ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রবাসীদের দাবিতে সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট বাঁচাতে বিএনপির উদ্যোগ ৬২টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী ৭২ জন  কাকরদিয়া- তেরাদল- আলিপুর এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু জামায়াত আমির বললেন, গালে হাত দিয়ে বসে থাকব না, গর্জে উঠব পাঁচ লাখ অভিবাসীকে বৈধ করবে স্পেন পৃথিবীতে জালিয়াতিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা পুরস্কার ঘোষণা করে কী লাভ হলো? লুটের অস্ত্র অপরাধীদের হাতে, নির্বাচন ঘিরে ‘বাড়তি উদ্বেগ’ পে স্কেল নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সরকারি কর্মচারীরা যুক্তরাজ্যে ‘অতিদারিদ্র্যে’ রেকর্ডসংখ্যক মানুষ, তালিকায় বাংলাদেশিরাও ভোট দিয়ে ফেলেছেন ৪ লাখ প্রবাসী

সংস্কার জনগণের হাতে ছাড়েন না কেন? ইউনূসের জবাব ‘তারা টাকা খেয়ে ভোট দেয়’
চ্যাথাম হাউসের সংলাপ

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ১২:০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫
  • / 374
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে একটি সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দাবি করেছেন, জনগণ ‘টাকা খেয়ে ভোট দিয়ে দেয়’।

বুধবার (১১ জুন ২০২৫) লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সে এক আলোচনায় উপস্থাপিকার প্রশ্নে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

৫৭ মিনিটের এই সাক্ষাৎকারে উপস্থাপিকা ছাড়াও ব্রিটিশ বাঙালি এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও প্রধান উপদেষ্টাকে প্রশ্ন রাখেন। কিন্তু অনেক প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে ইউনূস নিজের মতো করে বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা যখন তার সরকারের তিনটি দায়িত্ব, সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের কথা বলছিলেন। এরপর যখন সংস্কার নিয়ে তার সরকারের নানা পদক্ষেপ তুলে ধরছিলেন, তখন উপস্থাপিকা প্রশ্ন রাখেন, “অনেকে তো বলছে, আপনি কেন ভোটারদের বিশ্বাস করতে পারছেন না। ভোটাররা যে কোনো রাজনৈতিক দলকে আস্থায় নিক। আপনি ও আপনার সহকর্মীদের কমিশনের বদলে জনগণের হাতে ছেড়ে দিচ্ছেন না কেন?”

জবাবে ইউনূস বলেন, “আমি যদি এটা করতে পারতাম! যদি সবাই বুঝত দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা, সংখ্যানুপাতিক ভোটাধিকার কী?

“অনেক জটিল বিষয় আপনি তাদেরকে বলবেন, কিন্তু তারা বলবে, ‘এসব বাদ দিন, আপনি কত টাকা দেবেন, আমি আপনাকে ভোট দেব।”

“বিষয়টা এরকম সরল হয়ে যায় যে, ‘আপনি আমাকে কিছু টাকা দিন, আমি আপনাকে ভোট দিয়ে দেব’।” বাংলাদেশে ভোটারদের নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা।

“এভাবে ভোট করলে তো সব কিছু শেষ হয়ে যায়”, বলে মন্তব্য করে ইউনূস বলেন, “আমরা বলেছি, আমরা এভাবে ভোট করতে চাই না। ভোটাররা এই বিতর্কগুলো দেখছে। প্রতিদিনের পত্রিকায় বিতর্কগুলো আসছে।”

নতুন বাংলাদেশে তিন বিষয়
এর আগে ইউনূস ‘নতুন বাংলাদেশ’কে তিনটি বিষয় দিয়ে সংজ্ঞায়িত করার কথা বলেন।

“এক. সংস্কার, আমরা যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে যেতে চাই না, যেগুলো এই পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। আমরা সব প্রতিষ্ঠানকে সংস্কার করতে চাই। আমরা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে সংস্কার করার জন্য কমিশন গঠন করেছি, যাতে করে তারা গবেষণা করে আমাদেরকে সুপারিশ করে, মৌলিক কী কী পরিবর্তন আনা যায়।

“আমরা বেশ কয়েকটি কমিশন করেছি। তারা তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তাদের সুপারিশগুলো দেশের ব্যাপক রূপান্তর করবে। নির্বাচন, সংসদ, সংবিধান, জনপ্রশাসন, সব কিছু।”

কমিশনের সুপারিশগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ নিয়ে মতৈক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এ নিয়ে আমরা একটি সর্বশেষ কমিশন করেছি, সেটি হলো জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। আপনি এই নামে কোনো কমিশনের কথা শুনেছেন? আমাদের কিন্তু আছে।

“তাদের দায়িত্ব হলো সব রাজনৈতিক দলের কাছে যাওয়া, কোন সুপারিশগুলো তারা গ্রহণ করবে, কোন সুপারিশগুলো সব দল গ্রহণ করবে? বাংলাদেশের সব দল কোনো সুপারিশে একমত হবে, এটি একটি কঠিন বিষয়।”

বিচারকে দ্বিতীয় লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরে ইউনূস বলেন, “যারা বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে এত কিছু করেছে, তাদের হোতাদের বিচার করতে হবে।”

বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে ভয়ংকর কিছু ঘটেছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে মানুষকে প্রতিদিন গুলি করা হয়েছে। আপনার ছেলে আপনার মেয়ে বাইরে গেছে, কখনও ফিরে আসেনি।

“দুই বন্ধু বাইরে গেছে, তারা পরস্পরের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গেছে। ‘আমরা আর ফিরতে নাও পারি, অথবা যে কেউ একজন ফিরতে পারি’।”

প্রতিদিন মানুষ উধাও হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “কেউ জানে না কোথাও উধাও হয়েছে। তাদের জীবনে শেষে কী হয়েছে। এ রকম ভয়ংকর কাহিনির পর কাহিনি উঠে আসছে।

“আমরা বের করতে চাইছে এটা কারা করেছে, কার নির্দেশ ছিল এবং তাদের বিচার করা।”

উপস্থাপিকা প্রশ্ন রাখেন, “আপনি কেন পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের হাতে বিচারের ভার ছেড়ে দিচ্ছেন না? কেন এটা অন্তর্বর্তী সরকারকেই করতে হবে “

ইউনূস বলেন, “আমি তো এই সিদ্ধান্ত নেইনি। আমাদেরকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা সেটা করছি।”

নির্বাচন সরকারের তৃতীয় লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।

ব্রিটেনে আইন পেশায় নিয়োজিত সাইফুল্লাহ খালিদ প্রশ্ন রাখেন, “এপ্রিলের মধ্যে সব রাজনৈতিক সমস্যা কাটিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি এবং একটি অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী?

জবাবে ইউনূস বলেন, “আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

নতুন সরকারে ‘না’
একজন প্রশ্ন রাখেন, “নতুন নির্বাচিত সরকার এলে আপনি সেই সরকারে অংশ হতে চান?”

জবাবে ইউনূস বলেন, “কোনোভাবেই না। আমি মনে করি আমাদের উপদেষ্টা পরিষদের কোনো সদস্যই এটা করতে চাইবেন না। আমাদের দায়িত্ব হলো ট্রানজিশনটার ভালোভাবে ব্যবস্থাপনা করা, আমরা নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দেব, জনগণ যেন খুশি থাকে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই নির্বাচনটা যেন ভালো হয়। যদি নির্বাচনটা ভালো না হয়, এই সমস্যার সমাধান হবে না।“

আসল লক্ষ্য জুলাই সনদ
সরকারের ‘আসল লক্ষ্য’ তুলে ধরে ইউনূস বলেন, “যেসব সুপারিশগুলো সব রাজনৈতিক দল মেনে নেবে, সেগুলো আলাদা একটি আলাদা কাগজে লিপিবদ্ধ করা এবং সেখানে সব দলগুলোর সাক্ষর নেওয়া। আমরা একে জুলাই সনদ বলছি।

“আগামী মাসে জুলাই আসছে। আমরা জনগণের উদ্দেশে এই সনদ দেব এবং তার ভিত্তিতে নির্বাচন হবে।”

জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট কেন নয়?
যুক্তরাজ্যে চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন প্রশ্ন রাখেন জুলাই সনদের গণভোট দেওয়া হবে কি না। তার দাবি, ৯৫ শতাংশ মানুষ এর পক্ষে আছেন।

জবাবে ইউনূস বলেন, “হ্যাঁ, এটা আমিও শুনেছি। তবে এখানে অনেক জটিলতা আছে। গণভোট আসলে অর্থহীন। কারণ, বেশিরভাগ মানুষই বুঝবে না আপনি কী জন্য ভোট দিচ্ছেন। ফলে মানুষ এ নিয়ে হাসাহাসি করবে, যে এর কোনো মানে হয় না।”

যদি সব দল একমত হয়, তাহলে গণভোটের বিষয়টি আসে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় উপস্থাপিকা কিছুটা রসিকতা করে বলেন, গণভোট অনেক দেশে সমস্যার তৈরি করেছে।

সে সময় সবাই হাসতে থাকেন।

‘তারা কখনও এতটা স্বাধীনতা পায়নি’, সংবাদ মাধ্যমের ‘টুঁটি ধরার’ প্রশ্নে ইউনূস
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে বলে দাবি করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

যুক্তরাজ্য সফরে থাকা সরকার প্রধান বুধবার দেশটির থিংকট্যাঙ্ক চ্যাথামস হাউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেন।

চ্যাথাম হাউসের পরিচালক ব্রনওয়েন ম্যাডক্স এই আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টাকে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেন।

একটি প্রশ্ন ছিল, “বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরা হয়েছে বলে অনেকে বলে আসছেন। আপনি কী বলবেন?”

ইউনূস জবাব দেন, “এটা সত্য না। তারা জীবনের কখনও এত স্বাধীনতা পায়নি। তারা যা খুশি বলতে পারে।”

অর্থনীতি শূন্য না, ঋণাত্মক
দেশের অর্থনীতির অবস্থা তুলে ধরতে বলা হলে প্রধান উপদেষ্টা বলেন. “আমরা শূন্যতে না, আমরা ঋণাত্মকে আছি। শূন্য হলেও তো ইতিবাচকভাবে বলা যেত। এখান থেকে শুরু করা যায়।”

কেন ঋণাত্মক, তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের ওপর বিপুল সংখ্যক বিদেশি ঋণের বোঝা তৈরি হয়েছে। আমাদের অনেক মেগা প্রকল্প করা হয়েছে, যাতে করে এগুলো থেকে অনেক টাকা বানানো যায়। এখন অর্থ পরিশোধের সময় এসেছে, কিন্তু আমাদের কোনো অর্থ নেই।”

বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে গেছে বলে দাবি করে ইউনূস বলেন, “আমরা এখানে আছি যে, সম্পদ চলে গেছে, আমাদের ওপর ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।”

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে বলেওও দাবি করেন তিনি। বলেন, “ব্যাংকিং খাত ধসে পড়েছে। …এই ব্যাংক খাত থেকে তাদের সমর্থকদেরকে টাকা দেওয়া হয়েছে, সেটা আর ফেরত দিতে হবে না। আমাদেরকে এটা পুনর্গঠন করতে হচ্ছে।”

সংকটের সময় প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিপুল পরিমাণ রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে জানিয়ে ইউনূস বলেন, “এটা আমাদেরকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। রেমিটেন্স বেড়েই চলেছে। এখন ব্যালেন্স অব পেমেন্ট সিচুয়েশন পুরোপুরি পাল্টে গেছে।”

আইএমএফ নিয়ে প্রশ্নে যে জবাব
উপস্থাপিকা প্রশ্ন রাখেন, “আইএমএফ তো পরের সরকারের অপেক্ষায় থাকতে চাইছে না। তারা চায় আপনারা জনগণের কাছ থেকে আরও বেশি কর আদায় করুন।”

এই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে ইউনূস বলেন, “আমরা সারা বিশ্বের সব দেশ থেকে সর্বাত্মক সমর্থন পেয়েছি। তারা ভাবছে, ‘অবশেষে আমরা একটি সরকার পেয়েছি যার সঙ্গে আমরা কথা বলতে পারি, আমরা কাজ করতে পারি’। তারা বলছে, ‘আপনার কী সহযোগিতা দরকার কেবল আমাদেরকে বলুন, আমরা সহায়তা করতে উৎসাহ নিয়ে অপেক্ষায় আছি’।

“এটা আমাদেরকে মানসিকভাবে উদ্দীপ্ত করেছে যে, আমরা একা নই। যুক্তরাজ্য এই দেশের একটি। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, চীন থেকে শুরু করে প্রতিটি দেশই সমর্থন ও সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে এসেছে।”

“আইএমএফও সহযোগিতা করছে। বিশ্বব্যাংকও সহায়তা করছে” বলে মন্তব্য করে আইএমএফের শর্ত মেনে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়হার বাজারের হাতে ছেড়ে দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি জানান, এই পদক্ষেপ নিতে নানা শঙ্কা কাজ করলেও শেষে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

ভারত ও চীনের সঙ্গে নিয়ে সম্পর্ক কেমন?
উপস্থাপিকার প্রশ্ন ছিল, “আমরা চীন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে আসি। শেখ হাসিনা সরকার ভারতের সঙ্গে অনেকটা সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে। তিনি এখন সেখানে আছেন। এরপর থেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা শীতল। অন্যদিকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এখন উষ্ণ। আপনার পররাষ্ট্র নীতি আসলে কী?”

ইউনূস বলেন, “আমরা সবার কাছে যাচ্ছি। আগেই বলেছি সারা বিশ্বের সব দেশের সরকার আমাদের প্রতি খুবই সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক দেখাচ্ছে। আমরা থ্যাংকফুল। আমরা সম্পর্ক আরও গভীর করতে চাই। আমরা এমন সহযোগিতা চাইছি যা এর আগে কখনও তারা করেনি।”

এরপর তিনি দুর্নীতির কথা তোলেন। বলেন, এটি বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা। এ নিয়ে তিনি বিশ্বনেতাদের সঙ্গেও কথা বলছেন। এ থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছেন।

এই সমস্যা থেকে উত্তরণের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসের কথা তুলে ধরে ইউনূস বলেন, “এটা একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা এখন এটা করতে না পারলে আর কখনও পারব না। আমরা নিজেদের বলেছি, ইতিহাস আমাদের জন্য জানলা খুলে দিয়েছে। আমাদেরকে কাজটা করতে হবে যা কোনো সরকার করতে পারেনি।”

সব সরকারের সমর্থক ও স্বার্থগোষ্ঠী থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের তা নেই বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, “আমাদের তো কারও ভোটের দরকার নেই। আমাদের নৈতিক মনোবল আছে।”

দুর্নীতি নির্মূলে সরকারি সেবা এক ছাতার নিতে আনতে বাংলাদেশ সার্ভিস সেন্টা প্রতিষ্ঠার কথা জানান ইউনূস। বলেন, সেখানে প্রশিক্ষিত তরুণরা সব সরকারি কাজ করে দিচ্ছে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার কী করছে?
বহুজাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেভরনের এক প্রতিনিধি প্রশ্ন রাখেন, “সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আপনার সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে?”

জবাবে ইউনূস বলেন, “আমরা খুবই সক্রিয়। আমরা ইনভেস্টরস সামিট করেছি। শেভরনও এতে অংশ নিয়েছে। আমরা অন্য অনেক আমন্ত্রণ জানিয়েছি, আমরা তাদেরকে এমন সব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।”

বাংলাদেশ বিশ্বের প্রডাকশন হাব হতে চাইছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠী আছে যারা তোমাদের জন্য কাজ করতে প্রস্তুত। আমরা অন্য সব সুযোগ সুবিধা দিতে প্রস্তুত আছে। কেবল প্লাগ অ্যান্ড প্লের মতো তোমরা তোমাদের কারখানা এখানে নিয়ে এসো এবং পণ্য সারা বিশ্বে বিক্রি করো।

“আমরা আরও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমাদের বন্দর সুবিধাকে বিশ্বমানের করে দেব, যাতে করে বাংলাদেশে কোনো পণ্য আনা বা এখান থেকে নিয়ে যেতে কোনো সমস্যা না হয়।”

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে আঞ্চলিক বাজার ধরা যাবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “এখানেও একটি বড় বাজার আছে। নেপালে পণ্য পাঠানো যাবে। নেপালের কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। আপনারা নেপাল, ভুটান, ভারতের সেভেন সিস্টারসে পণ্য পাঠাতে পারবেন।

“এই অঞ্চল নিজেই একটি খুবই একটি সম্ভাবনাময় বাজার।”

আমরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করিনি: যুক্তরাজ্যে ইউনূস
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম গেজেটের মাধ্যমে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হলেও অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দলটিকে ‘নিষিদ্ধ’ করা হয়নি। যুক্তরাজ্যের লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে এক আলোচনায় মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। তবে জনগণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দলটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

সাক্ষাৎকারমূলক আলোচনা পর্ব পরিচালনা করেন চ্যাথাম হাউসের পরিচালক ব্রনওয়েন ম্যাডক্স।

তার এক প্রশ্নের জবাবে ইউনূস বলেন, “রাজপথে তাদের (আওয়ামী লীগ) মিছিল ও অভ্যুত্থানের নেতাদেরসহ হুমকিধামকির কারণে আমরা নিরাপদ বোধ করছি না। সুতরাং দেশের নিরাপত্তা ও দেশের রাজনীতির নিরাপত্তার জন্য জাতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, একটা সময়ের জন্য আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত করা হবে। এটাই যা আমরা করেছি।”

ইউনূস বলেন, “আমরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করিনি। আমরা কিছুই করিনি-অন্তত বিচার না হওয়া পর্যন্ত।”

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল?
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল কি না সেটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তারা যদি তরুণদের এভাবে রাস্তায় হত্যা করতে পারে, মানুষকে গুম করে ফেলে, টাকা চুরি করে-তাহলে কি আপনি এটাকে রাজনৈতিক দল বলবেন? সুতরাং, এটা বিতর্কের বিষয়। কোনো মতামত নয়।”

“এই আলাপটি শুরু হয়েছিল গত ৫ আগস্টেই যখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। সারা দেশের মানুষ উদযাপন করছিল, যে শেষমেশ আমরা মুক্ত। আমরা ৫ আগস্টেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর এর শেষ টেনে দিয়েছিলাম। আমাদের জন্য, এই অধ্যায় শেষ। এখন এটা তাদের ছাড়াই একটা দেশ।”

ইউনূস বলেন, “তবে তাদের জন্য (আওয়ামী লীগ) এটা শেষ হয়নি। তারা অন্য দেশে পালিয়ে থেকে একই কাজ করে যাচ্ছে। লোকজনকে উসকানি দিচ্ছে। রাস্তায় মারামারি করছে। দশ মাস পেরিয়ে গেলেও দলটি কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি।”

সরকারের সেই ঘোষণায় যা ছিল
যদিও এক মাস আগেই দুই দিনের আন্দোলনের পর প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে বৈঠকের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতি ‘আপাতত’ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

১০ মে সাংবাদিকদের সামনে সরকারের সভার সিদ্ধান্ত পড়ে শোনান আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

তিনি বলেন, “উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেসসহ আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।”

দুদিন পরে ১২ মে বিচার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ‘নিষিদ্ধ’ করে গেজেট জারি করে সরকার।

জুলাই সনদ জুলাইয়ে
ম্যাডক্সের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের আগেই ঐক্যমতের ভিত্তিতে আগামী জুলাই মাসে ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা করা হবে বলেও জানান ইউনূস। তিনি সরকারের তিনটি লক্ষ্যের কথাও জানিয়েছেন। এগুলো হলো সংস্কার, হত্যাকাণ্ড ও গুমের বিচার এবং নির্বাচন।

সাক্ষাৎকারগ্রহীতা প্রশ্ন করেন, আওয়ামী লীগের বিচারের দায়িত্ব কেন নির্বাচিত সরকারের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না?

জবাবে ইউনূস বলেন, “আমি এই সিদ্ধান্ত নিইনি। জনগণ এই দায়িত্ব আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে। তারা আমাদের (অন্তর্বতী সরকারকে) তিনটি বিষয়ের দায়িত্ব নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আমরা সেই তিনটি কাজই করছি।”

অন্তবর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ইউনূস বলেন, “এটা সত্য নয়। গণমাধ্যম (বাংলাদেশের) তার সারাজীবনে এতো স্বাধীনতা পায়নি। তারা যা খুশি তাই বলতে পারছে।”

চার দিনের সরকারি সফরে ইউনূস মঙ্গলবার সকালে লন্ডন পৌঁছান।

ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব রুহুল আলম সিদ্দিক জানিয়েছিলেন, মানুষ, প্রকৃতি ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সহাবস্থান এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অধ্যাপক ইউনূসকে ‘কিং চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হচ্ছে।

১২ জুন লন্ডনের সেন্ট জেমস প্যালেসে রাজা চার্লসের হাত থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করবেন ইউনূস।

সফরসূচি অনুযায়ী, ১১ জুন তিনি রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স, চ্যাথাম হাউসে একটি বিশেষ বক্তৃতা দেবেন। এছাড়া কমনওয়েলথ এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)–এর মহাসচিবদের সঙ্গেও তার সৌজন্য সাক্ষাৎ হবে।

১৪ জুন ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টার।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সংস্কার জনগণের হাতে ছাড়েন না কেন? ইউনূসের জবাব ‘তারা টাকা খেয়ে ভোট দেয়’
চ্যাথাম হাউসের সংলাপ

আপডেট সময় : ১২:০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫

যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে একটি সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দাবি করেছেন, জনগণ ‘টাকা খেয়ে ভোট দিয়ে দেয়’।

বুধবার (১১ জুন ২০২৫) লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সে এক আলোচনায় উপস্থাপিকার প্রশ্নে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

৫৭ মিনিটের এই সাক্ষাৎকারে উপস্থাপিকা ছাড়াও ব্রিটিশ বাঙালি এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও প্রধান উপদেষ্টাকে প্রশ্ন রাখেন। কিন্তু অনেক প্রশ্নের সরাসরি জবাব এড়িয়ে ইউনূস নিজের মতো করে বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা যখন তার সরকারের তিনটি দায়িত্ব, সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের কথা বলছিলেন। এরপর যখন সংস্কার নিয়ে তার সরকারের নানা পদক্ষেপ তুলে ধরছিলেন, তখন উপস্থাপিকা প্রশ্ন রাখেন, “অনেকে তো বলছে, আপনি কেন ভোটারদের বিশ্বাস করতে পারছেন না। ভোটাররা যে কোনো রাজনৈতিক দলকে আস্থায় নিক। আপনি ও আপনার সহকর্মীদের কমিশনের বদলে জনগণের হাতে ছেড়ে দিচ্ছেন না কেন?”

জবাবে ইউনূস বলেন, “আমি যদি এটা করতে পারতাম! যদি সবাই বুঝত দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা, সংখ্যানুপাতিক ভোটাধিকার কী?

“অনেক জটিল বিষয় আপনি তাদেরকে বলবেন, কিন্তু তারা বলবে, ‘এসব বাদ দিন, আপনি কত টাকা দেবেন, আমি আপনাকে ভোট দেব।”

“বিষয়টা এরকম সরল হয়ে যায় যে, ‘আপনি আমাকে কিছু টাকা দিন, আমি আপনাকে ভোট দিয়ে দেব’।” বাংলাদেশে ভোটারদের নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা।

“এভাবে ভোট করলে তো সব কিছু শেষ হয়ে যায়”, বলে মন্তব্য করে ইউনূস বলেন, “আমরা বলেছি, আমরা এভাবে ভোট করতে চাই না। ভোটাররা এই বিতর্কগুলো দেখছে। প্রতিদিনের পত্রিকায় বিতর্কগুলো আসছে।”

নতুন বাংলাদেশে তিন বিষয়
এর আগে ইউনূস ‘নতুন বাংলাদেশ’কে তিনটি বিষয় দিয়ে সংজ্ঞায়িত করার কথা বলেন।

“এক. সংস্কার, আমরা যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে যেতে চাই না, যেগুলো এই পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। আমরা সব প্রতিষ্ঠানকে সংস্কার করতে চাই। আমরা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে সংস্কার করার জন্য কমিশন গঠন করেছি, যাতে করে তারা গবেষণা করে আমাদেরকে সুপারিশ করে, মৌলিক কী কী পরিবর্তন আনা যায়।

“আমরা বেশ কয়েকটি কমিশন করেছি। তারা তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তাদের সুপারিশগুলো দেশের ব্যাপক রূপান্তর করবে। নির্বাচন, সংসদ, সংবিধান, জনপ্রশাসন, সব কিছু।”

কমিশনের সুপারিশগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ নিয়ে মতৈক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এ নিয়ে আমরা একটি সর্বশেষ কমিশন করেছি, সেটি হলো জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। আপনি এই নামে কোনো কমিশনের কথা শুনেছেন? আমাদের কিন্তু আছে।

“তাদের দায়িত্ব হলো সব রাজনৈতিক দলের কাছে যাওয়া, কোন সুপারিশগুলো তারা গ্রহণ করবে, কোন সুপারিশগুলো সব দল গ্রহণ করবে? বাংলাদেশের সব দল কোনো সুপারিশে একমত হবে, এটি একটি কঠিন বিষয়।”

বিচারকে দ্বিতীয় লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরে ইউনূস বলেন, “যারা বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে এত কিছু করেছে, তাদের হোতাদের বিচার করতে হবে।”

বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে ভয়ংকর কিছু ঘটেছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে মানুষকে প্রতিদিন গুলি করা হয়েছে। আপনার ছেলে আপনার মেয়ে বাইরে গেছে, কখনও ফিরে আসেনি।

“দুই বন্ধু বাইরে গেছে, তারা পরস্পরের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গেছে। ‘আমরা আর ফিরতে নাও পারি, অথবা যে কেউ একজন ফিরতে পারি’।”

প্রতিদিন মানুষ উধাও হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “কেউ জানে না কোথাও উধাও হয়েছে। তাদের জীবনে শেষে কী হয়েছে। এ রকম ভয়ংকর কাহিনির পর কাহিনি উঠে আসছে।

“আমরা বের করতে চাইছে এটা কারা করেছে, কার নির্দেশ ছিল এবং তাদের বিচার করা।”

উপস্থাপিকা প্রশ্ন রাখেন, “আপনি কেন পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের হাতে বিচারের ভার ছেড়ে দিচ্ছেন না? কেন এটা অন্তর্বর্তী সরকারকেই করতে হবে “

ইউনূস বলেন, “আমি তো এই সিদ্ধান্ত নেইনি। আমাদেরকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা সেটা করছি।”

নির্বাচন সরকারের তৃতীয় লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।

ব্রিটেনে আইন পেশায় নিয়োজিত সাইফুল্লাহ খালিদ প্রশ্ন রাখেন, “এপ্রিলের মধ্যে সব রাজনৈতিক সমস্যা কাটিয়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি এবং একটি অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী?

জবাবে ইউনূস বলেন, “আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

নতুন সরকারে ‘না’
একজন প্রশ্ন রাখেন, “নতুন নির্বাচিত সরকার এলে আপনি সেই সরকারে অংশ হতে চান?”

জবাবে ইউনূস বলেন, “কোনোভাবেই না। আমি মনে করি আমাদের উপদেষ্টা পরিষদের কোনো সদস্যই এটা করতে চাইবেন না। আমাদের দায়িত্ব হলো ট্রানজিশনটার ভালোভাবে ব্যবস্থাপনা করা, আমরা নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দেব, জনগণ যেন খুশি থাকে। আমরা নিশ্চিত করতে চাই নির্বাচনটা যেন ভালো হয়। যদি নির্বাচনটা ভালো না হয়, এই সমস্যার সমাধান হবে না।“

আসল লক্ষ্য জুলাই সনদ
সরকারের ‘আসল লক্ষ্য’ তুলে ধরে ইউনূস বলেন, “যেসব সুপারিশগুলো সব রাজনৈতিক দল মেনে নেবে, সেগুলো আলাদা একটি আলাদা কাগজে লিপিবদ্ধ করা এবং সেখানে সব দলগুলোর সাক্ষর নেওয়া। আমরা একে জুলাই সনদ বলছি।

“আগামী মাসে জুলাই আসছে। আমরা জনগণের উদ্দেশে এই সনদ দেব এবং তার ভিত্তিতে নির্বাচন হবে।”

জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট কেন নয়?
যুক্তরাজ্যে চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন প্রশ্ন রাখেন জুলাই সনদের গণভোট দেওয়া হবে কি না। তার দাবি, ৯৫ শতাংশ মানুষ এর পক্ষে আছেন।

জবাবে ইউনূস বলেন, “হ্যাঁ, এটা আমিও শুনেছি। তবে এখানে অনেক জটিলতা আছে। গণভোট আসলে অর্থহীন। কারণ, বেশিরভাগ মানুষই বুঝবে না আপনি কী জন্য ভোট দিচ্ছেন। ফলে মানুষ এ নিয়ে হাসাহাসি করবে, যে এর কোনো মানে হয় না।”

যদি সব দল একমত হয়, তাহলে গণভোটের বিষয়টি আসে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় উপস্থাপিকা কিছুটা রসিকতা করে বলেন, গণভোট অনেক দেশে সমস্যার তৈরি করেছে।

সে সময় সবাই হাসতে থাকেন।

‘তারা কখনও এতটা স্বাধীনতা পায়নি’, সংবাদ মাধ্যমের ‘টুঁটি ধরার’ প্রশ্নে ইউনূস
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে বলে দাবি করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

যুক্তরাজ্য সফরে থাকা সরকার প্রধান বুধবার দেশটির থিংকট্যাঙ্ক চ্যাথামস হাউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেন।

চ্যাথাম হাউসের পরিচালক ব্রনওয়েন ম্যাডক্স এই আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টাকে নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেন।

একটি প্রশ্ন ছিল, “বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরা হয়েছে বলে অনেকে বলে আসছেন। আপনি কী বলবেন?”

ইউনূস জবাব দেন, “এটা সত্য না। তারা জীবনের কখনও এত স্বাধীনতা পায়নি। তারা যা খুশি বলতে পারে।”

অর্থনীতি শূন্য না, ঋণাত্মক
দেশের অর্থনীতির অবস্থা তুলে ধরতে বলা হলে প্রধান উপদেষ্টা বলেন. “আমরা শূন্যতে না, আমরা ঋণাত্মকে আছি। শূন্য হলেও তো ইতিবাচকভাবে বলা যেত। এখান থেকে শুরু করা যায়।”

কেন ঋণাত্মক, তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের ওপর বিপুল সংখ্যক বিদেশি ঋণের বোঝা তৈরি হয়েছে। আমাদের অনেক মেগা প্রকল্প করা হয়েছে, যাতে করে এগুলো থেকে অনেক টাকা বানানো যায়। এখন অর্থ পরিশোধের সময় এসেছে, কিন্তু আমাদের কোনো অর্থ নেই।”

বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে গেছে বলে দাবি করে ইউনূস বলেন, “আমরা এখানে আছি যে, সম্পদ চলে গেছে, আমাদের ওপর ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।”

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে বলেওও দাবি করেন তিনি। বলেন, “ব্যাংকিং খাত ধসে পড়েছে। …এই ব্যাংক খাত থেকে তাদের সমর্থকদেরকে টাকা দেওয়া হয়েছে, সেটা আর ফেরত দিতে হবে না। আমাদেরকে এটা পুনর্গঠন করতে হচ্ছে।”

সংকটের সময় প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিপুল পরিমাণ রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে জানিয়ে ইউনূস বলেন, “এটা আমাদেরকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। রেমিটেন্স বেড়েই চলেছে। এখন ব্যালেন্স অব পেমেন্ট সিচুয়েশন পুরোপুরি পাল্টে গেছে।”

আইএমএফ নিয়ে প্রশ্নে যে জবাব
উপস্থাপিকা প্রশ্ন রাখেন, “আইএমএফ তো পরের সরকারের অপেক্ষায় থাকতে চাইছে না। তারা চায় আপনারা জনগণের কাছ থেকে আরও বেশি কর আদায় করুন।”

এই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে ইউনূস বলেন, “আমরা সারা বিশ্বের সব দেশ থেকে সর্বাত্মক সমর্থন পেয়েছি। তারা ভাবছে, ‘অবশেষে আমরা একটি সরকার পেয়েছি যার সঙ্গে আমরা কথা বলতে পারি, আমরা কাজ করতে পারি’। তারা বলছে, ‘আপনার কী সহযোগিতা দরকার কেবল আমাদেরকে বলুন, আমরা সহায়তা করতে উৎসাহ নিয়ে অপেক্ষায় আছি’।

“এটা আমাদেরকে মানসিকভাবে উদ্দীপ্ত করেছে যে, আমরা একা নই। যুক্তরাজ্য এই দেশের একটি। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, চীন থেকে শুরু করে প্রতিটি দেশই সমর্থন ও সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে এসেছে।”

“আইএমএফও সহযোগিতা করছে। বিশ্বব্যাংকও সহায়তা করছে” বলে মন্তব্য করে আইএমএফের শর্ত মেনে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়হার বাজারের হাতে ছেড়ে দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি জানান, এই পদক্ষেপ নিতে নানা শঙ্কা কাজ করলেও শেষে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

ভারত ও চীনের সঙ্গে নিয়ে সম্পর্ক কেমন?
উপস্থাপিকার প্রশ্ন ছিল, “আমরা চীন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে আসি। শেখ হাসিনা সরকার ভারতের সঙ্গে অনেকটা সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে। তিনি এখন সেখানে আছেন। এরপর থেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা শীতল। অন্যদিকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এখন উষ্ণ। আপনার পররাষ্ট্র নীতি আসলে কী?”

ইউনূস বলেন, “আমরা সবার কাছে যাচ্ছি। আগেই বলেছি সারা বিশ্বের সব দেশের সরকার আমাদের প্রতি খুবই সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক দেখাচ্ছে। আমরা থ্যাংকফুল। আমরা সম্পর্ক আরও গভীর করতে চাই। আমরা এমন সহযোগিতা চাইছি যা এর আগে কখনও তারা করেনি।”

এরপর তিনি দুর্নীতির কথা তোলেন। বলেন, এটি বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা। এ নিয়ে তিনি বিশ্বনেতাদের সঙ্গেও কথা বলছেন। এ থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছেন।

এই সমস্যা থেকে উত্তরণের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসের কথা তুলে ধরে ইউনূস বলেন, “এটা একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা এখন এটা করতে না পারলে আর কখনও পারব না। আমরা নিজেদের বলেছি, ইতিহাস আমাদের জন্য জানলা খুলে দিয়েছে। আমাদেরকে কাজটা করতে হবে যা কোনো সরকার করতে পারেনি।”

সব সরকারের সমর্থক ও স্বার্থগোষ্ঠী থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের তা নেই বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, “আমাদের তো কারও ভোটের দরকার নেই। আমাদের নৈতিক মনোবল আছে।”

দুর্নীতি নির্মূলে সরকারি সেবা এক ছাতার নিতে আনতে বাংলাদেশ সার্ভিস সেন্টা প্রতিষ্ঠার কথা জানান ইউনূস। বলেন, সেখানে প্রশিক্ষিত তরুণরা সব সরকারি কাজ করে দিচ্ছে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার কী করছে?
বহুজাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেভরনের এক প্রতিনিধি প্রশ্ন রাখেন, “সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আপনার সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে?”

জবাবে ইউনূস বলেন, “আমরা খুবই সক্রিয়। আমরা ইনভেস্টরস সামিট করেছি। শেভরনও এতে অংশ নিয়েছে। আমরা অন্য অনেক আমন্ত্রণ জানিয়েছি, আমরা তাদেরকে এমন সব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।”

বাংলাদেশ বিশ্বের প্রডাকশন হাব হতে চাইছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠী আছে যারা তোমাদের জন্য কাজ করতে প্রস্তুত। আমরা অন্য সব সুযোগ সুবিধা দিতে প্রস্তুত আছে। কেবল প্লাগ অ্যান্ড প্লের মতো তোমরা তোমাদের কারখানা এখানে নিয়ে এসো এবং পণ্য সারা বিশ্বে বিক্রি করো।

“আমরা আরও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমাদের বন্দর সুবিধাকে বিশ্বমানের করে দেব, যাতে করে বাংলাদেশে কোনো পণ্য আনা বা এখান থেকে নিয়ে যেতে কোনো সমস্যা না হয়।”

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে আঞ্চলিক বাজার ধরা যাবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “এখানেও একটি বড় বাজার আছে। নেপালে পণ্য পাঠানো যাবে। নেপালের কোনো সমুদ্রবন্দর নেই। আপনারা নেপাল, ভুটান, ভারতের সেভেন সিস্টারসে পণ্য পাঠাতে পারবেন।

“এই অঞ্চল নিজেই একটি খুবই একটি সম্ভাবনাময় বাজার।”

আমরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করিনি: যুক্তরাজ্যে ইউনূস
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম গেজেটের মাধ্যমে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হলেও অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দলটিকে ‘নিষিদ্ধ’ করা হয়নি। যুক্তরাজ্যের লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে এক আলোচনায় মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। তবে জনগণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দলটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

সাক্ষাৎকারমূলক আলোচনা পর্ব পরিচালনা করেন চ্যাথাম হাউসের পরিচালক ব্রনওয়েন ম্যাডক্স।

তার এক প্রশ্নের জবাবে ইউনূস বলেন, “রাজপথে তাদের (আওয়ামী লীগ) মিছিল ও অভ্যুত্থানের নেতাদেরসহ হুমকিধামকির কারণে আমরা নিরাপদ বোধ করছি না। সুতরাং দেশের নিরাপত্তা ও দেশের রাজনীতির নিরাপত্তার জন্য জাতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, একটা সময়ের জন্য আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত করা হবে। এটাই যা আমরা করেছি।”

ইউনূস বলেন, “আমরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করিনি। আমরা কিছুই করিনি-অন্তত বিচার না হওয়া পর্যন্ত।”

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল?
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল কি না সেটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তারা যদি তরুণদের এভাবে রাস্তায় হত্যা করতে পারে, মানুষকে গুম করে ফেলে, টাকা চুরি করে-তাহলে কি আপনি এটাকে রাজনৈতিক দল বলবেন? সুতরাং, এটা বিতর্কের বিষয়। কোনো মতামত নয়।”

“এই আলাপটি শুরু হয়েছিল গত ৫ আগস্টেই যখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। সারা দেশের মানুষ উদযাপন করছিল, যে শেষমেশ আমরা মুক্ত। আমরা ৫ আগস্টেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর এর শেষ টেনে দিয়েছিলাম। আমাদের জন্য, এই অধ্যায় শেষ। এখন এটা তাদের ছাড়াই একটা দেশ।”

ইউনূস বলেন, “তবে তাদের জন্য (আওয়ামী লীগ) এটা শেষ হয়নি। তারা অন্য দেশে পালিয়ে থেকে একই কাজ করে যাচ্ছে। লোকজনকে উসকানি দিচ্ছে। রাস্তায় মারামারি করছে। দশ মাস পেরিয়ে গেলেও দলটি কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি।”

সরকারের সেই ঘোষণায় যা ছিল
যদিও এক মাস আগেই দুই দিনের আন্দোলনের পর প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে বৈঠকের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতি ‘আপাতত’ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

১০ মে সাংবাদিকদের সামনে সরকারের সভার সিদ্ধান্ত পড়ে শোনান আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

তিনি বলেন, “উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেসসহ আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।”

দুদিন পরে ১২ মে বিচার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ‘নিষিদ্ধ’ করে গেজেট জারি করে সরকার।

জুলাই সনদ জুলাইয়ে
ম্যাডক্সের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের আগেই ঐক্যমতের ভিত্তিতে আগামী জুলাই মাসে ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা করা হবে বলেও জানান ইউনূস। তিনি সরকারের তিনটি লক্ষ্যের কথাও জানিয়েছেন। এগুলো হলো সংস্কার, হত্যাকাণ্ড ও গুমের বিচার এবং নির্বাচন।

সাক্ষাৎকারগ্রহীতা প্রশ্ন করেন, আওয়ামী লীগের বিচারের দায়িত্ব কেন নির্বাচিত সরকারের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না?

জবাবে ইউনূস বলেন, “আমি এই সিদ্ধান্ত নিইনি। জনগণ এই দায়িত্ব আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে। তারা আমাদের (অন্তর্বতী সরকারকে) তিনটি বিষয়ের দায়িত্ব নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আমরা সেই তিনটি কাজই করছি।”

অন্তবর্তী সরকারের সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ইউনূস বলেন, “এটা সত্য নয়। গণমাধ্যম (বাংলাদেশের) তার সারাজীবনে এতো স্বাধীনতা পায়নি। তারা যা খুশি তাই বলতে পারছে।”

চার দিনের সরকারি সফরে ইউনূস মঙ্গলবার সকালে লন্ডন পৌঁছান।

ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব রুহুল আলম সিদ্দিক জানিয়েছিলেন, মানুষ, প্রকৃতি ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সহাবস্থান এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অধ্যাপক ইউনূসকে ‘কিং চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হচ্ছে।

১২ জুন লন্ডনের সেন্ট জেমস প্যালেসে রাজা চার্লসের হাত থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করবেন ইউনূস।

সফরসূচি অনুযায়ী, ১১ জুন তিনি রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স, চ্যাথাম হাউসে একটি বিশেষ বক্তৃতা দেবেন। এছাড়া কমনওয়েলথ এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)–এর মহাসচিবদের সঙ্গেও তার সৌজন্য সাক্ষাৎ হবে।

১৪ জুন ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টার।