মাথা নত না করা ইরানি নেতা খামেনি, যেভাবে সর্বোচ্চ নেতা হয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, ৪০ দিনের শোক, জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার প্রেসিডেন্টের ইরানের পাল্টা হামলার মুখে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল খুলনায় যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা ডান্ডাবেড়ি পায়ে বাবাকে শেষবারের মতো দেখলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা

রাস পূজায় অংশ নিতে দুবলার চরের পথে তীর্থযাত্রী

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৫:০৯ এএম

রাস পূজায় অংশ নিতে দুবলার চরের পথে তীর্থযাত্রী
সনাতন (হিন্দু) ধর্মের দেবতা নীল কমল ও গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে পূজা দিতে পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোরকোলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে তীর্থযাত্রী ও সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বীরা। দূবলার চর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে পুণ্যস্নানে পাপ মোচনের আশায় প্রতিবছর কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এ রাস পূজাকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী, হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও দেশি-বিদেশী পর্যাটকদের আগমন ঘটে দুবলার আলোকোলে। এসময় পূজার-অর্চনার পাশাপাশি এ উপলক্ষ্যে পাঁচদিন ব্যাপি মেলার আয়োজন করা হয়। আর এ মেলাই মূলত রাস মেলা হিসাবে পরিচিত। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার দুবলার চরে শত বছরের ঐতিহ্যবাহি রাস উৎসব বা মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। শুধুমাত্র সনাতন (হিন্দু) ধমবলম্বীদের রাস পূর্ণিমায় পূজা ও পুণ্যস্নানে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাস পূজা ও সোমবার (৩০ নভেম্বর) সকালে পূন্যস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের রাস পূজা। গেল বছর (২০১৯) সালে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে কারণে রাস পূজা ও পূন্যস্নান উপলক্ষে রাস মেলা বন্ধ ছিলো। বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ জানায়, করোনা স্বাস্থ্য বিধি মেনে শর্ত সাপেক্ষে শুধু সনাতন ধর্মালম্বীদের পূজা ও পূন্যস্নানে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। করোনা সংক্রমণ এরাতে সুন্দরবনে প্রবেশ থেকে শুরু করে সার্বক্ষনিক মাস্ক ব্যবহার করতে হবে ভক্ত বৃন্দের। রাসপূজা গামী সকল জলযানে এবং পূজা স্থলে পর্যাপ্ত পরিমান স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী (হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হ্যান্ডওয়াশ) রাখতে হবে। রাস পূজার জন্য প্রবেশের অনুমতিপ্রাপ্ত সকলকে জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রবেশ নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও আইনশৃংখলায় নিয়োজিত বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা তাদের সঙ্গে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র পরীক্ষা করবেন। কোন ট্রলার বা লঞ্চে ৫০ জনের বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না। এবারের রাস পূজায় আইন শৃংখলা রক্ষার্থে বনরক্ষীদের পাশাপাশি র‌্যাব-৬ খুলনা, কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মোংলা, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটও নিয়োজিত থাকবেন। বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন জানান, এবারের রাস পূজায় প্রবেশের জন্য পাঁচটি রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। রুটগুলো হচ্ছে, বুড়িগোয়ালিনি, কোবাদক থেকে বাটুলা নদী-বল নদী-পাটকোষ্টা খাল হয়ে হংসরাজ নদী অতপর দুবলার চর। কয়রা, কাশিয়াবাদ, খাসিটানা, বজবজা হয়ে আড়–য়া, শিবসা নদী মরজাত হয়ে দুবলার চর। নলিয়ান স্টেশন হয়ে শিবসা-মরজাত নদী হয়ে দুবলার চর। ঢাংমারী-চাঁদপাই স্টেশন-তিনকোনা দ্বীপ হয়ে দুবলার চর। বগী-বলেশ্বর-সুপতি কচিখালী-শেলার চর হয়ে দুবলার চর। উল্লেখ্য, দুবলার চরের ঐতিহাসিক এই রাসমেলার ইতিহাস বেশ পুরনো। প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী, ঠাকুর হরিচাঁদের অনুসারী হরিভজন নামের হিন্দু সাধু এ মেলার প্রচলন করেছিলেন। প্রায় দুই যুগ ধরে তিনি সুন্দরবনে বিভিন্ন গাছের ফলমূল খেয়ে অলৌকিক জীবন-যাপন করতেন। অনেকের আবার বিশ^াস, শ্রীকৃষ্ণ শত বছর আগের কোনো এক পূর্ণিমা রাতে পাপমোচন ও পুণ্যলাভের উদ্দেশ্যে স্বপ্নে গঙ্গাস্নান করেন। সেই থেকে শুরু হয় রাসমেলা। কারও কারও মতে, শারদীয় দূর্গোৎসবের পর পূর্ণিমার রাতে বৃন্দাবনবাসী গোপীদের সঙ্গে রাসনৃত্যে মেতেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। এ উপলক্ষেই দুবলার চরে রাসমেলা হয়ে থাকে। তবে স্থানীয় লোকালয়ে এই মেলা নীল কমল নামে পরিচিত। এ মেলায় সনাতন ধর্মালম্বীরা তাদের দেবতা নীল কমল ও গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে পূজা দেন। আলোরকোল, নারকেল বাড়ীয়া, মাঝের কেল্লা, শেলা ও মেহেরআলীর চর নিয়ে মূলত দুবলার চর। শীত মৌসুমে বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ ধরে জেলেরা এ চর গুলোতে শুটকি প্রক্রিয়ার কাজ করে থাকে। দুবলারচরের যে স্থানে মেলাটি হয়, তার নাম আলোরকোল। এ মেলাকে কেন্দ্র করে অনেকই অস্থায়ী দোকানপাট বসার পাশাপাশি বাউল, কবিগান, কীর্ত্তন, জারি ও গাজিরগানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাস পূর্ণিমায় সারা রাত অনুষ্ঠান দেখার পরে ভোরে প্রথম জোয়ারে সবাই পূর্ণস্নান করতে সমুদ্রের পাড়ে আসেন। এ সময় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূর্ণিমায় সাগরের জোয়ারের নোনাজলে পূন্যস্নানে মধ্যদিয়ে পাপমোচন এবং মনস্কামনা পূর্ণের আশায় মন্ত্র উচ্চারণ করে ফুল, মিষ্টি, ফলমূল ও জীবজন্তু উৎসর্গ করা হয়।