ঢাকা ৯ বৈশাখ ১৪৩৩, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকা ৯ বৈশাখ ১৪৩৩, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ
যুক্তরাজ্যের ‘ইয়াং লিডারস অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন ৪ বাংলাদেশি বিদ্যুৎ ও ডিজেল সংকট, সারা দেশে সেচ পাম্প বন্ধ, কৃষকদের হাহাকার মার্কিন অবরোধ তুলতে পাকিস্তানের উদ্যোগ, আলোচনায় বসার ইঙ্গিত ইরানের বাংলা প্রেসক্লাব বার্মিংহামের নতুন কমিটি: সভাপতি জিয়া, সম্পাদক আতিকুর মৌলভীবাজার ইনসানিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার উদ্বোধন সংরক্ষিত নারী আসন : বিএনপির এমপি হলেন যারা ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের, আলোচনায় বসতে নারাজ তেহরান ইরানের জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র, প্রতিশোধের হুমকি তেহরানের যুক্তরাজ্যে ঈদে ছুটির দাবিতে আলতাব আলী পার্কে সমাবেশ ১১ মে এবার হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা ইরানের আমেরিকার নজর ইরানে, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া যেকোনো মুহূর্তে আবারও যুদ্ধ, দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আগেই চূড়ান্ত রূপরেখা চায় ইরান টাওয়ার হ্যামলেটস নির্বাচন : লেবার মেয়র প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের ২৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা ‘আমরা নারী’ ও ‘ইউনিকো হসপিটালস পিএলসি’-এর মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অবরোধ না তুললে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের বিএনপির কাউন্সিল : দলপ্রধানের পদ ছাড়ছেন তারেক রহমান? ইসরায়েল ও লেবাননের ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি: ‘ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি’ কী হবে? যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে বাংলাদেশিরা যা করছে : নাস্তিকতার ভান, সমকামী সাজছেন / বিবিসি’র অনুসন্ধান জিয়ার হাতে ধানের শীষ তুলে দেন ভাসানী, তারেক রহমানের বক্তব্য নিয়ে মাঠ গরম করছে কারা? তেল রপ্তানি ছাড়াই দুই মাস কাটিয়ে দিতে পারবে ইরান তুতসি গণহত্যা নিয়ে ইউনেসকোর রাউন্ড টেবিল আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজারের বেশি সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র স্পেনে বাংলাদেশিসহ নথিহীন ৫ লাখ অভিবাসীর বৈধ হওয়ার সুযোগ মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ইরান ছাড়তে পারছে না তেলের ট্যাংকার ইরান যুদ্ধ বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে? সিলেটের মেয়ে কানাডার এমপি হলেন ট্রাভেল পাস নিতে গিয়ে না ফেরার দেশে প্রবাসী অরুণ বিতর্কের মধ্যেও ‘মঙ্গল’ থাকছে—বর্ষবরণের নানা আয়োজনে মেয়র লুৎফুর রহমান ও এসপায়ার পার্টির নির্বাচনী ক্যাম্পেইন উদ্বোধন স্বাধীনতা দিবসে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের 'একাত্তরের গল্প' অনুষ্ঠান

সিলেটি ফল ‘ডেফল’

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:৫৬ পিএম

সিলেটি ফল ‘ডেফল’

ডেফল (সিলেটের স্থানীয় নাম, পোশাকী নাম জানা নেই।) খুব জনপ্রিয় ফল হিসেবে সিলেটের সর্বত্র সমাদৃত। বাজারে ভরামৌসুমে ৩০ টাকা থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত কেজিতে বিক্রি হয়। ডেফল একপ্রকার সপুষ্পক বৃক্ষ। এটি ডাম্বেল, ডেমগোলা (চাকমা ভাষায়) এবং আরুয়াক (গারো ভাষায়) নামে পরিচিত। গাছটির আদি নিবাস মালয়েশিয়া। ডেফলের ইংরেজি নাম Yellow mangosteen/False mangosteen, বৈজ্ঞানিক নাম: Garcinia tinctoria/Garcinia xanthochymus, ফ্যামিলি: Clusiaceae।

ডেফল গাছ সাড়ে চার থেকে সাড়ে সাত মিটার লম্বা হয়ে থাকে।  ডেফলের পাতা পুরু, মসৃণ, উজ্জ্বল সবুজ, লম্বাটে বল্লমাকার ও আগা সূঁচালো আর খুব সুন্দর। ২০-২৪ সেমি লম্বা।

বৃষ্টিভেজা পাতায় রোদ পড়লে চিকচিক করে, দেখতে খুব ভালো লাগে। এর ফুল সাদা, ১৯ মিমি ব্যাসবিশিষ্ট। ফুল ফোটে মার্চ থেকে মে মাসে। ফল মাঝারি আকারের আপেলের সমান; ৮-১০ সেমি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। ফলটি মসৃণ, অগ্রভাগ সূঁচালো, এবং কিছুটা বাঁকানো; কাঁচা অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে গাঢ় হলুদ রঙের হয়। শীতকালে ফল পাকতে শুরু করে। এই ফলের শাঁস সুগন্ধযুক্ত ও রসালো। ভেতরে এক বা একাধিক বীজ থাকে। ফলের স্বাদ টক-মিষ্টি। ডেফল গাছ অনেকটা গাব গাছের মতো, ঘন ডালপালা আর নিবিড়সন্নিবিষ্ট পাতায় অন্ধকার করে রাখে তার আশপাশ।

গ্রামের অনেক মানুষ মনে করে যে, ডেফল গাছে ভূত থাকে! সব মিলিয়ে ডেফল বৃক্ষ হিসেবে রূপসী তরুশ্রেণির দলে অনায়াসে নাম লেখাতে পারে। সিলেট ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বনাঞ্চলে ডেফল গাছ দেখা যায়। তবে বর্তমানে এর ব্যাপকতা লোপ পেয়েছে। ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে সহজেই এই গাছ জন্মানো সম্ভব।

 ভিটামিন সি-তে ভরপুর এ ফল স্বাদে টক। সাধারণত ছোট মাছ দিয়ে রান্না করে খাওয়া হয়। ছোট চিংড়ির সাথে ডেফল খুবই মুখরোচক খাবার হিসেবে পরিচিত। ফল টুকরো টুকরো করে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায় (সিলেটিরা বলে 'ফুটি'), আমসত্ত্বের মতো সত্ত্ব করেও রাখা যায় এবং তা বেশ মজাদার, 'ডেফলসত্ত্ব' দিয়েও তরকারি রান্না হয়, চায়ের মতো পানিতে সেদ্ধ দিয়ে সত্ত্বের নির্যাস পান করা হয় এবং তা সর্দি-কাশি উপসমে ভালো অবদান রাখে।

 ডেফল গাছে পার্পল-ম্যাঙ্গোস্টিনের (Garcinia mangostana) কলম দেয়া যায়। এভাবে একই গাছে ডেফল ও ম্যাঙ্গোস্টিন উভয় ফল উৎপাদন করা যায়। শুকনো ডেফল ফলের নির্যাসকে gamboge বলা হয় যা থেকে জলরং বানানো হয়। ডেফলের ভেষজ গুণও রয়েছে। ডেফল থেকে xanthone নামক রাসায়নিক পদার্থ সংগ্রহ করা হয় যার মধ্যে এন্টিবায়োটিক এবং এন্টি-ম্যালেরিয়াল গুণ আছে বলে ধারনা করা হয়।ভেষজ চিকিৎসায় এর বিবিধ ব্যবহার রয়েছে।

 ডেফলের বীজ থেকে বংশবিস্তার হয়। এ বৃক্ষের প্রধান মূল মাটির অনেক গভীরে যায় বলে তা পানি জমে এমন নিম্নভূমিতে হয় না, টিলামাটিতে ভালো জন্মে। পলিব্যাগে চারা উৎপাদন করা যাবে কিন্তু ঐ চারা বড় হলে ঝড়-তুফানের হাত থেকে বাঁচানো খুবই মুশকিলের ব্যাপার। আর তাই, সরাসরি মাটিতে বীজ রোপনই উত্তম।