ঢাকা ০১:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে—খামেনির হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের এক্সের অ্যাকাউন্ট উদ্ধার, ৪৫ মিনিট সময় নিয়ে কেন সন্দেহ? জামায়াত আমিরের ‘নারী বিদ্বেষী’ পোস্ট ঘিরে উত্তাপ, বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল মুস্তাফিজ শফি দেশ রূপান্তরের সম্পাদকের দায়িত্ব নিলেন  ‘নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করার মধ্য দিয়ে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে’ জামায়াত আমিরের ‘নারীবিদ্বেষী’ পোস্ট: আইডি হ্যাকের দাবি কতটা যৌক্তিক, প্রশ্ন বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী রইল না হাসনাত আবদুল্লাহর, ঋণখেলাপিদের নিয়ে যা বললেন ঢাবিতে ছাত্রদলের মিছিল: ‘এমন হ্যাকার করলো হ্যাক, বেশ্যা ডেকে আইডি ব্যাক’ জামায়াত আমিরের এক্স ‘পোস্ট’ ঘিরে কেন এত আলোচনা টাওয়ার হ্যামলেটসে কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস সার্ভিস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে—খামেনির হুঁশিয়ারি

৫২ বাংলা
  • আপডেট সময় : ১১:০০:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 10

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন হলে তা পুরো অঞ্চলে সংঘাতে রূপ নেবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

আশপাশের এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে এ মন্তব্য করেন তিনি।

আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে খামেনির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, তিনি বলেছেন, “আমেরিকানদের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তবে এবার তা হবে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ।”

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান বর্তমানে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায়’ যুক্ত রয়েছে। এসব আলোচনা থেকে ‘গ্রহণযোগ্য’ ফল আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সিএনএনকে বলেছেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি ‘আত্মবিশ্বাসী’।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে দেশটির বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।

আরাগচি বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত, আলোচনার অংশীদার হিসেবে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের আস্থা হারিয়েছি।”

তবে তিনি জানান, এ অঞ্চলের বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

সামরিক শক্তি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে ওই অঞ্চলে পাঠিয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, জাহাজটি বর্তমানে আরব সাগরে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে খামেনি বলেন, [ট্রাম্প] নিয়মিত বলেন যে তিনি জাহাজ এনেছেন…ইরানি জাতি এসব দেখে ভীত হবে না।”

রোববার হরমুজ প্রণালিতে ইরান দুই দিনব্যাপী নৌ-মহড়া শুরু করতে পারে—এমন ধারণা করা হয়েছিল। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ পরিবাহিত হয়।

তবে রয়টার্স রোববার ইরানের এক কর্মকর্তার বরাতে জানায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর এ ধরনের কোনো মহড়ার পরিকল্পনা নেই।

বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ প্রায় ৩৩ কিলোমিটার। অতীতে ইরান হামলার শিকার হলে এই প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ওই এলাকায় নিজেদের বাহিনীর কাছাকাছি কোনো ধরনের ‘অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ’ থেকে বিরত থাকতে ইরানকে সতর্ক করেছে।

এর জবাবে আরাগচি বলেন, “আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের ভূখণ্ডে কীভাবে মহড়া করবে, তা এখন নির্ধারণ করার চেষ্টা করছে মার্কিন সেনাবাহিনী।”

এদিকে শনিবার ইরানে দুটি বিস্ফোরণের ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে একটি ভবনে গ্যাস লিকজনিত বিস্ফোরণে একজন নিহত ও ১৪ জন আহত হন।

ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় আইআরজিসি নৌবাহিনীর এক কমান্ডারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল—এমন গুঞ্জন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালেও তাসনিম তা অস্বীকার করেছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহবাজে আরেকটি বিস্ফোরণে অন্তত চারজন নিহত হন। তেহরান টাইমস জানিয়েছে, সেখানেও গ্যাস লিককেই দায়ী করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে ইরানকে দুটি শর্ত মানতে হবে।

তিনি বলেন, “প্রথমত, কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়। দ্বিতীয়ত, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করতে হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে অস্থিরতা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬,৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছে। আরও ১৭ হাজার মৃত্যুর খবর যাচাই করা হচ্ছে।

অন্যদিকে নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) সতর্ক করে বলেছে, নিহতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বিক্ষোভকারীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর এমন প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন তারা আগে কখনো দেখেননি।

রোববার দেওয়া বক্তব্যে খামেনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীরা পুলিশ, আইআরজিসি এবং ব্যাংক ও মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, “এই অভ্যুত্থান দমন করা হয়েছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আনোয়ারুল ইসলাম অভি

সম্পাদক; ৫২বাংলাটিভি ডটকম
ট্যাগস :

যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে—খামেনির হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ১১:০০:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন হলে তা পুরো অঞ্চলে সংঘাতে রূপ নেবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

আশপাশের এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে এ মন্তব্য করেন তিনি।

আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে খামেনির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, তিনি বলেছেন, “আমেরিকানদের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তবে এবার তা হবে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ।”

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান বর্তমানে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায়’ যুক্ত রয়েছে। এসব আলোচনা থেকে ‘গ্রহণযোগ্য’ ফল আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সিএনএনকে বলেছেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি ‘আত্মবিশ্বাসী’।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে দেশটির বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।

আরাগচি বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত, আলোচনার অংশীদার হিসেবে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের আস্থা হারিয়েছি।”

তবে তিনি জানান, এ অঞ্চলের বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

সামরিক শক্তি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে ওই অঞ্চলে পাঠিয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, জাহাজটি বর্তমানে আরব সাগরে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে খামেনি বলেন, [ট্রাম্প] নিয়মিত বলেন যে তিনি জাহাজ এনেছেন…ইরানি জাতি এসব দেখে ভীত হবে না।”

রোববার হরমুজ প্রণালিতে ইরান দুই দিনব্যাপী নৌ-মহড়া শুরু করতে পারে—এমন ধারণা করা হয়েছিল। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ পরিবাহিত হয়।

তবে রয়টার্স রোববার ইরানের এক কর্মকর্তার বরাতে জানায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর এ ধরনের কোনো মহড়ার পরিকল্পনা নেই।

বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ প্রায় ৩৩ কিলোমিটার। অতীতে ইরান হামলার শিকার হলে এই প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ওই এলাকায় নিজেদের বাহিনীর কাছাকাছি কোনো ধরনের ‘অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ’ থেকে বিরত থাকতে ইরানকে সতর্ক করেছে।

এর জবাবে আরাগচি বলেন, “আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের ভূখণ্ডে কীভাবে মহড়া করবে, তা এখন নির্ধারণ করার চেষ্টা করছে মার্কিন সেনাবাহিনী।”

এদিকে শনিবার ইরানে দুটি বিস্ফোরণের ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, দক্ষিণের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে একটি ভবনে গ্যাস লিকজনিত বিস্ফোরণে একজন নিহত ও ১৪ জন আহত হন।

ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় আইআরজিসি নৌবাহিনীর এক কমান্ডারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল—এমন গুঞ্জন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালেও তাসনিম তা অস্বীকার করেছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহবাজে আরেকটি বিস্ফোরণে অন্তত চারজন নিহত হন। তেহরান টাইমস জানিয়েছে, সেখানেও গ্যাস লিককেই দায়ী করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে ইরানকে দুটি শর্ত মানতে হবে।

তিনি বলেন, “প্রথমত, কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়। দ্বিতীয়ত, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করতে হবে।”

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে অস্থিরতা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬,৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছে। আরও ১৭ হাজার মৃত্যুর খবর যাচাই করা হচ্ছে।

অন্যদিকে নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) সতর্ক করে বলেছে, নিহতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বিক্ষোভকারীরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর এমন প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন তারা আগে কখনো দেখেননি।

রোববার দেওয়া বক্তব্যে খামেনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীরা পুলিশ, আইআরজিসি এবং ব্যাংক ও মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, “এই অভ্যুত্থান দমন করা হয়েছে।”